ব্রেকিং নিউজঃ
Home / সাহিত্য / সাংবাদিকরা আরো প্রতারিত হউক…!
লেখক: সাইফুল ইসলাম সিফাত

সাংবাদিকরা আরো প্রতারিত হউক…!

এক স্কুল পরিদর্শক পরিদর্শনের সময় সাথে নিয়ে এনেছিলেন যে কুকুরটি, সেই কুকুরের তিনটি পা ছিল। আর সেই কুকুরের জন্য খরচ হতো মাসে ৭৫ টাকা। পন্ডিত খুব আক্ষেপের সাথে ভেবেছিলেন, তার বেতন হলো, সাহেবের তিন পা ওয়ালা কুকুরের একটি পায়ের সমান!!!

আ্যমেনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, অধিকার, হিউমেন রাইটস ওয়াচ সহ এরকম অনেক সংগঠনের রিপোর্ট অনুযায়ি পৃথিবীতে গত ১৫ বছরে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ৬৩৯ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে। পুলিশ, রাজনীতিবীদ, বিভিন্ন সন্ত্রাসীদের হাতে কমপক্ষে ৩ হাজার জন সাংবাদিক আহত হয়েছে। পঙ্গু হয়েছে আরো প্রায় ৭শ জন।

বাংলাদেশে গত ১৫ বছরে ১৮ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছে। পুলিশ, রাজনীতিবীদ, সন্ত্রাসীর হাতে নির্যাতন আর আহত হয়েছে কমপক্ষে ১ হাজার জন সাংবাদিক। একটি বিষয় কোন সময়েই প্রকাশিত হয়নি, যা হলো- পুলিশ, রাজনীতিবীদ আর সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি, সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও এরকম ক্ষমতার অধিকারীদের হাতে বাংলাদেশের সকল সাংবাদিক মানসিক, অর্থনৈতিকভাবে নির্যাতিত এবং প্রতারিত।

বাংলাদেশে গনমাধ্যম নিয়ন্ত্রন ও তত্বাবধায়ন করার জন্য বাংলাদেশে তথ্য মন্ত্রনালয়, প্রেস কাউন্সিল, বিভিন্ন রকম সাংবাদিক সংগঠন এবং নির্দিষ্ট কিছু আইন রয়েছে। সংবাদপত্র, রেডিও ষ্টেশন, টেলিভিশন এবং অন লাইন সংবাদ মাধ্যম তৈরীর জন্য বিধি রয়েছে।  দেশের নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী সহ সকল প্রকার মানুষ এবং প্রানীর অধিকার সংরক্ষন সহ দেশের সম্পদ আর স্বাধীনতা রক্ষার্থে সংবাদমাধ্যমকে ভূমিকা রাখতে হবে, এমন নিয়ম রয়েছে। সকল সংবাদমাধ্যমকে  শ্রম আইন বাধ্যতামূলক মেনে চলতে হবে।

বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, হাসানুল হক ইনু। হাসানুল হক ইনু একজন প্রগতিশীল, প্রতিভাবান ও একজন বাম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার অতীত কর্মকান্ড মানুষের কাছে অতি গ্রহনযোগ্য। তিনি শোষনমুক্ত, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার রাজনীতি করতেন। সেই প্রগতিশীল একজন রাজনীতিবীদ দেশের তথ্য মন্ত্রনালয়ের দায়িত্বে নেওয়ায় দেশের সকল গনমাধ্যমের সাংবাদিক, কর্মকর্তা কর্মচারীরা স্বাগত জানায়। মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই করা এমন একজন ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যমের সকল স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায় বিচার করবেন এমন প্রত্যাশা ছিল সকল গনমাধ্যম কর্মীর।

সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের এখনো তদন্ত শেষ হয়নি। সরকারের পুলিশ প্রশাসন, গোয়েন্দা পুলিশ, সিআইডি, র‌্যাব সহ সকল আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করা বাহীনি এমন একটি স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত কাজ এতদিনে শেষ করেনি। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন বলেছিলেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। ক্ষোভের সাথে বলতে হয়, আসলে কত দিন, বছর, মাস শেষ হলে ৪৮ ঘন্টা হয় ?

সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকদের নির্যাতনের সকল ব্যবস্থা করা হয়েছে বাংলাদেশে। সরকার, প্রভাবশালী কোন ব্যক্তি, আদালত বা এরকম কেউ ভুল করলে, অন্যায় বা অবিচার হলে তা লেখা যাবে না। লিখলে হয় নির্যাতন, মৃত্যু নয়তো আদালত অবমাননা মামলা হবে। তাহলে বাংলাদেশের সংবাদ মাধ্যম কি আসলেও স্বাধীন ?

বাংলাদেশের চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে কে সাংবাদিকতা করবেন, কে সম্পাদক হবেন, সম্পাদক হতে হলে কি কি যোগ্যতা থাকা দরকার এমন আইন থাকলেও, সরকারের কিছু অসাধু লোককে ম্যানেজ করে হাজার হাজার পত্রিকা, টেলিভিশন, অনলাইন পত্রিকা তৈরী হয়েছে। সপ্তম সংবাদপত্র ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ি, একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক হতে গেলে কমপক্ষে ১০ বছর সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে এবং অষ্টম সংবাদপত্র ওয়েজ বোর্ড অনুযায়ি ১৫ বছর সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকলে সম্পাদক হওয়া যাবে।

“ক” শ্রেনীর দুটি পত্রিকার সম্পাদক প্রভাবশালী দুই ব্যক্তি। বাংলাদেশের কোন নাগরিক তাদের দুই জনকে সাংবাদিকতা করতে দেখেছেন এমন ইতিহাস নাই। রাষ্ট্রদ্র্র্র্র্রোহী লেখার কারনে মাহামুদুর রহমান বর্তমানে জেলখানায় রয়েছেন। আর একজন বহাল রয়েছেন পত্রিকার সম্পাদক হিসাবে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে মানুষের লাশ আর নারীর সভ্রমের মাধ্যমে।

আমি আমার সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে যদি বলি, তবে হয়তো আমাকেও আদালত অবমাননার মামলা অথবা কারো হাতে খুন হতে হবে। তারপরেও কোন ভয় না পেয়ে আজ একজন গনমাধ্যম কর্মী হিসেবে আমাদের অবস্থান তুলে ধরছি।

বাংলাদেশে সব কিছুর জন্য কিছু আইন রয়েছে। আর আইনের মাধ্যমে সব কিছু পরিচালিত হয় বলে আমার বিশ্বাস ছিল। কিন্তু এ বিশ্বাস আজ নষ্ট হয়ে গেছে। সর্বশেষ ঘটে যাওয়া ঘটনা থেকে বলছি-

গত ২০ জুলাই আমাকে একটি পত্রিকা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। বিজ্ঞ সম্পাদক সাহেব ৪ লাইনের একটি অব্যাহতি পত্র আমার কাছে পাঠান। বাংলাদেশের সংবাদপত্র আইন অনুযায়ি, ১। আমাকে অব্যাহতি দেওয়ার কোন কারন তিনি ব্যাখ্যা করেননি। ২। আত্মপক্ষ সমর্থনের কোন সুযোগ দেননি। ৩। আমার বকেয়া বেতন তারা পরিশোধ করেননি। ৪। ৮ম সংবাদপত্র ওয়েজ বোর্ড আইন (অবশ্য পালনীয়) অনুযায়ি, জুলাই/২০১৫ সাল থেকে পরবর্তী ১৫ মাস আমার ন্যায্য পাওনা শতকরা ৫০ ভাগ মহার্ঘ ভাতা প্রদান করেন নাই। ৫। সেপ্টেম্বর/২০১৩ সাল থেকে আমাকে ৮ম সংবাদপত্র আইন (অবশ্য পালনীয়) অনুযায়ি বেতন স্কেল দেওয়া হয় নাই। ৬। কয়েকবার সড়ক দুর্ঘটনা এবং সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতিত হওয়ার পরেও আইন অনুযায়ি আমাকে সুবিধা দেওয়া হয় নাই। ৭। প্রত্যেক সংবাদপত্রের কর্মীরা গোষ্ঠি বীমার অধিকার রাখেন, আমাকে তাও দেওয়া হয় নাই। ৭। অতি গুরুত্বপূর্ন সংবাদ যেমন (ক)। এনজিও সংগঠনের কিছু অসাধু কর্মচারী কর্মকর্তা টাকআত্মসাৎ, (খ)। দুর্নীতি, (গ)। ইসলামিক জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা, অর্থদাতা, তাদের অবস্থান ও কর্মকান্ড সম্পর্কিত সংবাদ ছাড়াও আরো অনেক জনগুরুত্বপূর্ন সংবাদ তারা প্রকাশ করে নাই। এনজিও’র বিরুদ্ধে কোন সংবাদ না করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়। ৮। কর্মরত সকল সংবাদ কর্মীর জন্য ৮ম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন করা হয়েছে, এরকম মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারের কাছ থেকে (ক)। কাগজ আমদানির ভর্তুকি, (খ)। সরকারি বিজ্ঞাপন পাওয়া, (গ)। বিজ্ঞাপনের মূল্য তালিকা আদায় করে আসছে।

