ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / হাইমচরে গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি? সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে
ফাইল ছবি

হাইমচরে গৃহবধুর মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি? সন্দেহের তীর স্বামীর দিকে

মোঃ সাজ্জাদ হোসেন রনি, হাইমচর : ১২বছরের সাংসারিক জীবনে পারুল ৪ সন্তান জননী ছিলেন। শাহাদাত, সুমাইয়া, আশ্ররাফ ও ৪ মাসের মুসা কে ফেলে জীবনের সকল আশা ভরসা ফেলে রেখে চলে গেলে না ফেরার দেশে। সাংসারিক জীবনে পারুল সুখি ছিলেন না, তার স্বামী একাধিক বিয়েসহ খোজ-খবর নিতেন না তাকে ও তার সন্তানদের। খেয়ে না খেয়ে কোন রকম দিন কাটাতো পারুলের। সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সকল কষ্ট নিরবে হজম করতে হতো। অভাবের সংসারে থাকা সত্বেও পারুল কারো কাছে হাত পাততো না। পারুলের বাবা –মা মাঝে মাঝে লুকিয়ে চাউল, টাকা পয়সা দিত।

২০০৮ সালে বাবা- মায়ের অমতে একই গ্রামের নাসির নেপালের ছেলের নজরুল ইসলাম ওরপে মিয়া নেপালের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে মিয়া নেপাল পারুলকে প্রতিনিয়ত মারধর করতো। সংসারে কোন টাকা পয়সা দিত না ঠিক মত। মিয়া নেপালের ২য় স্ত্রীকে নিয়ে নারায়নগঞ্জে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতো। মাঝে মাঝে সে তার ১ম স্ত্রী পারুলের সাথে দেখা করার জন্য আসলে ২/৩ দিন থেকে পারুলকে মারধোর করে চলে যায়।

গত ১২ সেপ্টম্বর রাত ৩টায় হাইমচর উপজেলার পশ্চিম চরকৃঞ্চপুর গ্রামের পারুলের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থা দেখের আশেপাশের লোকজন তার মৃতদেহ নামিয়ে মাটি রাখেন।

এ ব্যাপারে স্থানীয় লোকজন জানান , পারুল একটি ভদ্র ঘরের মেয়ে ছিল। তার স্বামী তাকে মারধোর করতো শুনতাম কিন্ত কারও কাছে বলতো না। নিরবে হজম করতো।

প্রত্যক্ষকদর্শী সুফিয়া বেগম জানান, পারুলের মৃত্যুও আগের দিন তার স্বামী নদীতে ঘোসল করতে দেখিছি।
মৃত্যঃ পারুরের ছেলে শাহাদাত জানান , আমার মায়ের মৃত্যুও আগের দিন আমার দাদির বাড়িতে চলে যাই। ঐদিন রাত ১টায় ঘুম থেকে জেগে আমার দাদি ঘরে নাই। বাড়িতে আসলে জানতে চাইলে সে বলেন পাশের বাড়িতে পান খেতে গেছিলাম। তার কিছুক্ষন পরে আমার মায়ের মারা যাওয়ার খবর শুনি।

ছোট মেয়ে সুমাইয়া বলেন, বৃহস্পতিবার আমার আব্বায় আমার মাকে মারধোর করে চলে যায়। রাতে আমরা ঘরে শুয়ে থাকি, ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার মা ঝুলিয়ে আছে। পাশের বাড়ির মহিলা মাকে নিচে নামায়।

এ বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শী মিন্টুর মা জানান, পারুলের মেয়ে চিৎকার করে আমার মাকে বাঁচান, আমার মা ফাসি দিয়েছে। আমি ঘরের ভিতর গিয়ে দেখি পারুল মওে গেছে বলি তারপর মেয়ে বলেন আমার মাকে বাচান। তখন আমি পারুলকে নিচে নামাই। আমি দেখি পারুল যে ওরনা দিয়ে ফাস দিয়েছে সেটা লুজ ছিল আর খাড় বাকা ছিল। আমার মনে হয় না পারুল ফাস দিয়েছে। আমার বিশ্বাস তাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে।

নিহত পারুলের বড় ভাই রাসেল জানান, আমর বোন কে তার স্বামী প্রায় মারধোর করেন। বাড়িতে খাওয়ার জন্য কোন টাকা পয়সা দিত না আমরা টাকা পয়সা ও চাউল কিনে দিতাম। ঐদিন তার স্বামী মিয়া নেপাল আমার বোন কে মেরে ওরনা দিয়ে ঝুলিয়ে রাখেন। আমার বোন আত্নহত্যা করতে পারেনা, তাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখে আমাদের পরিবারের দাবি। আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি সঠিত তদন্ত করে অপরাধীর শাস্তির ব্যবস্থা করেন। অভিযোগযুক্ত মিয়া নেপাল বর্তমানে জেল হাজত রয়েছে।

Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তি ওসিকে কমিউনিটি পুলিশের বিদায় সংবর্ধনা

প্রিয় চাঁদপুর সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক : চাঁদপুর জেলা সিএনজি চালিত অটোরিক্সা মালিক সমিতির প্রধান কার্যালয়ে …

Shares
vv