ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় চাঁদপুর / প্রিয় হাজীগঞ্জ / হাজীগঞ্জে আতংকের মাঝেও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

হাজীগঞ্জে আতংকের মাঝেও বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন

স্টাফ রিপোর্টার : হাজীগঞ্জ পৌর এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে শুক্রবার সকালে দূর্গা প্রতিমা বির্সজনের মধ্য দিয়ে হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব দূর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দিনে সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়েছে। ওইদিনে পূজামন্ডপ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে চলছে এ মহা উৎসবের আমেজ। তবে গত কয়েক দিনের তাপদাহের প্রভাব উপেক্ষা করে সম্প্রতি কুমিল্লায় নানুয়া দিঘী এলাকায় এক অপ্রীতিকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাজীগঞ্জে পুলিশের সাথে তোহিদী জনতার সংঘর্ষে নিহত ৪ জনের ঘটনাকে ঘিরে আতংকের মাঝেও পুজামন্ডপ গুলোতে দর্শনার্থী ও পুজারীর উপস্থিতি ছিল অনেকটাই কম। এদিকে বিশেষ কারণে মহা অষ্টমীতে কুমারি পুজা এবার কোন পুজা মন্ডপে অনুষ্ঠিত হয়নি।

স্থানীয় সনাতন ধর্মালম্বীদের একাধিক সূত্র জানায়, শুক্রবার দশমীর দিনে হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন পূজা অর্চনা ও আরতী এবং প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ মহাউৎসব শান্তিপূর্ন পরিবেশে পালন করেছে। এ মহাউৎসবে প্রথম দিনে কৈলাশ থেকে মা দুর্গা পিতৃগৃহে ঘোড়ায় চড়ে আগমন এবং বিজয়া দশমীতে স্বামীর বাড়ীতে পালকিতে চড়ে ফিরে যাবেন। বৃহস্পতিবার দিনব্যাপি মহানবমীতে হিন্দু সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ ধর্মীয় নানা আয়োজনে এ মহা উৎসবটি পালন করেছেন। দূর্গা দেবীর বির্সজন ঘিরে হাজীগঞ্জ উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন কমিটি এবং উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশের সার্বিক তত্ত্বাবধানে সবক’টি মন্দিরে নেয়া হয়েছে কঠোর পুলিশী নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওইদিন পৌরশহরের ও উপজেলার দুর্গা মন্দির গুলোর প্রতিমা ডাকাতিয়া নদী ও বিভিন্ন স্থানে বিসর্জন দিয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, দূর্গা প্রতিমা বিসর্জন কালে সনাতন ধর্মীয় নেতারা বলেন, অশুভ শক্তি কিংবা অসুর শক্তি বিনাশ ঘটিয়ে শুভ সুর শক্তি প্রতিষ্ঠা করাই এ শারদীয় দূর্গা পূজার মূল দর্শন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবং জনজীবনে সকল ভেদা-ভেদ ভুলে সার্বজনীন এ মিলন মেলাই শারদীয় মহা উৎসবের নামকরন। এ অঞ্চলের স্থানীয় প্রশাসনসহ অন্যান্য সম্প্রদায়ের লোকজনের সাবির্ক সহযোগিতা ও আন্তরিকতায় আমরা শান্তিপূর্ন ভাবে সব ধরনের পূজা উদযাপন করতে পারছি বলে এ অঞ্চলের সকল পেশার মানুষকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন। অপরদিকে হাজীগঞ্জে পুলিশ-জনতার অপ্রীতিরকর ঘটনার জের ধরে হাজীগঞ্জ পুরো শহর ও উপজেলা সকল পূজামন্ডপগুলো নিরাপত্তা চাদরে ঘিরে রেখেছিলো স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।

প্রসঙ্গত, কুমিল্লায় পবিত্র কোরান অবমাননার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বুধবার রাত সোয়া ৮টায় হাজীগঞ্জ বাজারে ৫শতাধিক লোকের একটি মিছিল বের হয়। পরে মিছিলটি বাজারের লক্ষী নারায়ন মন্দিরের কাছে এলে সেখান থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালায়। এ নিয়ে দফায় দফায় পুলিশ জনতার রাত প্রায় সাড়ে ৯টা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। এতে পুলিশের গুলিতে ৪জন নিহত ও পুলিশসহ অন্তত ৫০জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

ওই সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় দুই হাজার জনকে আসামি করা হয়েছে।
হাজীগঞ্জ থানায় হামলা ও পুলিশের আহতের ঘটনায় পুলিশ ২টি মামলা দায়ের করে এ ছাড়াও রাজারগাঁও ইউনিয়নের মুকন্দসার গ্রামে হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

Facebook Comments

Check Also

ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

সাইফুল ইসলাম সিফাত : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অপশক্তি দেশকে …

Shares
vv