ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / শাহরাস্তি ফতেপুরে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের নামে প্রতারণার অভিযোগ
শাহরাস্তি ফতেপুর গ্রামে আদালতে চলমান মামলা উপেক্ষা করে তর্কিত ভূমিতে ইসমাইল হোসেন প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়।

শাহরাস্তি ফতেপুরে একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের নামে প্রতারণার অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার : এলাকায় একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের নামে প্রতিষ্ঠাতা ইসমাইল হোসেন প্রকাশ মানিক পাটওয়ারী এলাকাবাসী ও প্রতিবন্ধিদের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে বলে অভিযোগ উঠছে।

এমন ঘটনাটি ঘটেছে শাহরাস্তি উপজেলার মেহার দক্ষিন ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড ফতেপুর গ্রামে।

জানাযায়, ওই গ্রামের মৃত মোকলেছুর রহমানের ছেলে মো. ইসমাইল হোসেন প্রকাশ মানিক পাটওয়ারী এলাকায় নিজ নামিয় ফতেপুর প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ে এবং পিতা,মাতা ও বড় ভাইয়ের নামে ফতেপুর মোকলেছ মমতাজ কামাল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা ও মৃত দাদা দাদী ফুফির নামে মান্নান জোবেদা সাদিয়া নূরানী হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত করেন।

প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ে ১ম শ্রেণী হতে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত ও মাদ্রাসা গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির কথা বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (পেইজ বুক) ভর্তির আহবান জানন। ওই সমস্ত শিক্ষ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগক্তা ও প্রতিষ্ঠাতা মো. ইসমাইল হোসেন প্রকাশ মানিক পাটওয়ারী নিজে। ইসমাইল হোসেনের মনগড়া প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে প্রশাসন, এলাকাবাসী ও প্রতিবন্ধিদের নিয়ে তামশা করায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্য চাপা ক্ষোভ বিরজ করছে।

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ফতেপুর গ্রামে এমন কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অতিতে বা বর্তমানেও অস্থিত্ব নেই। এমন অস্থিত্বহীন প্রতিষ্ঠান স্থাপনের নামে এলাকাবাসী ও প্রতিবন্ধিদের সঙ্গে শুধু প্রতারণা নয় স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী প্রদর্শন করে।

স্থানীয়রা আরো জানান, ওই গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে মো. ছিদ্দিকুর রহমানের করা আদালতে চলমান মামলায় তর্কীত সম্পত্তি দখল নিতে ইসমাইল হোসেন রাতের বেলায় একটি দোচালা টিনের ঘর উত্তোলন করে পাশে ইসমাইল হোসেন প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের সাইন বোর্ড টাঙ্গীয়ে দেয়। এলাকাবাসী আরো জানান, প্রায় ১৭/১৮দিন পূর্বে ৭/৮ জন প্রতিবন্ধিকে শিক্ষার্থী হিসেবে দেখিয়ে প্রতিষ্ঠানে ডেকে নিয়ে ফটোশেসন করে চলে যায়। ওই যাওয়ার পর অদ্যবদি অ-ঘোষিত বিদ্যালয়ে দরজা খোলা দেখতে পায়নি। ওই বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা মো. ইসমাইল হোসেন (মানিক পাটওয়ারী) তার ভাই ওমর ফারুককে প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেয়। বিদ্যালয়েটিতে প্রথম শ্রেণী হতে নবম শ্রেণী পর্যন্ত শিক্ষার্থী ভর্তির ব্যবস্থা দেখিয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয় ও শিক্ষাবোর্ডের নীতিমালার বর্হিভূত প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কাজ করছে বলে স্থানীয়দের হতে একাধিক অভিযোগ উঠে।

