ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় চাঁদপুর / প্রিয় হাজীগঞ্জ / হাজীগঞ্জে চলাচলের পথের জন্য প্রভাবশালী পরিবারের কাছে জিম্মি ১৬টি পরিবার!
হাজীগঞ্জে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হামলায় আহত শিউলি বেগম। পাশে পথ বিহীন ১৬টি পরিবারের বাড়ি।

হাজীগঞ্জে চলাচলের পথের জন্য প্রভাবশালী পরিবারের কাছে জিম্মি ১৬টি পরিবার!

স্টাফ রিপোর্টার : মৃত্যুর পর সাড়ে ৩ হাত কবরের জায়গা, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আর চলাচলের পথের জন্য কে না জায়গা দিয়ে থাকে। এসব কাজে সম্পত্তি দেয়ার পর কেউ কি কাউকে জিম্মি করে রাখে? হ্যা” এমনটি ঘটেছে হাজীগঞ্জ পৌর এলাকার ১২নং ওয়ার্ডের রান্ধুনীমূড়া আরাখাল গ্রামের সেলিম মিয়ার বাড়িতে।

একই এলাকার একটি প্রভাবশালী পরিবারের সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচল করেন ওই বাড়ির ১৫/১৬টি পরিবারের লোকজন। ফলে প্রভাবশালী পরিবারের একটু সহানুভুতির জন্য শারীরিক ও মানষিক নির্যাতন নিরবে সহ্য করে যাচ্ছেন নিরীহ পরিবারগুলো। তাদের কথামত বা নির্দেশ মেনে নিরীহ পরিবারের লোকজন চলতে না চাওয়ায় কয়েক বছর পূর্বে কুয়েত প্রবাসী মো. সেলিম মিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগমকে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করার চেষ্টা করেন প্রভাবশালী পরিবারের আ. মোতালেব ওরপে মুতা মিয়ার ছেলে সোহেল রানা ও তার ভাই জুয়েল।

এছাড়াও প্রতিনিয়ত সোহেল ও তার স্ত্রী নাজমা মরিচের গুড়ার পানি দিয়ে জিম্মি হওয়া পরিবারের ছোট ছোট শিশুদের উপর নিক্ষেপ করে শিশু নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে অসহায়ত্ব জীবন-যাপন করে আসছেন তারা। তারই ধারাবাহিকতা গত ১০ মার্চ বুধবার দুপুর ৩টায় তুচ্ছ ঘটনাকে কন্দ্রে করে নিরীহ পরিবারের ২ সদস্যকে পিটিয়ে মারাত্মক আহত করে। আহতদের মধ্য একজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিলেও অন্যজন উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা যায়, প্রায় ৩০/৪০ বছর যাবৎ সেলিম মিয়ার বাড়ির পূর্ব পাশে বসবাস করছেন ১৫/১৬টি পরিবার। ওই সময় থেকে তারা নিজগৃহ থেকে মূল রাস্তায় আসতে হলে মোতালেব মিয়ার সম্পত্তির উপর দিয়ে তাদের আসতে হয়। প্রতিদিন যাতায়াত করতে গিয়ে পরিবারগুলো নানা প্রতিবন্ধকতা আর শারীরিক ও মানষিক নির্যাতনের শিকার হন। এক কথা বলতে গেলে মোতালেব এর ছেলে সোহেল ও সোহেলের স্ত্রী যা বলবে তা শুনতে হবে। আর তা না হলে তাদের নির্যাতন সহ্য করে যেতে হবে।

নির্যাতিত পরিবারের সদস্যরা সবাই দিন-মজুর। এ জন্য তাদের সন্তান ও স্ত্রীররা পার্শ্ববর্তী কৃষি মাঠ থেকে জ্বালানী নিয়ে এসে সোহেলদের সম্পত্তির উপর স্তুপ করে রাখেন। ঘটনার দিন দুপুরে সোহেল এবং তার স্ত্রী স্তুপকৃত জ্বালানীগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। কৃষি মাঠ থেকে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পায় ওই বাড়ির মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে মহিউদ্দিন। তিনি দৌড়ে এসে সোহেলকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে মহিউদ্দিনকে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। তাকে সোহেলের হাত থেকে বাঁচাতে ঘটনাস্থলে এগিয়ে যান তার চাচাতো বোন শিউলি আক্তার। তাকেও সোহেল ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম মারধর করেন। এতে শিউলি মারাত্মক আহত হন। বর্তমানে তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমল্পেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ও্ই প্রভাবশালী পরিবার প্রায় সময় বিভিন্ন অযুহাতে এসব পরিবারের উপর নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ করেছেন ভূক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে উল্লেখিত বিষয়টি ভিন্নখাতে প্রাবাহিত করার জন্য আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত সোহেল রানা।

এ ঘটনার পর পরই ভূক্তভোগী পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে প্রবাসী স্ত্রী নাজমা বেগম বাদী হয়ে ২ জনকে অভিযুক্ত করে হাজীগঞ্জ থানা একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযুক্তরা হলেন, সোহেল রানা ও তার স্ত্রী নামজমা বেগম। অভিযোগের প্রেক্ষিতে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন মিয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ভূক্তভোগী মনোয়ারা বেগম, মরিয়ম বেগম, পারভিন বেগম, মাজুদা বেগম, সাজুদা বেগমসহ অন্যান্যরা বলেন, প্রায় ১৯৮৮ সাল থেকে ওই সম্পত্তি ক্রয় করে এখানে বসত ঘর নির্মান করে বসবাস করে আসছি। আমরা তাদের সম্পত্তির উপর দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শারীরিক-মানষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছি। কিন্ত এখন আর আমরা তাদের নির্যাতন সহ্য করতে পারছিনা। আমরা চলাচলের পথ স্থায়ী ভাবে সমাধান করার জন্য বারংবার তাগিদ করলেও তারা সাড়া দেয়নি। এখন আমরা চাই এর স্থায়ী সমাধান। এ জন্য পৌর মেয়র আ.স.ম মাহবুব-উল আলম লিপন ও প্রশাসনের সু-দৃষ্টি কামনা করছি।

এ বিষয়ে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম বলেন, পথ নিয়ে তাদের সাথে আমাদের কোন দ্বন্ধ নেই। আমাদের বাড়ির পথ দিয়েই তারা নির্বিঘ্নে চলাচল করছে। মূলতঃ ওই বাড়ির প্রায়ই ছেলে ইয়াবায় আসক্ত। তাদের ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে আমাদের পাষানো হচ্ছে।

Facebook Comments

Check Also

মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপি’র ঈদ শুভেচ্ছা

সাইফুল ইসলাম সিফাত : পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চাঁদপুর-৫ (হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি) নির্বাচনী এলাকাসহ চাঁদপুরবাসিকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন …

Shares
vv