ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / সংক্রমণের ঝুঁকি সত্ত্বেও মাঠে কাজ করছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ

সংক্রমণের ঝুঁকি সত্ত্বেও মাঠে কাজ করছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ

মাসুদ হোসেন : সংক্রমণের ঝুঁকি সত্ত্বেও ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ঠেকানোর যুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। করোনায় মাঠে কাজ করছেন জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রায় দেড় হাজর সদস্য। করোনার সংক্রমণ মোকাবিলায় সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে চিকিৎসক-নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীদের মতোই ভূমিকা পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।
রাত-দিন এক করে জেলার আট থানা এলাকায় সার্বক্ষণিক দায়িত্বপালন করছে পুলিশ। এতে দিনদিন চাঁদপুর জেলা পুলিশেও বাড়ছে করোনার সংক্রমণ ঝুঁকি। দায়িত্বপালনে গিয়ে এরই মধ্যে জেলার ৫৯ জন পুলিশ সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫ জন। ২ জন রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীনসহ অন্যান্য সদস্যরা আইসোলেশনে ভর্তি আছেন।
সোমবার (২২ জুন) চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে জানান, করোনা মহামারী চলাকালীন গত তিন মাস ধরে চাঁদপুর জেলা পুলিশ বিরতিহীনভাবে সম্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে। চাঁদপুর জেলা পুলিশের প্রায় দেড় হাজার সদস্য নিজের জীবন বাজি রেখে এই যুদ্ধে লড়ে যাচ্ছে। যতদিন এই মহামারী শেষ না ততদিনে আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যুদ্ধে লড়ে যাব। এই যুদ্ধে আমাদের অনেক সদস্যই করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, যথাযথ চিকিৎসা এবং সুদৃঢ় ও মনোবলের কারণে তারা আবার সুস্থ হয়ে পুনরায় এই যুদ্ধে যোগ দিয়েছে!
চাঁদপুর জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার এবং জেলা পুলিশের অভিভাবক মাহবুবুর রহমান পিপিএম বার এর সুযোগ্য নেতৃত্বে জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য মাঠ পর্যায়ে শতভাগ সম্পৃক্ত থেকেও অত্যন্ত সফলতার সাথে নিজেদেরকে সুস্থ রাখতে পারছে এবং করোনা যুদ্ধে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছে!
থানা ফাঁড়ির পুলিশিং কার্যক্রমের ধরন শতভাগ মাঠ পর্যায়ের। তদুপরি করোনা মহামারীর এই চলমান যুদ্ধে যে সকল অতিরিক্ত কার্যক্রম পুলিশকে করতে হচ্ছে সেগুলোও মাঠ পর্যায়ের এবং ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিনিয়ত এই থানা ফাঁড়ির পুলিশ সদস্যরা পেট্রোলিং করছে, কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করছে, মোবাইল কোর্ট কে সহায়তা করছে, বাজার মনিটরিং করছে, চেকপোস্ট করছে, জনগণকে সচেতন করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে, বিতরনে নিরাপত্তা দিচ্ছে এবং এর বাইরে আছে নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজ, মামলা তদন্ত আসামি গ্রেফতারসহ বিভিন্ন অনুসন্ধান মানুষের অভিযোগ গ্রহণ এবং সমাধান, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ইত্যাদি।
মাঠ পর্যায়ে প্রতিদিন প্রতিনিয়ত এতসব কার্যক্রম চলমান আছে পুলিশের, এবং অত্যন্ত সুচারুরূপে এই সকল কার্যক্রম সম্পন্ন করছে পুলিশ। পুলিশে আক্রান্তের সংখ্যা তার ব্যস্ততা কাজের ধরন এবং মাঠের সাথে এনগেজমেন্টের বিবেচনায় বরং অনেক কম। যারা আক্রান্ত হয়েছে তাদের প্রতি জেলা পুলিশ কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ নার্সিং এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা অব্যাহত ছিল এবং তাদের মনোবল ধরে রাখার জন্য মাননীয় পুলিশ সুপার সবকিছুই করেছেন।
যে সকল কারণে শতভাগ মাঠ পর্যায়ে কাজ করেও পুলিশ সদস্যরা সুস্থ আছে: ১. পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স এর এসওপি প্রণয়ন এবং জেলা পুলিশের সদর দপ্তর অর্থাৎ পুলিশ অফিস থেকে সার্বক্ষণিক গাইডেন্স এবং মনিটরিং। ২. প্রতিটি থানা ফাঁড়ির অফিসার ফোর্সকে ক্লাস্টারে ভাগ করা। ৩. রোটেশন করে ডিউটি প্রবর্তন করা। ৪. পৃথক আইসোলেশন সেন্টারের ব্যবস্থা করা। ৫. থানা ফাঁড়ির ফোর্স এর জন্য প্রয়োজনীয় আবাসিক হোটেল ভাড়া নিয়ে সেখানে আবাসনের বিকল্প ব্যবস্থা করা। ৬. প্রতিদিন থানা ফাঁড়ির সদস্যদের তাপমাত্রা মাপার ব্যবস্থা করা। ৭. থানাগুলোতে পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে বিনামূল্যে চায়ের ব্যবস্থা করা এবং ক্যান্টিন চালু যাতে করে পুলিশ সদস্যরা বিনা কারণে বাইরের হোটেল-রেস্তোরাঁয় না যায়। ৮. গণপরিবহনে যাতায়াত নিষিদ্ধ করা। ৯. নিয়মিত রোল কলে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনাবলীগুলো শোনানো এবং বারংবার ব্রিফিং দেওয়া। ১০. জেলা পুলিশের মেডিকেল সেন্টার থেকে জেলার প্রতিটি সদস্যের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী এবং নিয়মিত ওষুধ প্রদান করা। ১১. পুলিশ সুপারের ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কয়েক দফায় হ্যান্ড স্যানিটাইজার মাস্ক গ্লাভস ও গগলস প্রদান। ১২. প্রতিটি পুলিশ সদস্যের মনোবলের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে এবং যে কোন পুলিশ সদস্য কে প্রয়োজন মনে করলেই সেখানে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে তার সর্বোচ্চ সুচিকিৎসার জন্য। ইতিমধ্যেই দুজন সদস্যকে সেখানে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া গত এপ্রিল, মে এবং জুন মাসের এই পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানা-ফাঁড়িতে কর্মরত পুলিশ সদস্যরা কি পরিমাণ মাঠ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন তার একটি পরিসংখ্যান আপনাদের সুবিধার্থে দেয়া হল। এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহেদ পারভেজ চৌধুরী সোমবার রাতে এ প্রতিবেদককে বলেন, সংবাদ ব্রিফিং এ করোনা যুদ্ধে কাজ করা জেলা পুলিশের কার্যক্রম তুলে ধরেছি। জেলার পুলিশ সদস্যরা করোনার মধ্যে নিরলসভাবে কাজ করেও আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম।
Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে মৃত্যু এবং আক্রান্ত বেড়েই চলেছে

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরে করোনায় আক্রান্ত এবং মৃত্যু দুটোই পাল্লা দিয়ে বাড়ছে। এর মধ্যে আইসোলেশন …

vv