অপর দিকে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আহসান উল্যা চৌধুরী জানান, শাহরাস্তি উপজেলায় আমার জানামতে কোন প্রতিবন্ধি বিদ্যালয় নেই। আর ফতেপুর ইসমাইল হোসেন প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ের নাম এই মাত্র শুনলাম। এমন বিদ্যালয় করতে হলে শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডসহ সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বীকৃতি ও অনুমোদন অত্যাবশ্যক। তারা প্রথম শ্রেণী হতে নবম শ্রেণী পর্যন্ত দেখিয়েছে, তাতে আমার ৬ষ্ঠ হতে ৯ম শ্রেণীর কার্যক্রম উল্লেখ করা হয়েছে এতে আমি অবগত নয়।

উপজেলা সমাজ সেবা আফিস সূত্রে জানাযায়, এরকম বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে তা আমাদের জানার বাহিরে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রনালয়ে যে কেউ আবেদন করতে পারে তা হতে পারে নাও হতে পারে।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন জানান, আমার ইউনিয়ন এলাকায় এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব নেই।

ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. মাইনুল ইসলাম জানান, আমাদের ওয়ার্ড বা ইউনিয়নে এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোন অস্তিত্ব নেই। এসমস্ত ভূয়া প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ব্যাবস্থা নিবেন বলে আমরা বিশ্বাস।

অপর দিকে ওই ওয়ার্ডের আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. জুয়েল হোসেন পাটওয়ারী বলেন, এই ওয়ার্ডে এমন একটি বিদ্যালয় হয়েছে যার কোন অস্তিত নেই, আসলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ প্রতিবন্ধিদের নিয়ে উপহাস করছে। বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইসমাইল হোসেন সুবিধাজনক লোক নয়। তাদের বিরুদ্ধে এলাকায় নানাহ রকম অভিযোগ রয়েছে। বিদ্যালয় সহকারি শিক্ষক মো. কামাল হোসেন জানান, ২০১০ সালে বিদ্যালয় স্থাপিত হয়। তার কার্যক্রম শুরু হয় ২০২১ সালের চলতি মাসে। বিদ্যালয়ে প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী ও ১০/১১ জন শিক্ষক রয়েছে। অপর দিকে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ওমর ফারুকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বিদ্যালয়টি ২০১০ সাল হতে কাজ শুরু হয়েছে।

আমরা সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছি। আবেদনের ট্র্যাকিং নং-২০২০১০০০৭১২। তবে শিক্ষমন্ত্রণালয় বা শিক্ষা বোর্ড হতে অনুমোদন ও অনুমতির জন্য আবেদন করা হয়নি। বর্তমানে ২৫জন শিক্ষার্থী রয়েছে, বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি তার ভাই ইসমাইল হোসেন একাই পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন এ ছাড়া আর কোন সদস্য নেই বলে জানান। তিনি শিক্ষক সংখ্যার ব্যাপারেও কিছুই জানেন না। অপরদিকে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি ইসমাইল হোসেন মানিক পাটওয়ারী জানান, ২০১০ সাল হতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তুতির কাজ শুরু করি।

২০২১ সাল হতে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু করি। প্রথম শ্রেণী হতে নবম শ্রেণী পর্যন্ত চালু করার চিন্তা ভাবনা থাকলেও এখন প্রথম শ্রেণী হতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত চালু রেখেছি। আদালতে চলমান মামলার অধীন তর্কীত ভূমির উপর দো-চালা টিন সেট ঘর নির্মাণ করে বিদ্যালয়ের নামে সাইন বোর্ড স্থাপনের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, মামলা থাকতে পারে, ওই ভূমিতে বিদ্যালয়টি অস্থায়ী ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। অন্যত্র ভূমি পেলে সেখানে স্থান্তর কর হবে। দুটি মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে বলেন, মাদ্রাসা চালুর প্রক্রিয়া রয়েছে। প্রতিবন্ধি বিদ্যালয়ে এখনো শিক্ষক নিয়োগ করা হয়নি, তবে এলাকার কিছু শিক্ষিত যুবক বিনাবেতনে পাঠদান দিচ্ছে।

বর্তমানে করোনাকালি সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে তার জন্য আমাদের বিদ্যালও বন্ধ।

Facebook Comments

Check Also

আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ

নিজস্ব প্রতিনিধি : আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক …

Shares
vv