ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রবাস / সৌদি আরবে নিহত শাহরাস্তির ইমানের মায়ের কান্না থামছে না

সৌদি আরবে নিহত শাহরাস্তির ইমানের মায়ের কান্না থামছে না

প্রিয় চাঁদপুর : ৩ বছর পর আগামী জানুয়ারিতে বাড়ি ফিরছে ইমান। মা-বাবা ও বোনদের মাঝে খুশি যেন উপচে পড়ছে। একমাত্র পুত্রের জন্য কয়েক যায়গায় কনেও দেখা হয়ে গেছে সালেহা বেগমের। ক্যালেন্ডারের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষায় থাকেন মা। ঘরদোর পরিপাটি রাখেন, ইমানের আসার সময় যে ঘনিয়ে এলো।

১৪ নভেম্বর সৌদি আরবে সকাল ১০ টা। সেখানকার আল জুফ শহরে আলু উঠানোর একটি মেশিনে কাজ করছিল ইমান। মেশিনটি পরিষ্কার করার সময় হঠাৎ হাত আটকে যায় তার। তারপর মাথায় আঘাত লাগে। সহকর্মীরা ছুটে এসে মেশিন অফ করে, কিন্তু তার আগেই সব শেষ। চুর্ণ হয়ে যায় সালেহা বেগমের সব স্বপ।

বাংলাদেশ সময় তখন বেলা ১টা। মুঠোফোনে খবর আসতেই গগন বিদারি আর্তনাদে মুর্ছা যান তিনি। পাশে নির্বাক হয়ে পড়েন পিতা আবুল হাশেম গাজী। আত্মীয় শুভার্থীর ভীড় জমে শাহরাস্তি উপজেলার দারুণকরা গাজী বাড়িতে। কে যেন বলাবলি করছে, ইমান ঠিকই দেশে ফিরবে। হয়তো অন্যভাবে। আবুল হাশেম গাজী ও সালেহা দম্পতির ২ কন্যার মাঝে একমাত্র পুত্র ইমান (২৬) । সমৃদ্ধ জীবনের প্রত্যাশায় তাকে সৌদি আরবে পাঠিয়েছেন ৩ বছর আগে।

ভালোই চলছিল তাদের। আল জুফ শহরে জাল আল-সেহরা কোম্পানীতে কাজ করতো ইমান।

১০ম শ্রেণী পর্যন্ত পড়াশুনা করেছে সে। সংসারের চাকা সচল করতে, রেমিটেন্সের প্রবাহ আরও গতিশীল করতে অল্প বয়সেই পাড়ি জমিয়েছে সুদূর প্রবাসে। তথ্য প্রযুক্তির কল্যানে দূরে থাকলেও মা-বাবা ও বোনদের সাথে প্রতিদিনই কথা হতো। দেখা হতো ভার্চুয়াল জগতে।

বৃহস্পতিবার বিকেল হতেই ইমানদের বাড়িমূখি জনতার স্রোত যেন বেড়েই চলছে। আগত স্বজনরা চেষ্টা করছেন মা-বাবা ও বোনদের সান্ত্বনা দিতে। বিদেশে অবস্থানরত অন্যান্য আত্মীয়রা চাচ্ছেন যত দ্রুত সম্ভব ইমানের লাশটি দেশে পাঠনোর।
সৌদি প্রবাসী মালরা গ্রামের নিকটাত্মীয় মোঃ মনির হোসেন মুঠোফোনে জানান, যে মেশিন দুর্ঘটনায় ইমান মারা গেছে সেটির চালক শাহরাস্তি উপজেলার দেবকরা চিতিলা পাড়ার মোস্তফা কামাল। সে ইমানকে মেশিন পরিষ্কার করতে বলে। তারপর চালকের ফোনে একটা কল আসে, সে হেডফোনে কথা বলতে বলতে ইমানের কথা ভুলে যায় এবং ভুলবশত মেশিনটি চালু করে দেয়। হেডফোন কানে থাকার কারনে ইমানের চিৎকার মোস্তফার কানে পৌছায়নি। পাশে কাজ করা অন্য এক লোক দৌড়ে চিৎকার করে মোস্তফাকে দিয়ে মেশিন অফ করায়।

ইমানের প্রতিবেশী বলাখাল মুকবুল আহমেদ কলেজের প্রভাষক নূর মোহাম্মদ জানান, বাবা হাশেম গাজীর মতো একজন নির্ঝঞ্জাট ও শান্ত প্রকৃতির মানুষ ইমান। ছোটবেলায় আমি তাকে পড়িয়েছি। এমন শান্ত স্বভাবের একজন যুবককে হারিয়ে পুরো গ্রামই যেন শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছে।

ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার মোঃ জাকির হোসেন জানান, হাশেম গাজী একজন কৃষিজীবি মানুষ। অর্থনৈতিক সচ্ছলতার আশায় একমাত্র পুত্র ইমানকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। ছেলেটার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে উপার্জনক্ষম আর কেউ রইলো না।

ইমানের মতো লক্ষ লক্ষ প্রবাসী প্রতিনিয়ত তাদের শ্রম-ঘামে এদেশের অর্থনীতির চাকাকে গতিশীল রাখছে। সরকার ও সৌদি দুতাবাসের সহায়তায় কোন প্রকার হয়রানি ছাড়া যাতে তার লাশটি দেশে পাঠানো হয় সে অনুরোধ করেছেন ইমানের স্বজন ও এলাকাবাসী।

Facebook Comments

Check Also

সকলের সহযোগিতায় যে কোন অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব : শাহরাস্তি ওসি শাহআলম

নোমান হোসেন আখন্দ : শাহরাস্তি থানা পুলিশ ও কমিউনিটি পুলিশিংয়ের উদ্যেগে মাসিক ওপেন হাউজ ডে …

vv