ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / হাজীগঞ্জে তৈরি হবে ভিন্নধর্মী বৃদ্ধাশ্রম

হাজীগঞ্জে তৈরি হবে ভিন্নধর্মী বৃদ্ধাশ্রম

প্রিয় চাঁদপুর : নিজ সংসারে অবহেলিত প্রবীণদের জন্য শেষ আশ্রয়স্থল বৃদ্ধাশ্রম। তাদের শেষ সময়ের সম্মান ও নিরাপত্তা দেওয়া হয় বৃদ্ধাশ্রমে। পারিবারিক স্নেহবঞ্চিত প্রবীণদের ঠাঁই দিতে চাঁদপুর জেলার হাজীগঞ্জে একটি বৃদ্ধাশ্রম তৈরির কাজ চলছে।

আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করবে এ বছরের শেষ সময়ে ইনশাআল্লাহ্। বৃদ্ধাশ্রম মানে বৃদ্ধদের আশ্রয়স্থল হলেও হাজীগঞ্জে এ বৃদ্ধাশ্রমটি হবে ভিন্নধর্মী। স্বজনদের থেকে আলাদা হওয়া বৃদ্ধদের প্রয়োজনীয় সেবা ও আশ্রয়ের পাশাপাশি তাদের মধ্যে যদি কোনো আচরণগত ত্রুটি থাকে- তা সংশোধনের ব্যবস্থা করা হবে। একইসঙ্গে বাবা-মাকে বৃদ্ধাশ্রমে ফেলে রাখা সন্তানদের কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে বোঝানো হবে বাবা-মায়ের গুরুত্ব ও মর্যাদা। বোঝানো হবে যে বাবা-মা তিলে তিলে নিজেদের সবকিছু বিসর্জন দিয়েছেন, সন্তানকে মানুষ করার জন্য, সেই বাবা-মায়ের শেষ বয়সের ঠিকানা বৃদ্ধাশ্রম হওয়ার পরিণতি সম্পর্কেও। তাদের সন্তানেরাও একদিন তারা বৃদ্ধ হলে এভাবে আঁস্তাকুড়ে আবর্জনা ফেলার মতো করে ফেলে দিতে পারে, সে বিষয়ে জ্ঞান দেওয়া হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল অসহায় মানুষের জন্য উন্মুক্ত থাকবে এ বৃদ্ধাশ্রম।

এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মী ও বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সিফাত জানান, ‘মানুষ মানুষের জন্য’ ভেবে চাঁদপুর জেলায় যাদের কোনো মাথা গোজার ঠাঁই নেই বা দেখা-শোনার কেউ নেই- তাদের জন্য আমার এ উদ্যোগ। এলাকার পথে-ঘাটে, রাস্তার পাশে অনেক মানুষকে দেখা যায়, অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছেন। তাদের দেখলে আমার হৃদয়ে অনেক ব্যথা অনুভূত হয়, বাকরুদ্ধ হয়ে যাই, পথ চলতে কষ্ট হয়। দিন-রাত কাটে অনেক চিন্তা-ভাবনার মধ্যে’। ‘তারাওতো আমার মতোই মানুষ। তাদের পাশে দাঁড়ানো আমার নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। আমাদের নবীজী (স.) যেভাবে অসহায় মানুষকে সহযোগিতা করেছেন এবং আমাদেরকে যেভাবে করতে বলেছেন, সেদিকটি ভেবে চিন্তা করেছি যে, আমারও একটা কিছু করতে হবে। তাহলেই আমি মানসিকভাবে শান্তি পাবো’। ‘তাই হাজীগঞ্জে এ বৃদ্ধাশ্রমটি করতে কাজে নেমেছি। সকলের সহযোগিতায় আমি এটিকে একটি আদর্শ ও শান্তিপূর্ণ বৃদ্ধাশ্রমে পরিণত করবো’।

এ বৃদ্ধাশ্রমে যারা আসবেন, তারা কখনোই পরিবার ও জনবিচ্ছিন্ন হবেন না। তাদেরকে পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে সহযোগিতা করবো। বৃদ্ধদের ভালো রাখতে আধুনিক ও উন্নত বাসস্থান ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। তাদের আনন্দ বিনোদনের জন্যও থাকবে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। অবসর সময় কাটানোর জন্য থাকবে বিভিন্ন ধরনের সরঞ্জামাদি’। ‘আশা করি, এ বৃদ্ধাশ্রমে যারা আসবেন এবং যাদেরকে এখানে স্থান দেওয়া হবে সবাইকে আল্লাহ শান্তিতে রাখবেন’।

গণমাধ্যমকর্মী ও বৃদ্ধাশ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাইফুল ইসলাম সিফাত আরো জানান, আমার ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়ে অনেকেই প্রশংসা করছেন মহতি এ উদ্যোগের। ‘অবহেলিত বৃদ্ধেরা জীবনের শেষ দিনগুলো যেন একটু ভালোভাবে কাটাতে পারেন, সে উদ্যোগ নেওয়ায় আমাকে কমেন্ট করে, মেসেজ ও ফোন দিয়েও ধন্যবাদ জানিয়েছেন’।আবার অনেকে তিরস্কারও করেছেন। তাদের জন্য আমার মেসেজ।

Facebook Comments

Check Also

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত শিশুটি চাঁদপুরের, মায়ের খোঁজ মিলছে না

স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিশুটির পরিচয় মিলেছে। তার নাম …

vv