ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / স্বাধীন বাংলার নতুন নতুন স্বপ্নে বিভোর মুক্তিযোদ্ধা কালাম চিশতী

স্বাধীন বাংলার নতুন নতুন স্বপ্নে বিভোর মুক্তিযোদ্ধা কালাম চিশতী

সজীব খান : এক বুক হাহাকার আর লাশের ধ্বংসস্তপের কথা মনে পড়লে আজও শরীর শিউরে উঠে। জীবন যৌবন বয়সের স্বাধ না নিয়ে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে তিনি শুধু বিরত্বই দেখায়নি, দেখিয়েছেন দেশ প্রেম, মা মার্তৃভূমি রক্ষা করার উধার মনের পরিচয়। যে বয়সে যুবক জীবনের রঙ্গীন স্বপ্ন নিয়ে বিভোর থাকে, সে বয়সেই এক অনিশ্চয়তার জীবনে পা রেখে যুদ্ধে অংশ গ্রহন করেছেন তিনি । স্বাধ নিয়েছেন যুদ্ধের, স্বাধীন করেছেন বাংলাকে, লাল সবুজের পতাকা উড়িয়ে বিজয় কেতন নিয়ে ফিরেছেন মায়ের বুকে।

বলছি আবুল কালাম মোঃ শামছুল আলম চিশতীর কথা, আবুল কালাম চিশতী, গ্রাম বড় শাহতলী, পোঃ শাহতলী, ৪নং শাহমাহমুদপুর ইউনিয়ন, চাঁদপুর সদর, চাঁদপুর। জন্ম ১৯৫৩ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর, পিতা আলহাজ্ব মাওলানা মোহাম্মদ আশিক উল্ল্যাহ। ৫ ভাই ৫ বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। এসএসসি পর্যন্ত পড়ে লেখা পড়া ইতি টানেন তিনি। ব্যাক্তিগত জীবনে তিনি ৩ ছেলের জনক। ৩ ছেলেই বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। মুক্তিযুদ্ধ গ্রেজেট নং-৩০৪। গজারিয়ার বীর প্রতীক রফিকুল ইসলামের আন্ডারে থেকেই যুদ্ধ করেছেন।

কালাম চিশতী ১৯৭১ সালে মুন্সিগুঞ্জ জেলার গজারিয়ার ভবেরচর, ভাটেরচর, এলাকায় যুদ্ধ করেন। সেখানেই যুদ্ধ করে দেশকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত করার, গর্বিত অংশিদারিত্ব অর্জন করেন। ইতিহাসের পাতায় মুক্তিযোদ্ধাদের ইতিহাসের তালিকার নিজের নাম লিপিবদ্ধ করেন।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির ভাষন শুনে বঙ্গবন্ধুর কাছে অস্ত্র জমা দিয়ে ১৫ জানুয়ারি বিজয় রতে করে বাড়ি ফিরেন। লাল সবুজের পতাকার যে স্বপ্ন দেখেছেন, সে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করেছেন। আজ স্বাধীনতার ৪৫ বছরে আজও তার বুড়া চোখে স্বাধীন বাংলার নতুন নতুন স্বপ্ন দেখছেন তিনি।

দেশের প্রতি ভালবাসা থাকার কারনেই এসব করতে পেরেছেন। পাকিস্তানি ঘাতকদের নিঃস্বংর্ষ হত্যা দেখে, একটা স্বপ্ন কুড়ে কুড়ে যুদ্ধে যান তিনি।

দেশ, মা, মার্তৃভূমিকে পরাধীনতার হাত থেকে মুক্ত স্বাধীন ভাবে চলতে পেরে তিনি নিজেকে গর্ববোধ করেন। স্ত্রী ছেলেদের নিয়ে সুন্দর পরিবেশে এ স্বাধীন দেশে বসবাস করছেন। জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তন হয়ে ও সমাজে নিজেকে গর্ববোধ করেন।

বর্তমানে অবসর সময়ে তিনি সমাজের অসহায় দুস্থ্যদের পাশে থেকে সেবা করছেন, নিজের স্বামর্থ্য অনুযায়ী অসহায়দের সহয্য সহযোগীতা করেছেন। মাঝে মাঝে নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তির স্মৃতি চারন করে দিন কাটাচ্ছেন। ২ বার ওমরা পালন করে এখন দিনের পথেই বেশি সময় পার করছেন।

স্বাধীনতার যুদ্ধের স্মৃতি চারন করতে গিয়ে তিনি বলেন ১৯৭১ সালে বাংলার মাঠে ঘাটে, নদীতে, রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখেছি নীরিহ বাঙালি কৃষক, শ্রমিক, ছাত্র, নারী-বৃদ্ধ ও শিশুর অগণিত পরিত্যক্ত লাশ। সে ছিল পাকিস্তান হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের নির্মম নির্যাতনের এক বেদনাদায়ক চিত্র।

২৫ মার্চ রাত থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল আমাদের উপর নির্মম নির্যাতন। সেদিন পুলিশ, মুজাহিদ, আনসার ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য ছাত্র জনতা, কৃষক, শ্রমিক তথা সর্বস্তরের জনগন একাকার হয়ে কোন পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই নিজ নিজ এলাকায় দূর্বার প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল।

সে দুর্বার প্রতিরোধের ফল হিসেবেই ৯ মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতার লাল সূর্য আমরা ছিনিয়ে আনতে স্বক্ষম হয়েছি।

Facebook Comments

Check Also

বিটাক চাঁদপুরের ২টি ঝুঁকিপূর্ণ সফলতা

অমরেশ দত্ত জয় : বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) চাঁদপুর ইতিমধ্যেই ২টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ …

vv