ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / শাহরাস্তির কম্বোডিয়ায় মৃত করিমের মুখ দেখা হলোনা পরিবারের
শাহরাস্তির উদ্যমী উদ্যোক্তা কম্বোডিয়ায় মৃত এনায়েত করিম স্ত্রী ও দুই মেয়ে।

শাহরাস্তির কম্বোডিয়ায় মৃত করিমের মুখ দেখা হলোনা পরিবারের

মোঃ মাসুদ রানা, বিশেষ প্রতিনিধি : শাহরাস্তির উদ্যমী উদ্যোক্তা এনায়েত করিমের মুখ দেখা হলো না তার পরিবারের। তিনি নিজের ও দেশের ভাগ্যবদলে রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসেবে অস্থায়ী আবাস গড়েন কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেনএ। ক্ষুদ্র পরিসরে চেষ্টা করে খানিকটা সফলতাও পেয়ে যান তিনি। ঐ সফলতার হাতছানি পাওয়ার কিছু দিন যেতে না যেতেই একটি ঘাতক পিকআপ ভ্যান তার স্বপ্ন চুরমার করে কেড়ে নেয়, এ তাজা প্রাণ।

একসময়ের গার্মেন্টসকর্মী এনায়েত করিমকে(৪৫) হারিয়ে পরিবারটি হয়ে পড়ে নিঃস্ব,আর তিনি চলে যান অনন্তলোকে।এখন প্রতিদিন তার দুটি সন্তান পিতার আগমণের অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে পড়ে। তারা জানেনা তাদের আদরের পিতা আর কোন দিন ফিরে আসবেনা। গত রবিবার (১৫সেপ্টেম্বর) কম্বোডিয়ার স্থানীয় সময় রাত ৯টায় রাজধানী নমপেন সংলগ্ন এয়ারপোর্ট সড়কে এ দুর্ঘটনায় তার করুণ মৃত্যু হয় ।

নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের (৩৬২নং হোল্ডিং) মৃধাবাড়ীর মৃত আব্দুল খালেক এর ৯ সন্তানের মধ্যে ২য় পুত্র এনায়েত করিম ।

তিনি ২০০০ সালের দিকে এসএসসি পাশ করে চট্টগ্রামে মেজর (অবঃ) মান্নানের সানম্যান কোঃ অধীনস্থ একটি গার্মেন্টসে চাকরি জুটিয়ে নেন। সেখানে কাজের সুবাদে তিনি নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার বানানি গ্রামের তালুকদার বাড়ির আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে সানম্যান কোঃ (কোয়ালিটি ম্যানেজার) পাপিয়া আক্তার (৩৫) এর সঙ্গে পরিচয় হয়। সে সুবাদে দ’ুজনের প্রণয়ের কিছুদিন যেতেই ২০০২ সালে করিম -পাপিয়া বিয়ের পিঁড়িতে বসেন।

সেখানে স্বামী -স্ত্রী একসাথে থাকায়, কম্বোডিয়ার নমপেনএ মেজর (অবঃ) মান্নানের (সানম্যান-গার্মেন্টস) নামের একটি প্রতিষ্ঠানে করিমের কাজের সুযোগ তৈরী হয়। ২০০৯ সালে দক্ষকর্মী হিসেবে সে কোম্পানিতে মেকানিক্যাল পদে যোগদান করেন। ২০১১ সালে ২ বছর চাকরি করে ১ মাসের জন্য বাড়িতে আসেন।আবার কাজে ফিরে ওই কোম্পানিতে ৫ বছর চাকরি করে ২০১৬ সালে তিন মাস ১৩ দিনের জন্য দেশে আসেন।