আমি জেলা শহরে বাস করি। সংবাদপত্রের আইন অনুযায়ি ৩য় গ্রেডে আমাকে নিয়োগ দেয়া হয়। ৮ম সংবাদপত্র ওয়েজ আইন অনুযায়ি আমাকে বেতন স্কেল প্রদান করা হলে আমার অনেক টাকা বেতন হবে, এমন ঈর্ষার কারনে আমাকে সে বেতন স্কেল প্রদান করা হয় নাই। বিশিষ্ঠ সম্পাদক সাহেব (?) অব্যাহতি পত্র প্রত্যাহারের জন্য অনুরোধ করি। অবৈধ অব্যাহতি পত্র প্রদান ও আমার প্রতি মানবাধিকার লংঘনের কারনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলে অভিযোগ করি। প্রেস কাউন্সিল তাদেরকে সাংবাদিকের ন্যায্য পাওনা ও সংবাদপত্র আইন মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে একটি চিঠি দিলেও, তার কোন গুরুত্ব দেয়নি। বাংলাদেশের তথ্য মন্ত্রনালয়ে একই রকম অভিযোগ দাখিল করার প্রায় ৫ মাস পরেও তার কোন প্রতিকার পাইনি। টাকার অভাবে হাই কোর্টে মামলা করতে পারিনি। স্থানীয় আদালতে দুইটি মামলা করলেও বিচার পাবো বলে মনে হয় না। মাননীয় তথ্য মন্ত্রীকে আমি পোষ্ট অফিসের মাধ্যমে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক, টুইটার এর মাধ্যমে খোলা চিঠি প্রদান করেছি। এখন পর্যন্ত তথ্যমন্ত্রী কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি।

আমি একজন পেশাদার সাংবাদিক। এই বেতন দিয়েই সংসার নির্বাহ করি। এই বেতন দিয়েই সন্তানদের পড়াশোনা করাই। আমার কোন ব্যাংক ব্যালেন্স নাই। টাকার কারনে সন্তানদের পড়াশোনার ব্যাঘাত হয়েছে। অত্যন্ত অমানবিক ভাবে জীবন নির্বাহ করতে বাধ্য হচ্ছি।

গত বছর “বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবসের” প্রতিবাদ্য বিষয় হলো “সাংবাদিকতা আরো প্রসারিত হউক”।

