ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / হাজীগঞ্জে চলাচলের পথে মুক্তিযোদ্ধার কবর দেওয়াকে কেন্দ্র করে জনতার বাঁধা
হাজীগঞ্জে চলাচলের পথে মুক্তিযোদ্ধার কবরে বাধাদানকারী জনতার সাথে কথা বলছেন চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন।

হাজীগঞ্জে চলাচলের পথে মুক্তিযোদ্ধার কবর দেওয়াকে কেন্দ্র করে জনতার বাঁধা

হাজীগঞ্জে চলাচলের পথের মাঝে এক মুক্তিযোদ্ধার কবর দেওয়াকে কেন্দ্র করে জনতার বাধাঁ সৃষ্টির অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলে স্থানীয় চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে অবশেষে সমঝোতা হয়েছে বলে জানা যায়।

ঘটনার বিবরনে জানা যায়, গতকাল রবিবার বিকালে উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিন ইউনিয়নের নোয়াহাটা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হোসেন মাষ্টার মৃত্যু বরণ করেন। মুক্তিযোদ্ধার কবর তার নিজ বাড়ীর দেওয়ালের পূর্ব দিকের শেষ প্রান্তে নতুন কবরের স্থান নির্ধারন করা হয়। কবর খুড়তে গেলে পাশ্ববর্তী কামার বাড়ীর লোকজন এতে বাঁধা দেয়।

খবর পেয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন ঘটনাস্থলে গিয়ে জনতাকে শান্ত করেন এবং নিহত মুক্তিযোদ্ধার কবর খোড়ার নির্দেশ দেন ।

সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে নোয়াহাটা গ্রামের বাধাদানকারী মিজানুর রহমান, মাসুদ, সিরাজ, শাহাদাতসহ ১০/১২ জনের বক্তব্যে জানা যায়, যে স্থানে মুক্তিযোদ্ধার কবর খুড়া হচ্ছে সে স্থান দিয়ে এক সময় ভানিয়াকান্দি, বাজনাখাল,শাকচিপাড়া, সৈয়দপুর ও ভাটরার লোকজন বিকল্প চলাচলের পথ হিসেবে ব্যবহার করে আসতো। মুক্তিযোদ্ধা জীবিত থাকালীন সময়ে গত ২০১২ সালে তার বাড়ীর দুই দিকে দেওয়াল নির্মান করে চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়। এতে করে দূর পাল্লার মানুষের চলাচল কমে আসলেও পাশ্ববর্তী কামার বাড়ীর লোকজন চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হয়। এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদে কয়েকবার লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে নোর্টিশ করেন সাবেক ও বর্তমান চেয়ারম্যানদ্বয়। বিষয়টি সমাধান না হয়ে হঠাৎকরে মুক্তিযোদ্ধা হোসেন মাষ্টা মারা যায়। কিন্তু যে পথের বিষয়ে অভিযোগ সে পথের উপর মুক্তিযোদ্ধার কবর খুড়ার চেষ্টা করে তার পরিবার, সে কারনে আমরা বাঁধা দিয়েছি তবে স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় আমরা সবাই মিলে মুক্তিযোদ্ধাকে মাটি দেওয়ার প্রস্ততি নিচ্ছি।

মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সোহেল বলেন, বাবার কবরের ব্যবস্থা সম্পন্ন হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে বসে সমাধানে প্রস্তুত আছি।

এ বিষয়ে চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা স্বপন বলেন, মুক্তিযোদ্ধার কবর খোড়াকে কেন্দ্র করে বাঁধার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহাজালাল মজুমদারসহ গন্যমান্যরা মিলে বাধাদানকারিদের সাথে কথা বলে মুক্তিযোদ্ধার কবর দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহন করি এবং বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার অফিসার ইনচার্জকে অবহিত করি।

হাজীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোং জাবেদুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযোদ্ধার কবরে বাঁধা দেওয়ার কোন অভিযোগ পাইনি। নিয়ম অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় দাফনের প্রস্ততি ইতিমধ্যে থানা প্রশাসন নিয়েছে।

প্রতিবেদন: নিজস্ব প্রতিবেদক “প্রিয় চাঁদপুর”

Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তিতে ড্রাম্পট্রাকের ধাক্কায় ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু

মো.মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ইটা বোঝাই একটি ড্রাম্পট্রাকের ধাক্কায় মহিউদ্দিন (৫৫) নামে এক ব্যবসায়ীর …

vv