ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / শাহরাস্তিতে লম্পটের খপ্পরে বিধবা

শাহরাস্তিতে লম্পটের খপ্পরে বিধবা

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে এক লম্পটের খপ্পরে পড়ে হতদরিদ্র বিধবা নারী বাচ্চা প্রসব করেছে। ওই নবজাতকের ভূমিষ্ঠ হওয়া নিয়ে শুরু হয় বিড়ম্বনা। অবশেষে পিতৃ পরিচয়ের টানাপোড় মাথায় নিয়ে নবজাতকের মা মৃতপুত্র সন্তান প্রসব করেছে। ওই অসুস্থ মা বর্তমানে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গাইনি ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় তৈরি হয়েছে ধুম্রজাল ও চাঞ্চল্য। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে এক প্রভাবশালী মহল বিষয়টি ধামাচাপা দিতে শুরু করে দৌড়ঝাঁপ। একপর্যায়ে দরে বনিবনা না হওয়ায় বিষয়টি ভেস্তে যায়। ওই ঘটনায় তিনজনকে অভিযুক্ত করে শাহরাস্তি থানায় শিশু ও নারী নির্যাতন এবং হত্যা মামলা দায়ের করেছে নির্যাতিতার ভাই।

চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলা পৌর শহরের ১১ নং ওয়ার্ডের ভিংরা গ্রামের পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে ।

নির্যাতিতার পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, আজ থেকে এক যুগ পুর্বে একই ওয়ার্ডের কাজির কামতা নোয়াবাড়ির আবু তাহেরের মেয়ে নাছিমা আক্তারকে (৩০) বিয়ে দেন পার্শ্ববর্তী ভিংরা মহল্লার পাটোয়ারি বাড়ির মৃত নোয়াব আলীর ছেলে হাছান আলী (৩৫) সঙ্গে। ওই থেকে দিনমজুর হাছানের পরিবারটির দিনসুখেই কাটছিল। কিছুদিন যেতেই তাদের কোলজুড়ে আসে নাহিদা (১২) ও সাহিদা (১০) নামে দুটি কন্যা সন্তান।

কিন্তু স্বামী হাছান বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ও হতদরিদ্র হওয়ায় অভাব পিছু ছাড় ছিলনা পরিবারটির। এতে গত পাঁচ বছর পূর্বে গৃহবধূ নাছিমা জীবন ও জীবিকার প্রয়োজনে ওই বাড়ির মৃত আলতাফ উদ্দিন পাটোয়ারীর পুত্র আবুল বাশার পাটোয়ারীর (৬২)গৃহে ঝিয়ের কাজ জুটিয়ে নেয়। পরিবারটির পাঁচ ছেলে দুই মেয়ে ও স্বামী-স্ত্রীর বিশাল সংসারের মেলাকাজ একাই সামলিয়ে দিন পার করছিলেন নাছিমা। এরই মধ্যে ২০১৭ সালের স্থানীয় ঠাকুর বাজার ধানের কাজ করার সময় বুকের মধ্যে বস্তা পড়ে দিনমজুর স্বামী হাছান এর মৃত্যু হয়। এতে নাছিমার পায়ের নিচের মাটিটুকু সরে গিয়ে সে হয়ে পড়ে অসহায়। একপর্যায়ে শ্রবণ প্রতিবন্ধী শিশু মেয়ে নাহিদাকে স্থানীয় একটি এতিমখানায় পড়ালেখার জন্য দিয়ে দেন। ছোট মেয়ের সাহিদার বোঝা টানতে না পেরে তাকে বাপের বাড়িতে ভাইদের নিকট পাঠিয়ে দেয়।

স্বামী সন্তানহীন জীবনে তার একমাত্র আশ্রয়স্থল ও ভরসা ছিল আবুল বাসার পাটোয়ারীর পরিবার। তারাও তাকে কাজের বিনিময়ে খাদ্য-বস্ত্র অন্যসব যোগান দিত। সে ওইকাজে যোগদানের সময় ওই পরিবারের ছোট ছেলে সাফায়েত উল্লাহ রাকিব বয়স ছিল ১২বছর। তার পর ওই কিশোর বর্তমানে স্থানীয় ঠাকুর বাজার চিশতিয়া মাদ্রাসায় দাখেল শ্রেণীতে পড়ুয়া ।