আজ খুব বলতে ইচ্ছা করছে “বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবসে, কোন মুক্ত আলোচনা আপনারা করবেন, কার মুক্তির জন্য আপনারা কাজ করবেন? দেশের গনমাধ্যমের সম্পাদকদের দ্বারা কর্মরত সাংবাদিকরা যে কত নির্যাতিত হয়, তার কোন খোজ কি আপনারা রাখেন? সম্মানিত তথ্য মন্ত্রী-আপনার মন্ত্রনালয়ের কোন আইন কোন সংবাদ মাধ্যম পালন করে না এবং মেনে চলে না। আপনি সকল সংবাদ মাধ্যম সম্পর্কে অবহিত। হয়তো সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদকদের আপনি ভয় পান, নয়তো সম্পাদকদের এমন দুর্নীতি করতে আপনি সহযোগিতা করছেন? আপনার অতীত রাজনৈতিক কর্মকান্ড এবং আপনার বর্তমান অবস্থান বিপরীত। সংবাদ মাধ্যমে কর্মরত কোন সাংবাদিকের স্বার্থ রক্ষা করতে আপনি ব্যার্থ হয়েছেন।

তাই আগামী বছরের “বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবসের” প্রকৃত প্রতিবাদ্য আমি দিতে চাই “সাংবাদিকরা আরো প্রতারিত হউক”।

অতি ক্ষোভ জন্ম নিয়েছে আমার মধ্যে। বাংলাদেশের কোন মানবাধিকার সংগঠন সাংবাদিকদের জন্য কিছুই করেনি। চলমান অবস্থার প্রেক্ষিতে এটা বলা যায় যে, একটা কুকুর আর একজন সাংবাদিকের মধ্যে সামান্য একটু পার্থক্য আছে, তা হলো, রাত জেগে বা দিনের বেলাতেও পাহারা দেয়া কুকুরকে যদি গাড়ি চাপা দিয়ে মেরে কেউ ফেলে, তাহলে ক্ষতবিক্ষত কুকুরটির মৃতদেহ দেখে মানুষ নাক ঢেকে চলে যায়। পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশন বা হরিজন সম্প্রদায়ের কেউ এসে সেই মৃত কুকুরটির দেহ টেনে নিয়ে মাটি চাপা দেয়। সাংবাদিকদের বেলায়-কোন সাংবাদিক হত্যার শিকার হলে হয়তো দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বলবেন ৪৮ ঘন্টার মধ্যে খুনিকে বের করা হবে? তারপরে হয়তো সাংবাদিকের সেই মৃতদেহটি ধর্মীয় নিয়ম অনুযায়ি দাফন করা হয়। আজ পর্যন্ত কোন তদন্তকারী সংস্থা হত্যাকান্ড কে করেছে, তা বের করতে পারিনি। খুলনায় একজন মফস্বল সাংবাদিক হত্যাকারীর ফাঁসী হলেও এরপর সাংবাদিক হত্যার কোন বিচার এখন পর্যন্ত স্বজনরা পায়নি। সাংবাদিক নির্যাতনের কোন মামলায় এখন পর্যন্ত কারো সাজা হয়নি কিংবা গ্রেপ্তারের নজীর খুবই কম দেখা গেছে। সংবাদপত্র মালিক এবং সম্পাদক বিশেষ দয়া করে যদি কোন সাংবাদিকের বেতন বৃদ্ধি করে তাহলেই হয়তো সেই সাংবাদিকের বেতন বৃদ্ধি হয়। আইন অনুযায়ি কোন সাংবাদিক বেতন এবং অন্যান্য সুবিধা পায় না। মানবাধিকার লংঘন হলে বিচার পায় না। সরকার কখনো সংবাদপত্র বা কোন মাধ্যমকে সরকারের আইন, প্রেস কাউন্সিল আইন, সংবাদ কর্মী চাকরী বিধি মানতে বাধ্য করার জন্য কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি!

