ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বাংলাদেশ / রাজনীতি / হাইব্রিড নেতাদের ভীড়ে; কোণঠাসা ত্যাগী কর্মীরা : হেলাল উদ্দিন মোল্লা

হাইব্রিড নেতাদের ভীড়ে; কোণঠাসা ত্যাগী কর্মীরা : হেলাল উদ্দিন মোল্লা

বিশেষ প্রতিনিধি : শাহরাস্তির সন্তান, ঢাকাস্থ ব্যবসায়ী, সাবেক ছাত্রনেতা এবং বাংলাদেশ তাঁতীলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ হেলাল উদ্দিন মোল্লা। একজন নিখাঁদ আওয়ামীলীগের কর্মী। যিনি তার ছাত্রজীবনে রাজনীতির জন্য হতে হয়েছে অপদস্ত। আওয়ামীলীগ ঘরোনার রাজনীতির জন্য তিনি ছাড়াও তার পরিবারের সদস্যদের হতে হয়েছে নিমর্ম আঘাতের স্বীকার। তারই স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অতীতের কিছু কথা বললেন। হয়তো তার মতো নেতৃত্ব দানকারী ব্যক্তির কথা শুনে বর্তমান প্রজন্মের তরুণ নেতা কিংবা কর্মী অনেক কিছুই শিখতে পারবে, এটাই তার আকাঙ্খা।

সেপ্টেম্বর ২০০৩ এর মোঃ হেলাল উদ্দিন মোল্লার রাজনৈতিক অবস্থান ও তার অভিব্যক্তি এবার শুনবো তারই মুখ থেকে;

মেহের ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের “নবীন বরন” ১১ ই সেপ্টেম্বর ২০০৩ ইং। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের কর্মসুচীর অংশ হিসাবে উপজেলা ছাত্রলীগের পরামর্শক্রমে নবীন বরন অনুষ্ঠানের কর্মসূচি ঘোষনা করি। আমি বি.এস-সি এর ছাত্র।

বাধসাধে কলেজ কর্তৃপক্ষ (আমাকে অবহিত করেন শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ এম এ আউয়াল মজুমদার বর্তমান শাহরাস্তি উপজেলা আওয়ামী লীগ এর সহ-সভাপতি ) এবং শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চানক্য বাবু। ছাত্রলীগ কোন কর্মসূচি দিলে প্রতিহত করার বিএনপি এর নির্দেশ ।

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বাবুল আক্তার ভাই সহ অন্যদের অনুপ্রেরনায় এবং মেহের ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের সাহসীকতায় আমি “নবীন বরন”২০০৩ইং অনুষ্ঠানের বিষয়ে অনড়। সবাই কে দাওয়াত দিলাম। আমি তখন শাহরাস্তি উপজেলা ছাত্রলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক।

সকল বাধা উপেক্ষা করে কর্মসূচি ঘোষনায় অনড় থাকায় আমাকে মেহের ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি এর দায়িত্ব প্রদান করেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ বাবুল আক্তার ভাই ।

ব্যানার বানাতে হবে। আমাদের কাছে টাকা নাই। আমার চাচা আবুল কালাম মোল্লা, বর্তমানে আহবায়ক, ৯ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ও সদস্য শাহরাস্তি পৌরসভা আওয়ামী লীগ। শাহরাস্তি পৌরসভা ৯ নং ওয়ার্ড এর সাবেক কমিশনার। উনার দোকান থেকে ১০০ গজ কাপড় নেই। শংকর আর্ট, বর্তমানে প্রধান শিক্ষক, ছিখুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উনি ব্যানরটি লিখে দেন। সেদিন কাপড় এবং লেখার টাকা দিতে পারি নাই।

১১ ই সেপ্টেম্বর সকাল ১০ টায় মেহের ডিগ্রি কলেজের পশ্চিম বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় ব্যানার ঝুলাই। ১০ঃ৩০ মিনিটে ছাত্রদলের ক্যাডাররা ব্যানারটি ক্যাম্পাসের মাঝ মাঠে কেরোসিন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয় তখন বুকে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে।

অন্যদিকে দোয়াভাংগা বাস এবং টেম্পু স্ট্যান্ডের লোকজন সহ ছাত্রদলের ক্যাডাররা আমার ছাত্রলীগের ভাইদের ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছে না। তাদের অস্ত্রের মহড়া।

উত্তর এর বিল্ডিংয়ের ২য় তলায় গিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের আদর্শ-উদ্দেশ্য এবং বঙ্গবন্ধু কে নিয়ে নবীন ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে কথা বলার ৩/৪ মিনিটের মধ্যে আমাদের নিচে নামিয়ে দেয় ছাত্রদল ক্যাডাররা।