সেখানে ফিরে গিয়ে অন্য একটি কোঃ চাকরি করেন ৬ মাস। এরপর ২০১৭ সালে সেখানে নিজেই একটি মিনি গার্মেন্টস (ব্যাবসা) শুরু করেন। সে ব্যাবসায় লোকসানের মুখ দেখে আবার চাকরিতে ফিরে যান তিনি। এক সময় হতাশ না হয়ে আবারও একটি (স্মার্ট) নামে গার্মেন্টস খুলে ‘‘মৃত্যুর ” কিছুদিন আগে,‘‘ মুনাফার’’ মুখ দেখেন। এতে তিনি মুগ্ধ হয়ে তার সঙ্গে থাকা ঢাকার মোশারেফ, চাঁদপুর জামাল ও খুলনার অহিদকে তাদের মুনাফা বুঝিয়ে নিজে মালিক বনে যান। ওই লাভের উচ্ছ্বাসে পরিবারের মাঝে বইতে শুরু করে আনন্দের বন্যা। সেটি শেয়ার করে দেশে আসার পরিকল্পনাও করেন। ওই কাজের পাশাপাশি তিনি একটি চাকুরীতে থাকা অবস্থায় এ দুর্ঘটনার শিকার হন।

তার স্ত্রী আরো জানায়, ঘটনার দিন বিকেলে করিম তার (স্ত্রীর) সাথে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় মুঠোফোনে বাচ্চাদের খোঁজখবর নেন। গার্মেন্টসের সামনে দাঁড়িয়ে কথা সময় হঠাৎ একটি গাড়ি এসে তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে তিনি লুটিয়ে পড়েন। পরে সেখানকার স্থানীয় ও তার গার্মেন্টস সহকর্মীরা খবর পেয়ে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই সংবাদ দেশে আসতেই স্ত্রী পাপিয়ার স্বপ্নের সংসারে নেমে আসে চরম বিপর্যয় ।

এ গল্পের জটিলতা তখনই তৈরি হয়, যখন পরিবারটি করিমের মরদেহ দেখার আগ্রহে ব্যাকুল হয়ে উঠে। জানা যায়, করিম সে দেশে (কর্মস্থলে) যাওয়ার সময় বাংলাদেশ থেকে থাইল্যান্ড হয়ে কম্বোডিয়ার রাজধানী নমপেন এ পোর্ট এন্ট্রি ভিসা নিয়ে প্রবেশ করে। করিমের কম্বোডিয়ায় বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও হাইকমিশন না থাকায় তার মরদেহ দেশে আনা নিয়ে তৈরি হয় জটিলতা।

পরে সোমবার (১৬-সেপ্টেম্বর) কম্বোডিয়ার স্থানীয় সময় দুপুর ১২.৩০ মিনিটে গুটিকয়েক বন্ধুবান্ধব মিলে পরিবারের সম্মতিতে এবং অনেকটা অনিচ্ছাসত্ত্বেও একপর্যায়ে সেখানেই মুসলিমরীতি অনুযায়ী করিমের দাফন সম্পন্ন করে। স্ত্রী পাপিয়া

জানান, আমি আমার স্বামীকে নিয়ে জীবনে অনেক সুখি ছিলাম, আমাদের জান্নাতুল ফেরদৌস মেঘলা (১২) জান্নাতুল ফাতেহা রোদেলা (৫) নামের দুটি মেয়ে রয়েছে। এদিকে নিহতের ভগ্নিপতি মনিরুল ইসলাম (প্রশাসনিক ম্যানেজার-নাসা গ্রুপ ) চট্রগ্রাম জানান, অনেকটা বাধ্য হয়েই করিমের মুখ দেখতে পেলাম না আমরা ! যদি সংশ্লিষ্টরা সেখানে উদ্যোক্তাদের জন্য আসা যাওয়া সহজীকরণ করতো, তা হলে করিমের স্ত্রী সন্তান, পরিবার পরিজন তার মরদেহ দেখতে পেতো।

এদিকে বরিশালের আব্দুল জলিল নামের আরেক কোঃ শ্রমিক (কোয়ালিটি – সুপারভাইজার) চাকুরীরত অবস্থায় মৃত্যুর পরও একই জটিলতায় তার মরদেহ বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি।

Facebook Comments

Check Also

কুমিল্লায় মোটরসাইকেল দূর্ঘটনায় কচুয়া পুলিশের এএসআই নিহত

মো. মেহেদী হাসান, কচুয়া : কুমিল্লায় সড়ক দুর্ঘটনায় চাঁদপুরের কচুয়া থানার সহকারী পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এএসআই) …

vv