কিছুদিন আগে মাননীয় তথ্য মন্ত্রী তার এক বক্তব্যে বলেছেন, “সাংবাদিকদের কোন সমস্যা হলে তিনি নিজ উদ্যোগে ব্যবস্থা গ্রহন করবেন”। তাই মাননীয় তথ্য মন্ত্রীকে বলতে চাই, সাংবাদিক দম্পতির হত্যার বিচার কি করতে পারবেন? কোন সংবাদপত্র তথ্য মন্ত্রনালয়ের কোন আইন মেনে চলে না, সংবাদ মাধ্যমের সম্পাদকদের আইন মান্য করতে বাধ্য করাতে পারবেন? সাংবাদিকতা না করেও সম্পাদক হয়েছেন, তাকে সম্পাদক থেকে সরাতে পারবেন? সম্পাদকদের দ্বারা সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়, এসব নির্যাতনের কোন বিচার করতে পারবেন? সংবাদপত্রের সম্পাদকরা আপনার মন্ত্রনালয়ে মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি সুবিধা আদায় করছে, এসব তদন্ত করে কোন ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারবেন? হয়তো বলবেন কে স্বাক্ষী দিবে? আমি একজন স্বাক্ষী, তাই আপনার সততা প্রমান করতে “আমার সংবাদের” বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আমি করেছি, তার যাচাই করে, বিচার করতে পারবেন? তাদের বিরুদ্ধে কোন কিছুই করতে পারবেন না মাননীয় মন্ত্রী। গনতন্ত্র আর সমাজতন্ত্রের নামে আপনিও পুঁজিবাদীদের একজন হয়ে গেছেন!

তাই বাংলাদেশে সকল প্রানীর জন্য মানবাধিকার লংঘনের প্রতিকার থাকলেও, সাংবাদিকের মানবাধিকার নাই।

মাননীয় প্রধান মন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, সরকার দেশ ও মানুষের জন্য এত ভালো কাজ করছে, তারপরেও সংবাদমাধ্যম সরকারের সমালোচনা করছে এবং বিএনপি সহ বিরোধীদলের জন্য কাজ করছে। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকে বলতে চাই, আপনি অনেক সংবাদপত্র, টেলিভিশন আর রেডিও ষ্টেশন নির্মানের অনুমতি দিয়েছেন এটা সত্য। আপনি আইন প্রনয়ন করে সাংবাদিকদের উন্নত জীবন দিতে চেয়েছেন এটাও সত্য। কিন্তু মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, আপনাদের তৈরী করা এসব আইন কোন গনমাধ্যম কি মানছে? এসব আইন তৈরী করা পরে কেউ আইন মানছে নাকি মানছে না, তার কি কোন তদারকি আপনারা করছেন? সংবাদমাধ্যম সম্পাদকরা একটি সংবাদমাধ্যম একা পরিচালনা করতে পারে না। সে সংবাদ মাধ্যমে অনেক সংবাদ কর্মী কাজ করে। আপনি সংবাদকর্মীর জন্য আইন তৈরী করেছেন সত্যি, কিন্তু যারা আইন মানছে না, আপনি তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছেন! দেশের সকল স্থান থেকে সাংবাদিকরাই সরকারের পক্ষে বা বিপক্ষে সংবাদ প্রেরন করে। সাংবাদিকরা দেখছে, যে সকল সংবাদ মাধ্যম এবং সম্পাদকরা আপনার আশপাশে রয়েছে, তাদের দ্বারাই সাংবাদিকরা নির্যাতিত। তাহলে আপনি কি করে আশা করেন, আপনার সরকারের পক্ষে সাংবাদিকরা লিখবে? আপনি হয়তো যুক্তি দিয়ে বলবেন, কোন সংবাদ কর্মী কোন সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে না। আপনি ঠিক বলেছেন, কারন যদি কোন সংবাদ কর্মী কোন সম্পাদকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তাহলে, সেই সংবাদ কর্মীর চাকরী থাকবে না। আপনার তথ্য মন্ত্রনালয়, আপনার অধীনের প্রেস কাউন্সিলের কোন আইন না মেনেই, কোন কারন ছাড়াই সাংবাদিকের চাকরী গেলেও আপনি কিছুই করবেন না, কারন সেই সব সম্পাদকরা আপনার কাছের লোক। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, এমন আইন এবং ঘোষনা করার দরকার নাই, যে সকল আইন কেউ মানবে না। বরং সে সকল আইন বাস্তবায়ন না হওয়ার ফলে আইনের প্রতি মানুষের আস্থা থাকে না। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী সম্পূর্ন বেআইনী ভাবে আমার সংবাদ সম্পাদক হাশেম রেজা আমাকে চাকরী থেকে অব্যাহতি দিয়েছে, পারবেন তার বিচার করতে? হাশেম রেজা সাংবাদিকতা না করেও সম্পাদক হয়েছেন? পারবেন আপনাদের তৈরী করা আইন বাস্তবায়ন করতে? পারবেন তাদের কাছে কৈফিয়ত নিতে যে, এনজিও, এমএলএম, মাইক্রো ক্রেডিট দুর্নীতি আর ইসলামিক জঙ্গী সংগঠনের তৎপরতা, অর্থদাতা এবং কর্মকান্ডের সংবাদ কেন তারা ছাপেনি? আপনার কি একবারো মনে হয়নি যে, দেশে সন্ত্রাস, ইসলামিক জঙ্গী এদের কে আশ্রয় দেয়? পত্রিকায় যদি এসব সংবাদ ছাপানো হতো তবে কি দেশে ইসলামিক জঙ্গী, মৌলবাদ আর সন্ত্রাস-দুর্নীতি কি থাকতো?

