ব্রেকিং নিউজঃ
Home / দেশজুড়ে / শাহরাস্তি সুচিপাড়া দক্ষিন ইউপি সদস্য নজির অপরাধ জগতের মুলহোতা

শাহরাস্তি সুচিপাড়া দক্ষিন ইউপি সদস্য নজির অপরাধ জগতের মুলহোতা

স্বপন কর্মকার মিঠুন : নারী নির্যাতন, মারামারিসহ একাধিক মামলার অাসামী হয়ে প্রকাশ্যে বীরর্দপে ঘুরে বেড়াচ্ছে ইউপি সদস্য নজির। প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে থানা পুলিশ, অাইন তার হাতের মুঠোয়।
ইউপি সদস্যের বিভিন্ন অপকর্মের স্বাক্ষি ও বাদীরা  তার হুমকী দমকীর ভয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলতে পারছে না। এলাকার লোকজন তার এহেন কার্যকলাপে বাঁধা বা স্বাক্ষী হয়ে দাঁড়ালে মৃত্যু অাতংকে জীবন কাটাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
বিধবা ভাতা, বয়ষ্ক ভাতা, খাদ্যর বিনিময় কর্মসূচির কাজ, খোলাবাজারে চাল বিক্রিসহ সরকারি নানাহ কাজে অনিয়ম করে অাসছেন  বলে এলাকায়  কথা উঠছে। মামলার বাদি ও স্বাক্ষিসহ স্থানীয়দের প্রশ্ন ইউপি সদস্য নজিরের খুঁটির জোর কোথায়?
কে এই নজির :
শাহরাস্তি উপজেলার সূচিপাড়া দক্ষিন ইউনিয়নের রাগৈ গ্রামের মৃত বাদশা মিয়ার পুত্র নজির অাহম্মদ। নজির অাহম্মদ এক সময় প্রবাসে ছিলেন। প্রবাস থেকে অাসার পর তিনি রাজনৈতাক ভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। বিএনপির অামলেও তাঁর এলাকায় দলীয় প্রভাব বিস্তার ছিলো লক্ষনীয়। বিএনপির ব্যানারে তিনি ইউপি সদস্য নির্বাচিত হয়ে ছিলেন। তৎকালিন সময়ে দলীয় শৃংঙ্খলা ভংঙ্গের দায়ে দল হতে বহিষ্কৃত হন। ২০০৮ সালে অাওয়ামীলীগ ক্ষমতায় অাসার পর তিনি দল বদল করে অাওয়ামীলীগে যোগ দেন। তিনি অাওয়ামীলীগের দোহাই দিয়ে দ্বিতীয় বার ইউপি সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি দলছুট করে সদস্য নির্বাচিত হয়ে অাজ ইউনিয়ন পরিষদের ২নং প্যানেল চেয়ারম্যান অার এ পরিচয়ে এলাকায় একের পর এক অনিয়ম ও পেশীশক্তি প্রদর্শন করে চলছে।
তার অনিয়মের পিরিস্তি :
গোলাম মোস্তফা সূচিপাড়া দক্ষিন ইউপির চেয়াম্যান থাকালিন নরিংপুর ভুঁইয়াবাড়িতে নজির অাহম্মদ অপ্রিতিকর ঘটনা করতে গেলে জনতা তাকে হাতেনাতে অাটক করে। তখন চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা তাকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে।
সাবেক চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি নজির তার গ্রামের বঙ্গ বিদ্যালয়ের পাশ্বে জুয়ার অাসরে বসে খেলাবস্থায় একই এলাকার খাজা, ফয়সাল, অাল অামিন (বর্তমানে প্রবাসে), মহসিনসহ স্থানীয়দের সহায়তায় ওই সদস্যকে জুয়ার বোড হতে অাটক করে জুতা পেটা ও উত্তম-মধ্যম দেয় বলে খাজা ও স্থানীয়রা জানান।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল অাদালত চাঁদপুরে ২০১৬ সালে রাগৈ গ্রামের অামজাদ হোসেনের স্ত্রী শাহানাজ বেগম (২৭) বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি স্থানীয় ভাবে মিমাংসা হয়। ওই মামলার রেশ কাটতে না কাটতেই সদস্য নজির সহ তার নিকট অাত্মীয়রা গত বছর ২৫ অক্টোবর সম্পত্তি সংক্রান্তের জেরধরে ক্ষিপ্ত হয়ে শাহানাজ বেগম ও তার পরিবারের সদস্যর উপর হামলা চালায়। ওই ঘটনায় শাহানাজ বেগম শাহরাস্তি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তা অজ্ঞত কারনে ধামাচাপা পড়ে যায়।
