ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / ১০ অক্টোবরই চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : নির্বাচন কর্মকর্তা

১০ অক্টোবরই চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে : নির্বাচন কর্মকর্তা

সাইদ হোসেন অপু চৌধুরী : চাঁদপুর পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে রিট করে পৌরসভার দুইজন নাগরিক। তবে তাদের রিটকৃত কাগজপত্রের সঠিক তথ্য ও সত্যতা পাওয়া যায়নি চাঁদপুর নির্বাচন কার্যালয় গিয়ে। যা ছিলো সম্পূর্ণ ভাবে নিজেদের তৈরিকরা ভুয়া আবেদনপত্র।

অনুসন্ধান করে জানা যায়, চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে জাহেদ বেপারী, তাসলিমা, নাছিমা, আসলাম গাজী, আসমা আক্তার ও ইব্রাহিম মিয়াজী নামে একই পন্থায় চাঁদপুর নির্বাচন অফিসে নতুন করে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করেন। আর এই আবেদন পত্রটিতে নির্বাচন অফিসারের স্বাক্ষর ও সীল ঝাল করে হাইকোর্টে রিট করে।

এদিকে চাঁদপুর পৌর ওয়ার্ডে ভোটার হওয়া সত্ত্বেও আরো ৭ জনের নাম উল্লেখ করে নতুন করে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদন করে। এরা হলেন,  পৌর ৯নং ওয়ার্ডের মৃত রঞ্জন আলী বকাউলের ছেলে আব্দুল করিম বকাউল, ১২ নং ওয়ার্ডের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে কে এম শওকত, তার ভাই মো. বিল্লাল হোসেন, ১৫ নং ওয়ার্ডের মৃত মুকবুল সিকদারের ছেলে খলিল সিকদার, ১৫ নং ওয়ার্ডের গিয়াসউদ্দিনের ছেলে মো. সালাউদ্দিন,  ১৫ নং ওয়ার্ডের মৃত মজিব গাজীর ছেলে আব্দুল মান্নান গাজী ও পুরানবাজারের আবুল বেপারীর ছেলে আলা উদ্দিন বেপারী।  যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তার পূর্ব থেকে ভোটার। তারপরও নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে তাদের নাম জড়িয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়।

এছাড়া চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতি ভয়াবহতা উল্লেখ করে ভুয়া নাম ও তথ্য উল্লেখ করা হয়। এ বিষয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে নাম জড়ানো পুরানবাজার এলাকার আলাউদ্দিনের সাথে মুখোমুখি কথা হয়। তিনি জানান, আমি কখনো হাইকোর্টে যাইনি। কে বা কারা আমার নাম উল্লেখ করে ভোটার তালিকার জন্য আবেদন করেছে। আসলে এখানে উল্লেখিত সকল নাম মিথ্যা ভাবে জড়িয়ে হাইকোর্টে রিট করেছে।

এদিকে হাইকোর্টে রিটকারী এই দুই নাগরিক হচ্ছেন চাঁদপুর পৌরসভার বর্তমান মেয়র নাছির উদ্দিন আহমেদের ভাগিনা মাহবুব আলম আখন্দ এবং মেয়রের ব্যক্তিগত কর্মকর্তার ভাই মো. হাসিবুল হাসান। ১৩ সেপ্টেম্বর রোববার হাইকোর্টে বিচারপতি জেবিএম হাসানের কোর্টে এই রিট পিটিশন করা হয়।

নির্বাচন স্থগিত চেয়ে করা রিটের সাথে সাপোর্টিং কাগজ হিসেবে দেয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন বরাবর কয়েকজনের করা আবেদনের কপি। কিন্তু আবেদনকারীদের কয়েকজন অস্বীকার করেছেন তারা আবেদন করেন নি, এমনকি এ সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না। অপরতিকে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে বলে যেসব কাগজ দেয়া হয়েছে, সেগুলোও ভুয়া বলে জেলা নির্বাচন অফিস থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচনে নতুন করে  নির্বাচন কমিশনের আইনানুযায়ী কোন ভোটার অন্তভূক্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আমরা এ জাতীয় কোন আবেদন পাইনি। ভোটার হওয়ার জন্য সুনিদিস্ট নীতিমালা রয়েছে। এভাবে আবেদন করার নিয়ম নেই। আবেদনে নাম ও সীল তরা অবৈধ ভাবে ব্যবহার করেছে।

এ বিষয়ে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ তোফায়েল হোসেন বলেন, চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আমরা নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক সকল কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। আমাদের কাছে নির্বাচন কমিশনের পুরোপুরি নির্দেশনা আছে, আগামী ১০ অক্টোবর যথারীতি নিয়মে চাঁদপুর পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

Facebook Comments

Check Also

তেলে আগুন, স্বস্তি কাঁচা বাজারে!

এস.এম ইকবাল : বাঙালি মানেই খাদ্যরসিক। আর খাবারের প্রতি ভালোবাসা যেখানে, সেখানে বাজারে যাওয়ার প্রতি টান …

Shares
vv