ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় চাঁদপুর / প্রিয় মতলব উত্তর / স্বাধীনতা বিরোধীরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সজাগ হতে হবে : মায়া

স্বাধীনতা বিরোধীরা যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সজাগ হতে হবে : মায়া

মনিরুল ইসলাম মনির : এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের, স্বাধীনতা বিরোধীদের নয়’, উল্লেখ করে দেশবিরোধী শক্তি কোনদিন যেন এদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসতে না পারে সেজন্য সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম এমপি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ, ইউনিয়ন আ’লীগ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজিত রাঢ়ীকান্দি দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদরাসা মাঠে উন্নয়ন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ত্রাণমন্ত্রী বলেন, লাখো শহীদের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীনতা যেন কোনদিন ব্যর্থ হতে না পারে এজন্য দেশবাসীসহ সকলকে সজাগ থাকতে হবে। বাংলাদেশ স্বাধীনতাবিরোধী, জঙ্গি এবং যুদ্ধাপরাধীদের দেশ নয়, এই দেশ মুক্তিযোদ্ধাদের, মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসীদের, আমরা সেভাবেই দেশটাকে গড়ে তুলতে চাই।

তিনি বলেন, যারা স্বাধীনতাকে ব্যর্থ করতে চায়, তারা যেন কোনদিন ক্ষমতায় না আসতে পারে, আগামীতে এ দেশ হবে শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের। রাজাকার, আলবদর, আল শামস আর খুনীরা যেন আর কখনো ক্ষমতায় না আসতে পারে, সেদিকে সবাইকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।

মন্ত্রী মায়া বলেন, নিজেদের জন্য সম্পদ করা নয়, জনগণ যাতে সম্পদশালী হয়, উন্নত হয়, বাংলাদেশে একটা মানুষও যাতে গৃহহারা না থাকে, কেউ যেন না খেয়ে কষ্ট না পায় এবং একটা মানুষও বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না- আমরা সেটাই করতে চাই। তাই সরকারের লক্ষ্য তৃণমূল পর্যায় থেকে উন্নয়ন করা, আমরা গ্রাম পর্যায় থেকে উন্নয়নের কাজটা শুরু করেছি।

কোন ঘর অন্ধকারে থাকবে না দেশের প্রতি ঘরকে তার সরকার আলোকিত করবে উল্লেখ করে সরকার মন্ত্রী বলেন, সেই লক্ষ্য এবং নীতি নিয়েই তিনি দেশ পরিচালনা করছেন বলেই দেশে আজ এই উন্নতিটা হচ্ছে, আর ’৭৫ পরবর্তী সরকারগুলো দেশের কোন উন্নতি করতে বা দেশের মানুষকে কিছু দিতে পারে নাই, তারা নিজেরা মুষ্টিমেয় কিছু লোকই সম্পদশালী হয়েছে আর বাকীর খাতায় শূূন্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীর বিক্রম এমপি বলেছেন, বিএনপি জামায়াত আন্দোলনের হুমকি দেয়। ৯ বছর চার মাসে যারা কিছু করতে পারেনি। তারা আর বাকী ৪ মাসে কি উল্টে ফেলবেন। তা জানা আছে। নিজেদের অস্তিত্ব যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় না। সেখানে কি আন্দোলন করবেন? দেশের টেলিভিশনগুলো বন্ধ করে দিলে আপনাদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।

বিএনপি-জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে ত্রাণ মন্ত্রী মায়া চৌধুরী আরও বলেন, ওরা স্বাধীনতা বিরোধী লোক, স্বাধীনতা মানে না, ওরা বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী, ওদের বাংলাদেশে জায়গা নেই। ওরা নির্বাচনের নামে ঢাকা-শহরে যন্ত্রণা করে। আর পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আসতে চায়। সেই দিন শেষ। বাক্স তালা মেরে দিবেন, বাক্স ছিনতাই করবেন? ওইদিন আর নাই।