অপর দিকে রাগৈ মধ্যে পাড়ার মৃত অাব্দুর রশিদের পুত্র কামাল হোসেনের সম্পত্তি পরিমাপ করার কথা বলে সদস্য নজির অাহম্মদ দায়িত্ব নিয়ে  তা না করে উল্টো তার নিকট অাত্মীয় গংদের পক্ষ নিয়ে অদালতের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে সীমানা প্রাচীর নির্মানের নিদের্শ দেয়। বাদি কামালের পক্ষে বিজ্ঞ অাদালত রায় প্রদান করে।  কামাল জানান, বিজ্ঞ অাদালত অামার পক্ষে রায় প্রদান করায় প্রতিপক্ষরা ক্ষিপ্ত  হয়ে অামাকেসহ পরিবারের সদস্যদের খুন জখমের হীন ষড়যন্ত্র করিতে থাকে। ওই ঘটনার জেরধরে গত বছরের ১৫ অক্টোবর দিবাগত রাত অনুমান ১টা ১০মিনিটের সময় অামার বসত ঘরে ও খড়ের গাদায় সদস্য নজিরের নিদের্শে তাঁর নিকট অাত্মীয়গংরা অগ্নী সংযোগ করে।
এ বিষয়ে অামি এলাকার কয়েকজন লোক নিয়ে ইউপি সদস্য নজিরের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সদস্য ও তার অপরাপর নিকট অাত্মীয়রা উত্তেজিত হয়ে অামাকে বেদম মারদর করে। ওই সময় ইউপি সদস্যর হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে অামার মাথায় অাঘাত করার উদেশ্যে নিক্ষেপ করলে তা তার মাথায় না লেগে মুখের ডান পাশ্বের মাড়িতে অাঘাত লেগে ১টি দাঁত পড়ে গুরুতর অাহত হই। অামি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেই। এ বিষয়ে অামি বাদি হয়ে বিজ্ঞ জুডিশিয়িল ম্যাজিষ্ট্রে অাদালত শাহরাস্তি,চাঁদপুরে দ: বি : ১৪৩/৪৪৭/৩২৩/৩২৬/৪৩৫/৪৩৬/৪২৭/৫০৬(২)/৩৪ ধারায় প্রতিকার চেয়ে নজির অাহম্মেদ ইউপি সদস্যসহ মোট ৮ জনকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করি। মামলা নং৯৭/২০১৭ ইং।
অামি মামলা করার পর থেকে বিবদী নজিরগংরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করে অামাকে এলাকা ছাড়ার জন্য হুমকী দিচ্ছে। অামার মামলার স্বাক্ষী ও তাদের অভিভাবকদের বিভিন্ন লোভ দেখিয়ে বশ করে ব্যর্থ হয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে স্বাক্ষী না দেয়ার জন্য বলে, তার বিপক্ষে স্বাক্ষি দেয়া হলে স্বাক্ষী প্রদানকারিকে গুম, হত্যার হুমকী দিচ্ছে। হুকীর ভয়ে কেউ মুখ খুলছেনা। তার সকল অপকর্মের কথা এলাকার সকলের মনে লালন করে অাসলেও নিরাপত্তার অভাবে মুখ বন্ধ রেখেছে। প্রশাসনের কেউ গেলে নিরাপত্তার অভাবে দূরে সরে যেতে বাধ্য হয়।
বিজ্ঞ অাদালত মামলাটি তদন্ত করে অাইনি ব্যবস্তা গ্রহনের জন্য শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জকে নিদের্শ দেয়। অফিচার ইনচার্জ তার অধিন্যস্ত উপ -পরিদর্শক মো : নজরুল ইসলামকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নিদের্শ দেন।
উপ -পরিদর্শক নজরুল ইসলাম জানান, মামলার তদন্ত করছি, বাদিপক্ষের স্বাক্ষীরা এলাকায় নেই। তবে তাদের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেছি এবং এলাকায় কয়েকবার গিয়েছি, বিভিন্ন জনের সঙ্গে কথা বলেছি।  বাদিকে স্বাক্ষী হাজিরের জন্য বলা হয়েছে। বিবাদিদের পাইনি।
অপরদিকে ওই ইউপি সদস্যর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ও মামলা থাকার পরও তিনি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। পুলিশ দেখেও না দেখার মত চলছে। স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন তার খুঁটির জোর কোথায়?
ইউপি সদস্য নজির জানান, অামার বিরুদ্ধে অানিত অভিযোগ মিথ্যা। অামি খোলা বাজার চালের ডিলার নই। জুয়া নয়, টুয়ান্টি নাইন খেলা অবস্থায় খাজাসহ কয়েকজন অামার কাছে গিয়ে রাস্তার কাজে অনিয়ম হয়েছে বলে চাঁদা দাবি করে। অামার বিরুদ্ধে  শিশু ও নারী নির্যাতন মামলা অভিযোগ নেই। কামালের দেয়া একটি মামলা রয়েছ।
Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে করোনা সচেতনতায় প্রশাসনের ‘সামজিক দূরত্ব বন্ধন’

বিশেষ প্রতিনিধি : চাঁদপুরে করোনা পরিস্থিতিতে ঘর থেকে বেরিয়ে পড়া মানুষদের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে শোভাযাত্রা …

vv