ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / হাজীগঞ্জে অর্থ অনিয়মের ভার কাঁধে নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন নওহাটা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ

হাজীগঞ্জে অর্থ অনিয়মের ভার কাঁধে নিয়ে প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন নওহাটা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ

সাইফুল ইসলাম সিফাত : হাজীগঞ্জ উপজেলার ৪নং কালচোঁ দক্ষিন ইউনিয়নের নওহাটা গ্রামে অবস্থিত দীর্ঘদিনের পুরোনো মাদ্রাসা নওহাটা ফাযিল মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার বর্তমান অধ্যক্ষ আবু জোফার মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক এর বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, ভুয়া ভাউচার দিয়ে মাদ্রাসার অর্থ লুটপাট করা, মাদ্রাসায় হোটেলের অর্থ তচ্ছরুপ করায়, নিজ খেয়ালখুশি মত প্রতিষ্ঠান চালানো, মাদ্রাসার অন্যান্য শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরন করা, পাবলিক পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিয়ে অসাদুপায়ে তাদের সহযোগিতা করা, নামে বে-নামে মাদ্রাসার কাজের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে ছুটি কাটান, পঞ্চম শ্রেনি থেকে ফাযিল পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের মাসিক কত টাকা বেতন তার কোন রেজুলেশন না করেই তিনি বছরের পর বছর বেতন উত্তোলন করায়, আর সে টাকা কোন খাতে খরচ হচ্ছে তার কোন হদিস নেই, এসব অনিয়মের প্রতিবাদকারী কমিটির সদস্যদের সাথে অপমানজনক ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করাসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। ফলে অধ্যক্ষ আবু জোফার অর্থ অনিয়মের ভার কাধেঁ নিয়ে চালাচ্ছেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অধ্যক্ষের এসব অনিয়মের বিষয়ে ফুঁসে উঠছেন কমিটি ও এলাকাবাসী।

সম্প্রতি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাদ্রাসা কমিটির সদস্যরা। মাদ্রাসার অনেক শিক্ষক-কর্মচারীই তাঁর এই অনিয়মের প্রতিকার চায়, তবে ভয়ে কেই মুখ খুলতে পারছেন না। কেউ কেউ খুললেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক। অধিকাংশ শিক্ষক-কর্মচারী তাঁর অত্যাচারে অতিষ্ট। নানা অনিয়মের কথা স্বীকার করে, তাঁরাও চায় এসব অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রতিকার হোক। তারপরও কমিটির যাঁরা তাঁর এসব অনিয়মের বিষয়ে তেমন একটা নাক গলান না তাদের সাথেই যোগসাজস। অধ্যক্ষের মনমত সাজানো খরচ দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন। প্রতিষ্ঠানের অর্থের সঠিক কোন হিসাব দেন না তিনি কোনদিনই। কমিটির ১ জন ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে এসব দূর্নীতি করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি ম্যানেজিং কমিটির অন্যান্য সদস্যদের পাশ কাটিয়ে অধ্যক্ষ নয়-ছয় হিসাব দাখিল করেন।

মাদ্রাসার চাকুরী করেও তিনি কোন জবাবদিহিতার ধার ধারেন না। যা ইচ্ছে তাই করে চলেছেন। তাঁর দূর্ণীতি ও অনিয়মের কারণে এলাকার শিক্ষানুরাগী ও সাধারণ মানুষ ক্ষুদ্ধ। একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থ এমনভাবে ভক্ষন করায় রীতিমত হতভম্ব। এলাকার মানুষ কমিটির লোকজনও তার দূর্ণীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে অনেক কথা বলেছেন এবং তাদের কোন মতামত ছাড়াই বা নিজ ইচ্ছামত প্রতিষ্ঠান চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কমিটির সদস্যগণ। এসব অভিযোগের সাথে একমত পোষণ করেছেন পরিচালনা পর্ষদের অনেক সদস্য। সকলেরই অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধের সকল অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা ব্যবস্থা একদম ভেঙ্গে পড়েছে এবং আগামীতে আরও অরাজকতা সৃষ্টি হবে।

সূত্রে জানা যায়, অধ্যক্ষ এই প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাওয়ার দীর্ঘ ৯ বছর যাবৎ তিনি কাহারো সাথে পরামর্শ না নিয়ে তার একক কর্তৃত্বে প্রতিষ্ঠানের সকল কার্যক্রম করে থাকে। আর বছরে দুই বার নামে-বেনামে ভাউছার দেখিয়ে প্রষ্ঠানটির অর্থ লোপাট করেন। কোন শিক্ষকের সাথে পরামর্শ না করেই তার ইচ্ছেতে বছরের পর বছর চলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকদের শ্রেণি কার্যক্রম। ফলে শিক্ষক এবং কমিটির লোকদের সাথে পরামর্শ না নেওয়াই অসৌজন্য আচরনের আওতায় পড়েন অধ্যক্ষ। পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের কাছ হতে অতিরিক্ত কেন্দ্র ফি নিয়ে প্রতিষ্ঠানের মৌলভি শিক্ষক আহমদ উল্লাহ কে দিয়ে অধ্যক্ষ অসাদুপায়ে পরীক্ষার হলরুমে সহযোগিতা করেন। মাদ্রাসার কাজের কথা বলে বিভিন্ন সময়ে তিনি বাহিরে ছুটি কাটান। তিনি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ’র দায়িত্ব পাওয়ার পর তিনি কখনোই রেজুলেশ না করে শিক্ষার্থীদের ঘাঁড়ে ছাপিয়ে দেন অতিরিক্ত মাসিক বেতন। ফলে তার ধার্য্যকৃত মাসিক বেতনের অর্থ দিতে বাধ্য থাকেন শিক্ষার্থীর অভিভাবকরা।

একাধিক অভিভাবক ও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কমিটির সদস্যরা জানান, অধ্যক্ষের অনিয়ম-দুর্ণীতির কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের পথে বসেছে। শিক্ষার মান ও ফলাফল পর্যালোচনা করলেই বিষয়টি পরিস্কার হওয়া যাবে। তারা জানান. বছরে প্রায় ১২/১৩ লাখ টাকা মাদ্রাসার আয় হয়। কিন্ত অধ্যক্ষ নয়-ছয় হিসাব দিয়ে সভাপতির নিকট হিসাবের তালিকা জমা দেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অধ্যক্ষ আবু জোফার মোহাম্মদ আবু বকর ছিদ্দিক একটি বিষয় স্বীকার করে বলেন, আমি কখনো রেজুলেশন করিনি, প্রয়োজনও মনে করিনা। আর আমার বিরুদ্ধে অন্যান্য অভিযোগগুলো সম্পূর্ন মিথ্যা। বছর শেষে প্রতিষ্ঠানের সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব কমিটির সভাপতির নিকট দাখিল করা হয়।

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় ৭ বছরের শিশুকে ললিপপের লোভ দেখিয়ে ধর্ষণ, থানায় মামলা

মোঃ রাছেল : কচুয়ায় বাড়ির সম্পর্কীয় দাদা কর্তৃক দ্বিতীয় শ্রেনীতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী (মি) (৭) ধর্ষণের …

vv