ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / হাজীগঞ্জ মডেল কলেজে সীমাহীন দুর্নীতি ও সনদ বিহীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান
ফাইল ছবি

হাজীগঞ্জ মডেল কলেজে সীমাহীন দুর্নীতি ও সনদ বিহীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান

প্রিয় চাঁদপুর : হাজীগঞ্জ মডেল কলেজ সরকারি করনের পর থেকে পূর্বের মত আর পাঠদান হচ্ছে না এমন অভিযোগ উঠে ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের মধ্যে। বিষয়টি চরম আকার ধারণ করে নতুন অধ্যক্ষ এর যোগদানের পর থেকে। তিনি যোগদানের প্রথম দিন’ই এক নাটকিয় বিষয়ের জন্ম দেন।

এ কলেজ’টির প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটোওয়ারী তাঁকে আন্তরিকতা দিয়ে সম্মানের সহিত বরণ করে নেন, কিন্তু র্দুভাগ্য হলেও সত্য অধ্যক্ষ প্রফেসার মো. আবুল বাসার বরণ করার পর্বটি মেনে নিতে পারেনি বলে পত্র পত্রিকায় সংবাদ পরিবেশেন ও ফেসবুক থেকে ঐ দিনের বরণ অনুষ্ঠানের সকল ছবি মুছে নিতে হিসাব বিজ্ঞানের প্রভাষক রাসেদ গাজীর মাধ্যমে সকলকে বাধ্য করেন। এর পর থেকে অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটোওয়ারী নিজের প্রতিষ্ঠিত মডেল কলেজ হতে কলেজের স্বার্থে নিরব ভূমিকা পালন করে আসছেন। এতে করে শিক্ষকরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভিক্ত হয়ে পরেন।

সরজমিনে জানাযায়, অধ্যক্ষ প্রফেসার মো. আবুল বাসার একক ক্ষমতা বলে প্রায় অর্ধশত অভিজ্ঞ শিক্ষককে বিনা নোটিশে কলেজ হতে চাকুরীচ্যুত করেন এবং তিনটি ভিন্ন ভিন্ন শাখা বিলুপ্ত করে শাখাগুলোর প্রায় ৪’শতাধিক শিক্ষার্থীকে নিয়ে নতুন একটি শাখায় রুপান্তর করেন, যাহা একজন শিক্ষকের পক্ষে পাঠদান এবং পরিচর্যা করা মোটেও সম্ভব নয়।

এ বিষয়ে হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েক জন সিনিয়র শিক্ষক বলেন, অধ্যক্ষ স্যার নিজেকে মাউশির কর্মকর্তা দাবি করে একক ক্ষমতা বলে এসব করছেন এবং সিনিয়র কয়েক জন শিক্ষককে কারনে অকারনে লিখিত নোটিশ করেছেন, যা অতিত অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটোওয়ারী দ্বারা ঘটেনি। এখান থেকেই কলেজটিতে শিক্ষদের মধ্যে সকল গ্রুপিং এর সূত্রপাত বলে শিক্ষকরা নিশ্চিত করেন।

এ ছাড়া তিনি প্রথমে পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে পরীক্ষা হতে আয় এর ২০% পরিক্ষা কমিটির নিকট দাবি করেন, পরীক্ষা কমিটির একজন সদস্য কলেজ থেকে একটা প্রজ্ঞাপন এনে দেখান যাতে ৮% কমিশন নেওয়ার প্রমান মিলেছে। এসব বিষয়ের দ্বন্দ্বের বলি হচ্ছে হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থীরা।

এ বিষয়ে ব্যবসা শিক্ষা শাখার এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, শিক্ষা মন্ত্রী ডা. দীপু মনি যেখানে নোট গাইড ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছেন, সে খানে মন্ত্রীর নির্দেশ উপেক্ষা করে শিক্ষার্থীকে নিম্মমানের নোট-গাইড কিনতে কলেজ কতৃপক্ষ বাধ্য করেছেন। তিনি আরো বলেন লাইব্রিতে গিয়ে বইয়ের গায়ের মূল্য হতে কোন ছাড় না পেয়ে বাকতিক্ততায় জানতে পারেন মোটা অঙ্কের টাকা বিনিময়ে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকের সমন্বয়ে নিষিদ্ধ গাইড বই পাঠ্য করেন ও শিক্ষার্থীদের ক্রয় করতে বাধ্য করেন। যাহা একজন মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয় আর গরীর শিক্ষার্থীদের কথা তো ভাবাই যায় না।

অতি সমপ্রতি সরকার যেখানে সকল প্রকার কোচিং ও নিজ প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে নিষিদ্ধ করেছেনে, সে খানে কলেজ অধ্যক্ষ নিজ ক্ষমতা বলে নিজস্ব শিক্ষকমন্ডলী দিয়ে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর নিকট হতে এক হাজার টাকা আদায় করে কোচিং বানিজ্য চালিয়ে প্রায় দশ লক্ষ টাকা আদায় করেছেন। অথচ যে সকল নন এমপিও শিক্ষক রয়েছেন তিন-চার জন ছাড়া কারোই নিবন্ধন সনদ ও যোগ্যতা নেই, যার ফলে শিক্ষাকার্যক্রম চরম ভাবে ভেঙ্গে পরেছে।

আসন্ন এইচএসসি পরীক্ষায় ফলাফল বিপর্যয় হওয়ার আসঙ্কা প্রকাশ করে অভিভাবকগণ বলেন, কলেজটি সরকারি হয়ে আমাদের লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়েছে, তার একটি প্রমান হলো অতিতের চেয়ে মাসিক বেতন ও পরীক্ষা ফি সামন্য পরিমান কমালেও শিক্ষারমান ও শিক্ষাকার্যক্রম একবারেই নিন্মমানের। এ ভাবে চলতে থাকলে মাডেল কলেজ তার দীর্ঘ দিনের সুনাম ও ঐতিহ্য যে হারাবে তা নিশ্চিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাক্তন ছাত্র ও কলেজে হিতাকাঙ্খী কলেজের বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটোওয়ারীর শ্রমে-ঘামে সৃষ্ট চাঁদপুর জেলার গর্বের মডেল কলেজটি আজ সীমাহীন দুর্নীতি ও সনদ বিহীন শিক্ষক দিয়ে পাঠদান করায় কলেজটি তার দীর্ঘ বহু বছরের ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। তারা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে সবাইকে হাজীগঞ্জ মডেল সরকারি কলেজটি রক্ষার জন্য সচেতন নাগরিককে এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেন।

এ বিষয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসার মো. আবুল বাসার এর কাছ থেকে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন শিক্ষককে চাকুরিচ্যুত করিনি। করেছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়াও অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কোন বক্তব্য দিতে পারবো না। আপনি সরাসরি কলেজে এসে দেখা করেন।

এ বিষয়ে কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ড. মো. আলমগীর কবির পাটওয়ারী বলেন, এ সকল অভিযোগ গুলো সত্য। এমন বহু অভিযোগ আমাকে বহু অভিভাবক ফোন দিয়ে জানিয়েছেন। কিন্তু র্দূভাগ্যের বিষয়, বর্তমানে কোন কিছু করতে না পারায় আমি ক্ষোভে কলেজে যাচ্ছি না। আপনারাই পারেন, এর প্রতিবাদ করে তার সমাধান দিতে।

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় শাশুড়ির হাতে পুত্রবধু জখম

আবু সাঈদ, কচুয়া : কচুয়া উপজেলার গোহট উত্তর ইউনিয়নের নাউলা ভক্তের বাড়ির কামাল হোসেনের স্ত্রী …

vv