নিচে এসে দেখি উপজেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক বাকী বিল্লাহ খিজির কে ক্যাম্পাস মাঠে হকিস্টিক দিয়ে বেদম প্রহার করছে। তাকে উদ্ধার করে ক্যাম্পাসের বাইরে অবস্থানরত উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি বাবুল আক্তার এর মাধ্যমে হাসপাতালে প্রেরন করি। জোট সরকারের ক্যাডাররা আমাদেরকে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেয়। আমরা কলেজ থেকে অস্হায়ী কার্যালয় আমার বাসা কালিবাড়ির উদ্দেশ্যে বাইরে অবস্থানরত প্রায় ২০০০ ছাত্রলীগের নেতাকর্মী সমর্থক সহ চলে যাই। কিছুক্ষণ পর ছাত্রদলের মিছিল আমাদের পেছন হয়ে উপজেলা মুখী।

পুলিশের এস আই আলমগীর আমাদের মিছিল কালিবাড়ী হতে চলে যেতে বলে। আমরা চলে আসি। পিছন দিয়ে ছাত্রদলের মিছিল মেহের কালিবাড়ীতে আমার বাসা এবং দোকানে পিস্তল, হকিস্টিক, রামদা,চাইনিজ কুড়াল এবং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। লুটপাট করা হয় আমার বাসা এবং দোকান। আঘাত প্রাপ্ত হন আমার পরিবারের লোকজন। শতশত কোপের দাগ দীর্ঘদিন এলাকাবাসী দেখে আমার বাসায় এবং বিভিন্ন পত্রিকার শিরোনাম ছিল। ছবি তুলতে গেলে ছিনিয়ে নেয় সাংবাদিক আমরুজ্জামান সবুজ ভাই এর ক্যামেরা। বর্তমানেও তিনি সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করছেন। স্হানীয় কয়েকজন ছাত্রদল-বিএনপি এর ভালো মানুষের কারনে অল্পের জন্য প্রানে রক্ষা পায় আমার ছোট ভাই মোঃ সাইফুল ইসলাম স্বপন সহ ছাত্রলীগের কয়েক জন কর্মি। আমরা দোয়াভাংগা এসে বর্তমান পশ্চিম সাইডের যাত্রী ছাউনির পাশে ছিল স’মেইল। স’মেইলের পাশে এসে আমি বক্তব্যের মাধ্যমে আমাদের মিছিল শেষ না করতেই পুলিশের উপস্হিতিতে ছাত্রদলের ক্যাডাররা আমাদের উপর গুলি বর্ষন এবং অতর্কিত হামলা চালায়।

আমরা কিছু ছাত্র বাবুল আক্তার ভাই সহ মেহের ডিগ্রি কলেজ এর ডেমোনেস্টেটর খায়ের স্যারের বাসায় ঢুকে পড়ি। বাকী সব দোয়াভাংগা জাহাঙীর হোটেল এবং বিসমিল্লাহ হোটেলের পিছনে ময়লা পানিতে পড়ে এবং যে যার মত সরে যায়। আমাদের বহু কর্মী আহত হয়। আমরা কয়েক ঘন্টা পর নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে চলে যাই।

আমরা কিছু নেতা কর্মী কালিবাড়িতে সংগঠন এর অস্হায়ী কার্যালয় আমার বাসায় চলে যাই। সবার মনে আতংক। রাত ২ টায় আমার বাসায় পুলিশের হামলা। আমাকে তুলে নিয়ে যায় থানায়। ভোর বেলায় আমাকে ছেড়ে দেয়। পুলিশের নিষ্ঠুর আঘাত গুলো আজো মুছে যায়নি। ভুলতে পারি না দূর সময়ের স্মৃতি। ভালো থাকুক প্রানের সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।মুক্ত হোক হাইব্রিড।

কষ্ট লাগে অনেককে সংগঠন থাকার কথা বললে এড়িয়ে চলতো, মিছিলের কথা বললে ব্যস্ততা দেখাইতো, আমাদের প্রতি মৌন সম্মতির কথা বললে বলতো আমি অন্য সংগঠন করি। কিন্তু তারা আজ আওয়ামী লীগের কষ্টের ফল ক্ষমতার স্বাদ ভোগ করছে।

কথাগুলো তার নিজস্ব অভিব্যক্তির বহিঃপ্রকাশ মাত্র। সাবেক ছাত্রলীগ কর্মীর দলের প্রতি এই আত্নদান কি পারে না, তাকে তার প্রাপ্য সম্মান ও কদরটা বুঝাতে! নয়তো এমন অভিমানী কর্মীগুলো হারিয়ে গেলে রাজনীতির মাঠ নেতৃত্ব শূন্য হয়ে পড়বে৷ আর আমরাও যোগ্যতা সম্পন্ন লোকগুলোকে হারিয়ে অতল গহ্বরে নিমজ্জিত হবো।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে শুক্রবার নতুন করে ১০ জনের করোনা পজেটিভ

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে নতুন করে ১০ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সনাক্তের হার ৮.৭০%। শুক্রবার …

Shares
vv