ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / হঠাৎ ইলিশশূণ্য চাঁদপুর মৎস্য আড়ত
চাঁদপুর মৎস্য আড়তে ইলিশের আমদানি বাড়াতে ইলিশ এসে স্তুপ হচ্ছে ।

হঠাৎ ইলিশশূণ্য চাঁদপুর মৎস্য আড়ত

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুর নৌ-সীমানায় ইলিশের ভরা মৌসুমে পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশের আকাল চলছিল দীর্ঘ কয়েকমাস যাবত। পুরো এ ভরা মৌসুমের প্রায় ৩মাস ইলিশ শূন্য রয়েছে, চাঁদপুরের ইলিশ মোকামের আড়ৎ গুলো। হাহাকার চলছিল জেলে পরিবার ও জেলে পাড়ায়। জেলেরা পদ্মা-মেঘনা নদীতে নেমে তাদের খরচ পর্যন্ত উঠছিল না। শত-শত ইলিশ শ্রমিক বেকার থেকে অতি কষ্টে তাদের দিনাতিপাত করছিল।

বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ও টিভির পদ্মা খুললেই রিপোট পাওয়া যাচ্ছিল,চাঁদপুরে পদ্মা-মেঘনায় ইলিশ মৌসুমে ইলিশ শূন্য চাঁদপুর। দাদন দারদের চাপে জেলে ও খুদে ব্যবসায়ীরা দিশেহারা হয়ে আছে। এরই মধ্যে জেলে,ব্যবসায়ী, আড়ৎদারদের মধ্যে হঠাৎ আনন্দের খবর ও খুশির বার্তা নিয়ে এলো কিছু জেলে ও দাদন নেওয়া কিছু ব্যবসায়ী। তারা হঠাৎ করে এক সাথে কয়েকটি ট্রলার যোগে চাঁদপুর মৎস্য আড়তে প্রতিদিন গড়ে ৯শ’ থেকে ১ হাজার মন ইলিশ বোঝাই ট্রলার নিয়ে আসছে, চাঁদপুর ইলিশের রাজধানী খ্যাত মৎস্য আড়তে।

গত প্রায় ৩ মাসের মন্দাভাব থাকার পর সে মন্দাভাব কাটিয়ে এখন প্রচুর পরিমানে ইলিশ আসতে শুরু করেছে চাঁদপুর মৎস্য আড়তে। গতকাল ১৮ জুলাই রোববার থেকে আবারও দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় নোয়াখালী,চরফেসন,ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানের নদ নদী থেকে জেলেদের আহরিত ৯শ’ থেকে ১ হাজার মণ ইলিশ ঘাটে আমদানি হচ্ছে।
এতে করে ইলিশ বন্দর চাঁদপুরের ইলিশ শ্রমিকদের ব্যস্ততা, ক্রেতাদের ভিড় বেড়ে গেছে। আড়তদারদের মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। ঘাটে আসা কয়েকটি ট্রলারের ভিতরের খোল ভরে আছে,এ রুপালি ইলিশের আমদানীতে।

প্রতিবছর এ সময়ে এই মোকামে বিপুল পরিমান ইলিশ আসতো। আর আড়তের সামনে ইলিশের রাখার জায়গা হত্ োনা। সেখান তিলধারনের জায়গা পর্যন্ত পাওয়া যেতনা। সেখানে পুরো ঘাটে এখন প্রচুর ইলিশ আমদানী হওয়ায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে শহরের বড় স্টেশন মাছঘাটে।

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমিতির সভাপতি আব্দুল বারী জমাদার মানিক জানান, সিজনের যে পরিমাণ মাছ থাকার কথা ওই পরিমাণ ইলিশ এখন আসছে না। সিজন অনুযায়ী ওই পরিমাণ ইলিশ এ সময়ে মাছ ঘাটে আসছে না।
তিনি বলেন,ভোলা হাতিয়া ও মনপুরা উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৬ থেকে ৭’শ মণ ইলিশ একদিনে আমদানি হয়েছে। বাকী ইলিশ আমাদের লোকাল নদীর মাছ। দক্ষিণ অঞ্চলের জেলেরা এখন কিছু মাছ পাচ্ছে। এ কারনে ঐতিহ্যবাহী এই ইলিশ ঘাটের কিছুটা প্রাণ ফিরে এসেছে।

মৎস্য ব্যবসায়ীদের এ নেতা আরো বলেন,গত কয়েক মাস মাছ না থাকায় এখানকার আড়ৎদার ও ইলিশ ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে লেগে গেছে। অথচ উপকূলীয় এলাকার মাছকে গভীর সাগরের ইলিশ বলে স্থানীয় প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিচ্ছে একটি চক্র। নৌ-পুলিশ দুই দফা ঘাটে এসে দেখে গেছেন। সাগরের ইলিশের কোনো প্রমাণ তারা পায় নাই।

সরজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, রোববার ৪টি এবং আজ সোমবার ৫টি ট্রলার ঘাটে এসেছে।
হাজী আব্দুল গফুর জমাদ্দার, হাজী আব্দুল মালেক খন্দকার, আঃ খালেক মালের আড়তে এ আমদানীকৃত ইলিশ মাছ উঠে। মুহুর্তের মধ্যে সেখান থেকে ক্রেতাদের ভিড় জমে যায়। চলে দরদামের হাঁকডাক ও চিল্লাচিল্লি। কার আগে কে ক্রয় করবে সে প্রতিযোগিতা এখন চাঁদপুর মাছ ঘাটে।

হঠাৎ লকডাউন বাস্তবায়নে মাঠে থাকা জেলা প্রশাসনের মোবাইল টিমও সেখানে আসে। সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতে মোবাইল টিমের প্রধান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ প্রদান করেন।

এদিকে, ইলিশের আমদানি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। ৭শ’৮শ’ গ্রাম ওজনের পাইকারি প্রতিমণ ইলিশ আড়তে বিক্রি হচ্ছে, ২৯ হাজার টাকা থেকে ৩২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১ কেজি থেকে ১২শ’গ্রাম ইলিশ প্রতিমনের দাম ৪৫ থেকে ৪৮ হাজার টাকা। যা’সাধারন ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে। আমদানীকৃত স্থান থেকে এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণাঞ্চলের ইলিশ ধরা পড়ায় নদ-নদীতে ইলিশের এমন প্রাচুর্য অবাক করেছে ব্যবসায়ী, জেলে, ক্রেতাসহ সবাইকে। কারণ,এবার ইলিশ মৌসুমে এত ইলিশ চাঁদপুর ঘাটে কেহ দেখেনি। আগামীতে আরও বেশি পরিমাণে ইলিশ আমদানী হবে বলে আশা করেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও জেলেরা।

Facebook Comments

Check Also

মৃত্যুর আগে সেলিম ফিরতে চান চাঁদপুরের আপনজনদের কাছে

নিজস্ব প্রতিনিধি : ৪০ বছর আগে যখন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান সেলিম মিয়া, তখন সবেমাত্র ম্যাট্রিক …

Shares
vv