ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শিক্ষা / শাহরাস্তিতে সরকারিকৃত স্কুল শিক্ষকের জাল সনদ নিয়ে তোলপাড়, চাকুরী থেকে ইস্তফা

শাহরাস্তিতে সরকারিকৃত স্কুল শিক্ষকের জাল সনদ নিয়ে তোলপাড়, চাকুরী থেকে ইস্তফা

স্টাফ রিপোর্টার : বেসরকারী শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ণ কতৃপর্ক্ষ (ntrca) এর সচিব ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করে ভূয়া সনদ তৈরী করে শাহরাস্তি সরকারী বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে চাকুরী নেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে শাহরাস্তি থানায় মামলা করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমাম হোসেন।

এ বিষয়ে (এনটিআরসিএ) এর সহকারী পরিচালক (পমুপ্র) -৩,তাজুল ইসলাম গত ৪ এপ্রিল জাল সনদ দিয়ে চাকুরী নেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানান।

থানায় অভিযোগ ও (এনটিআরসিএ) অনুলিপি সূত্রে জানা যায়, স্বারক নং, ৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০১.১০.৩৫৩, মূলে তার প্রতিষ্ঠান থেকে গত ০৬/১১/২০২০ ইং মো: জাকির হোসেন সহকারী শিক্ষক ইংরেজী, এর শিক্ষক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য এ কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। উক্ত পত্রের আলোকে নিবন্ধন পএটি যাচাই করে এ কার্যালয়ের স্বারক নং ৩৭.০৫.০০০০.০১০.০৫.০০২.২০.২৩১৯. তাং ২৪/১২/২০২০ যাচাই প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়।

প্রতিবেদনে সনদটি জাল ও ভূয়া বলে মনÍব্য করা হয়। জাকির হোসেনের দাখিলকৃত সনদটিতে তৎকালীন এনটিআরসিএ, এর সচিব ও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। তার পত্রের সাথে সংযুক্ত প্রার্থীর আবেদনে সনদটি ঢাকা শির্ক্ষা বোর্ড থেকে ইস্যু করা হয়েছে,মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে, যাহা সঠিক নয়। কেননা ঢাকা শির্ক্ষা বোর্ডকে এনটিআরসিএ এর ২০০৬ সনে উত্তীর্ন প্রার্থীদের সনদ বিতরনের জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল। সনদ বিতরন শেষে শিক্ষাবোর্ড বিতরণ রেজিষ্টার ও অবিতরণকৃত সনদ এ কার্যালয়ে প্রেরণ করেন। উক্ত রেজিষ্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, জাকির হোসেন পিতা: শহিদ উল্ল্যাহ নামীয় ১১০২০৯০৬ রোল নাম্বারধারীর সনদ আদৌ বিতরণ করা হয়নি।

অবিতরণকৃত সনদের মধ্যে উক্ত সনদটি রয়েছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয়যে, জাকির হোসেন আদৌ ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে সনদ গ্রহণ করেননি। এ থেকে সষ্পষ্টতয় বুঝা যায় যে, তার দাখিলকৃত সনদটি জাল। তিনি অসত্য তথ্য উপস্থাপন করেছেন। এছাড়া জাকির হোসেন যে, উক্ত রোল নাম্বারধারী প্রকৃত প্রার্থী তার কোন প্রমান নেই। কেননা, তিনি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার প্রবেশপএ দেখাতে পারেননি। উপযুক্ত তথ্যাদি বিশ্লেষন করে দেখা যায়যে, জাকির হোসেন প্রকৃত নিবন্ধন প্রার্থী নন। তিনি যদি প্রকৃত প্রার্থী হতেন তবে তিনি ঢাকা শিক্ষা বোর্ড থেকে প্রকৃত সনদ গ্রহণ করতেন। কিন্তু তিনি তা না করে , একটি জাল সনদ তৈরী করেন। যা এনটিআরসিএ“তে রক্ষিত ফলাফলের প্রাপ্ত নম্বরের সাথে গরমিল পরিলর্ক্ষিত হয়েছে। জাকির হোসেন যে, ১১০২০৯০৬ নম্বর রোলধারী প্রকৃত প্রার্থী সে বিষয়ে কোন প্রমান দেখাতে পারেননি। সেহেতু তার নামে কোন সনদ ইস্যু করা সম্ভব নয়। এবং জাল সনদের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ ক্রমে অনুরোধ করা হলো।

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শির্ক্ষা কর্মকর্তা মো: আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী জানান, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। অভিযুক্ত শিক্ষক জাকির হোসেন, ৬ এপ্রিল বিদ্যালয় থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে,বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: ইমাম হোসেন জানান, এনটিআরসিএ, থেকে গত ১৩/০৩/২০২০ থেকে মূল সনদ প্রদানের জন্য শিক্ষক জাকির হোসেন পএ প্রেরণ করলে ও তিনি তা দিতে ব্যর্থ হন। সে প্রের্ক্ষিতে গত ৪/৪/২০২১ ইং এনটিআরসিএ এর সহকারী পরিচালক (পমুপ্র-৩) ঢাকা, তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত পএে জাল সনদে চাকুরী নেওয়ার অপরাধে শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরূদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য (আমাকে) নির্দেশক্রমে অনুরোধ জানিয়ে অনুলিপি প্রদান করেন। এ বিষয়ে শিক্ষক জাকির হোসেন গত ২৫ মার্চ বিদ্যালয় থেকে ইস্তফা পএ দিলে ও ৬ এপ্রিল আমরা তা হাতে পেয়েছি। এ বিষয়ে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি (ইউএনও) স্যারের সাথে যোগাযোগ করে শিক্ষক জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে শাহরাািস্ত থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক জাকির হোসেনের বাড়ী শাহরাস্তি উপজেলার খেড়িহর গ্রামে। তার পিতার নাম মৃত: শহিদ উল্ল্যাাহ।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে একদিনে করোনামুক্ত ২১ জন : নতুন শনাক্ত এগারো

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে করোনা ভাইরাসে নতুন করে আরো ১১ জন আক্রান্ত হয়েছে। আক্রান্ত ব্যক্তিরা …

Shares
vv