এরই মধ্যে বর্তমানে (১৭) বছরের রাকিবের দৃষ্টি পড়েন তার দিকে। রাকিব তার ইচ্ছে চরিতার্থ করতে প্রায় তার গায়ে হাত দেওয়ার চেষ্টা করত। একপর্যায়ে তার ইচ্ছে চরিতার্থ করতে সে মরিয়া হয়ে ওঠে। সে গত ৭ মাস পূর্বে পরিবারের অন্য সদস্যদের অনুপস্থিতির সুযোগে এক সন্ধ্যায় রাকিব নাছিমার সাথে কামবাসনা চরিতার্থ করে। তাদের উপর জীবিকা নির্ভর নাছিমা বিষয়টিতে হতভম্ব হয়ে তার মাকে জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে, রাকিব তাকে কাজ থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে হুমকি-ধমকি দিয়ে তাকে স্তব্ধ করে দেয়। এতে অসচেতন নাছিমা হয়ে পড়ে রাকিবের ভোগের পণ্য। এতে টানা যৌনক্রিয়ায় নাছিমাও টের পাইনি সে হয়ে পড়েছে মা সন্তানসম্ভবা।

সম্প্রতি তার শরীর খারাপ করলে স্থানীয় সাহেব বাজারের মন্টু ডাক্তারের নিকট সে শরণাপন্ন হয়। ওই ডাক্তার প্রেগনেন্সি টেস্ট করে বাচ্চার উপস্থিতি নিশ্চিত করে তাকে। পরে নাছিমা বিষয়টি ওই পরিবারকে জানালে তারা নড়েচড়ে বসে। ওই পরিবারের কেবাকারা গত ৬ তারিখ বাচ্চা খালাসের ওষুধ খাইয়ে দেয় তাকে। ওই অবস্থায় শুরু হয় রক্তক্ষরণ। রাকিবের পিতা উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের মৃত শহীদ উল্লাহ মাস্টারের স্ত্রী এক সময়কার স্বাস্থ্যকর্মী বিউটি আক্তার নিকট নিয়ে যায়। পরে তিনি তার অবস্থা বেগতিক দেখে ওই স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শে তাকে স্থানীয় জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তখন ওই হাসপাতালের চিকিৎসক ডাক্তার তানজিনা মানবিক কারণে জীবন বাঁচাতে তার এক সহকর্মীকে দিয়ে বিষয়টি দেখার অনুরোধ করে। ওই হিসেবে সেখানে সাত মাস বয়সের একটি মৃত পুত্র সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়।

পরে বিষয়টি সমগ্র এলাকায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে ভিড় জমায়।তখনই চাউর নাছিমার জীবিকার প্রয়োজনে গিয়ে ইজ্জত হারানোর গল্প। পরে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে একটি মহল মীমাংসা করতে দৌড়ঝাঁপে ব্যর্থ হলে এটি আইনী প্রক্রিয়ায় গড়ায়।

গত ৮ তারিখ নির্যাতিতার চাচাতো ভাই ইউছুফ আলী তিন জনকে আসামি করে শাহরাস্তি থানায় একটি ধর্ষণ নারী, শিশু নির্যাতন ও হত্যা আইনে একটি মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং৭।এ মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলো সেফায়েত উল্লাহ রাকিব (১৭)তার পিতা আবুল বাসার পাটোয়ারী(৬২),স্বাস্থ্যকর্মী বিউটি আক্তার (৫৫)। শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহআলম জানান, এ বিষয়ে মামলা নিয়েছি এবং অভিযুক্তদের ধরতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছি।

এদিকে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তিরত নির্যাতিতা নাছিমা জানায়, ছেলেটিকে আমি ছোট দেখেছি ,সে আমাকে জ্বালিয়ে এ সমস্যা সৃষ্টি করে। আমি তার পরিবারকে জানাতে চাইলে সে আমাকে না করে। আমার যে অবস্থা হয়েছে ,আমি এর বিচার চাই।

এদিকে অভিযুক্তের মা জাহানারা বেগম কষ্টের কথা বলতে গিয়ে বলেন, আমার ছেলে এতটা বখে গেছে আমি জানতাম না। তার মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মোঃ বেলাল হোসেন মুঠোফোনে জানান, এই ছেলেটিকে নিয়ে অতিতেও ইভটিজিং এর ঘটনা ঘটেছে এবং বিচার করা হয়েছে।

শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের (আরএমও) ডাক্তার অচিন্ত্য কুমার চক্রবর্তী জানান ,এ রোগীর প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।

Facebook Comments

Check Also

বি-বাড়িয়ায় ট্রেন দুর্ঘটনায় হাজীগঞ্জের স্বামী-স্ত্রী নিহত

স্টাফ রিপোর্টার : উৎসুক জনতা হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আন্তনগর তূর্ণা নিশীথা ও আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস …

vv