আগামী নির্বাচন শেখ হাসিনার অধীনেই হবে উল্লেখ করে মায়া চৌধুরী বলেন, শেখ হাসিনার একটাই স্লোগান ‘আমার ভোট আমি দিবো, যাকে খুশি তাকে দিব’। এই ভাবেই শেখ হাসিনার অধীনেই ২০১৮ সালের নির্বাচন হবে। যারা দেশের উন্নয়ন চায়, যারা দেশের শান্তি চায় তারা সবাই নির্বাচনে আসবে। আর যারা গণতন্ত্রকে বিশ^াস করেনা তারাই শুধু নির্বাচনে আসবে না। গণতন্ত্রকে বিশ^াস করেনা এমন কারো জন্য নির্বাচন থেকে থাকবে না।

মতলবের উন্নয়ন তুলে ধরে ত্রাণ মন্ত্রী বলেন, মানুষ আজ দেখলাম নৌকাকে কতটা ভালবাসে। বৃষ্টিতে ভিজে তারা সমাবেশে ছুটে এসেছে। মা বোনেরাও ছুটে এসেছে। আমার প্রতি আপনাদের এতো ভালবাসা, এর ঋন আমি শোধ করতে চেষ্টা করবো।

যদি জননেত্রী শেখ হাসিনা আগামী নিবার্চনে আমাকে নৌকার মনোনয়ন দেন তাহলে আপনাদের এ ভালবাসার প্রতিদান দিবো। এই এলাকার প্রতিটি মানুষের যেসব চাহিদা আছে সকল চাহিদা আমি পূরণ করবো। আপনারা বিগত দিন আমার কাছে কিছু চাননি। তারপরও এই এলাকার উন্নয়ন কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমাকে আপনারা ৫টি বছর সময় দেন, এরপর মতলবের কাউকে আর সিঙ্গাপুর যেতে হবে। এই মতলবকে আমি সিঙ্গাপুর বানিয়ে ফেলবো। আল্লাহ যদি আমাকে আর ৫ টি বছর সুযোগ দেন, আরেক বার নির্বাচিত হতে পারি তাহলে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলবো। এসময় উন্নয়নে স্বার্থে নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তৃতা দেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ও আওয়ামীলীগ নেতা সাজেদুল হোসেন চৌধুরী দিপু। ফতেপুর পশ্চিম ইউপি চেয়ারম্যান নূর মোহাম্মদের সভাপ্রধানে ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক সরকার মো. আলাউদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, চাঁদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ওচমান গণি পাটোয়ারী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি এড. রুহুল আমিন, মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মনজুর আহমদ, উপজেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক এমএ কুদ্দুস, সহ-সভাপতি শহীদ উল্লাহ প্রধান, সিরাজুল ইসলাম লস্কর, ছেঙ্গারচর পৌর মেয়র রফিকুল আলম জজ, উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাহান প্রধান, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি দেওয়ান জহির, উপজেলা মহিলা আ’লীগের সভানেত্রী পারভীন শরীফ, সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাম্মেল হক, জেলা পরিষদের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়ক মিনহাজ উদ্দিন খান, উপজেলা যবলীগের সদস্য রেদোয়ান খন্দকার, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি এমএ কুদ্দুস, সাধারন সম্পাদক আল মামুন সরকার, উপজেলা ছাত্রলীগের সদস্য আমিনুল ইসলাম আমিন, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মানিক মোল্লা, সাধারন সম্পাদক মেহেদী হাসান কাজল, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি গোলাম মোস্তফা প্রমুখ।

এসময় উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হাওলাদার, মোহনপুর ইউপির স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সামছুল হক চৌধুরী বাবুল, ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন সরকার দুলু’সহ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Facebook Comments

Check Also

সকল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শতভাগ করতে হবে : আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান

সজীব খান : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের মাস্ক, সাবান, ব্লিচিং, …

vv