দেশে ব্যাঙের ছাতার মত পত্রিকা, টেলিভিশন, রেডিও, অনলাইন পত্রিকা প্রতিষ্ঠা হয়েছে। তথ্য মন্ত্রনালয় তা অনুমোদন দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ কি সাংবাদিকদের বেতন ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদান করে? আপনি সব জানেন, তার পরেও সংবাদ মাধ্যমের মালিক, সম্পাদকদের কোন দোষ দেন না। আপনি দোষ দিচ্ছেন সাংবাদিকদের। দেশে হলুদ সাংবাদিকতা বেড়ে গেছে। কে এসব হলুদ সাংবাদিক তৈরী করেছে?

আমরা যারা প্রগতিশীল মানসিকতা নিয়ে, সততার সাথে সংবাদ মাধ্যমে কাজ করি, তারা অনেক বেশি নির্যাতিত।

তাই গত বছরের “বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য “সাংবাদিকতা আরো প্রসারিত হউক” সাংবাদিক হিসাবে এমন উক্তি প্রত্যাখান করছি। আগামী “বিশ্ব মুক্ত গনমাধ্যম দিবসের প্রতিপাদ্য দেয়া হোক “সাংবাদিকরা আরো প্রতারিত হউক”। খুব কষ্ট নিয়েই বলছি, কুকুর আর সাংবাদিকের মধ্যে সামান্য একটু পার্থক্য রয়েছে, কুকুর মারা গেলে, মৃত কুকুরের দেহকে মাটি চাপা দেয়া হয়, আর সাংবাদিক মরলে কখনো কখনো সভা, সেমিনার, ৪৮ ঘন্টার মধ্যে হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করা হবে, এমন বলার পরে, সাংবাদিকের মৃত দেহটিকে কেউ আগুনে পুড়িয়ে ফেলেন আবার কেউ মাটি চাপা দেন।

দেশের চতুর্থ স্তম্ভের যদি এই অবস্থা হয়, তবে দেশ এখন কোথায় যাচ্ছে, তা বলবে কে?

বলার কিছু নাই, কারন আপনারা কেউ সাংবাদিকের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করবেন না। তবে খুব মিনতি করে বলছি, অনুগ্রহ করে “কুকুর আর সাংবাদিক” এক করে দেখবেন না।

লেখক: সাইফুল ইসলাম সিফাত, বিজয় টিভি, চাঁদপুর প্রতিনিধি, ঊ-সধরষ: ংরভধঃৎবঢ়ড়ৎঃবৎ@মসধরষ.পড়স

Facebook Comments

Check Also

সাহিত্য মঞ্চের উদ্যোগে চাঁদপুরে শতাধিক পরিবারকে ঈদ উপহার প্রদান

স্টাফ রিপোর্টার : লেখকগণ কেবল সাহিত্যকর্মেই মানুষ ও মানবতার কথা বলেন তা কিন্তু নয়। পৃথিবীর …

vv