ব্রেকিং নিউজঃ
Home / মতামত / শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে অনেককিছু শিখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি : জুয়েল হাজী

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধে অনেককিছু শিখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি : জুয়েল হাজী

করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯ বর্তমান বিশ্বের এক আতঙ্কের নাম। এ মহামারি সারা বিশ্বকে স্থবির করে দিয়েছে। বিশ্বের ১৬০ দেশেরও অধিক দেশ তাদের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। কোভিড-১৯ এর জন্য সারা বিশ্বের ৮৭ শতাংশ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং ক্ষতির সম্মুখীন দিকে যাচ্ছে, যা অত্যন্ত চিন্তা ও ভাবনার বিষয়। বাংলাদেশের মতো একটি দেশের জন্য যা অত্যন্ত আতঙ্কের বিষয় তো বটে!
গত বছর ১৭ মার্চ ২০২০ এ দেশে প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসে। সরকার বেশ কয়েক দফায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে বিবেচনা করলেও দেশে মহামারি পরিস্থিতির কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি। বরং দফায় দফায় বন্ধ থাকার মেয়াদ বেড়েছে। দীর্ঘদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বন্দি এ সময়ে শিশুরা মোবাইল ও ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের মাঝে অনলাইন গেইমের প্রবনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, সে সাথে শিক্ষার্থীদের মাঝে শারীরিক চর্চার গুণাবলি নষ্ট হচ্ছে। এতে অদূরভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের অনেক ক্ষতির সম্মুখে পড়তে হবে৷
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে গ্রাম অঞ্চলে অধিক হারে বাল্যবিবাহ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গতকয়েক মাসের ধরে শিক্ষার্থীদের মাঝে হতাশা দেখা যাচ্ছে এবং আত্মহত্যার দিকে তারা ধাবিত হচ্ছে৷ বিশেষ করে অনার্স, মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের এই সময় বেশি ক্ষতিগ্রস্তের মুখে পড়তে হচ্ছে, একদিকে চাকুরীর বয়সসীমা চলে যাচ্ছে, এতে তাদের মাঝে বিভিন্ন মানুষিক চাপ বাড়ছে। এতে তারা যেমন বেকারত্বের মুখে পড়তেছে তেমনিভাবে তারা বিভিন অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছে। তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সবচেয়ে হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের অভিবাবকরা।
একটা দেশের উন্নত হতে হলে তার আগে শিক্ষায় উন্নত হতে হবে। যদি এমনভাবে চলতে থাকে, তাহলে আমাদের ভবিষ্যৎ খুবই খারাপ দিকে যাচ্ছে। বেকারত্ব – নেশাগ্রস্তের সংখ্যা সমাজে বেড়ে গেলে সমাজ থেকে মূল্যবোধ কমে যাবে সাথে সমাজে অপরাধ চক্র বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করি।
আমরা শিক্ষার্থী, আমরা আমাদের জীবন, সমাজ, দেশকে শিক্ষার আলোতে আলোকিত করতে চাই। আর এ জন্য আমাদের প্রয়োজন শিক্ষার জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সুসম্পর্ক তৈরি করা। দীর্ঘদিন সেটা বন্ধ থাকার কারনে আমরা সেটা থেকে বঞ্চিত। তাই আমি মনে করি তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথ রাখতে এবং শিক্ষার দ্বারা সমাজকে আলোকিত করতে হলে, স্বাস্থ্যবিধি সকল কিছু বিবেচনায় রেখে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিন্ধান্ত গ্রহণে এগিয়ে আসলে আমরা সকল ক্ষতিগ্রস্ত থেকে মুক্ত পাবো।
লেখকঃ মো: জুয়েল হাজী
সমাজকর্ম বিভাগ (দ্বিতীয় বর্ষ)
হাজীগঞ্জ সরকারি মডেল কলেজ
হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর।
Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে শুক্রবার নতুন করে আরো ২১ জনের করোনা শনাক্ত

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে একদিনে নতুন করে আরো ২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ৬৫ জনের …

Shares
vv