ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় চাঁদপুর / প্রিয় শহরাস্তি / শাহরাস্তিতে মুজিববর্ষে ঘর ও ভূমি পেল অসহায় পরিবার

শাহরাস্তিতে মুজিববর্ষে ঘর ও ভূমি পেল অসহায় পরিবার

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণে দেশের ৪৯২টি উপজেলার প্রায় ৬৬ হাজার ১৮৯ পরিবারকে পাকা ঘরসহ বাড়ি হস্তান্তর করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
ওই সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে আমার অত্যন্ত আনন্দের দিন। দেশের ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান করতে পেরে আমি আনন্দিত ও স্বস্তি বোধ করছি।
শনিবার (২৩ জানুয়ারি) গণভবন থেকে সারা দেশের ন্যায় চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ভার্চুয়াল প্রগ্রামে ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রজেক্টরের মাধ্যমে প্রদর্শিত হয়। ওই সময় প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমি ও ঘর প্রদান কর্মসূচির উদ্বোধনের সময় এ অভিমত ব্যক্ত করেন।
পরে প্রধান মন্ত্রীর এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ঘোষণা শেষে দেশের সকল দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সুবিধাভোগীদের মাঝে বরাদ্দকৃত ঘর, কবুলিয়াত দলিল, সনদ হস্তান্তর করার নির্দেশ প্রদান করেন।ওই আদেশের প্রেক্ষিতে শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিরিন আক্তার সুবিধাভোগী ৫ অসহায় ব্যক্তির মাঝে প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টস হস্তান্তর করেন। ওই সময় আয়োজিত ভার্চুয়াল প্রগ্রামে উপস্থিতিত অতিথিরা প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গভীর মনোযোগ দিয়ে শ্রবণ করেন ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অএ  উপজেলা থেকে  আশ্রয়ণ প্রকল্প -২ পর্যায়ে ১৩৭জনের নামের তালিকা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয় । ওই হিসেবে মুজিব শতবর্ষ ৫ জন ভূমিহীন ও গৃহহীন ব্যক্তির নামে এ বরাদ্দ মঞ্জুর হয় । তার প্রেক্ষিতে পাঁচটি পরিবার এ ভূমি ও গৃহ পেল। সুবিধাভোগীরা  ওই পরিপ্রেক্ষিতে ২ শতাংশ ভূমি, একক কক্ষবিশিষ্ট সেমি পাকা ঘর, খতিয়ান, কবুলিয়াত দলিল, সনদ প্রাপ্ত হন।
এছাড়া আশ্রায়ন প্রকল্প ১-আওতায় অত্র উপজেলায় ইতোপূর্বে ৪০২ জন গৃহহীন ব্যক্তি এ প্রকল্পের আওতায় গৃহ সুবিধা ভোগ  করছেন।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার এ কার্যক্রম সম্পর্কে অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের ইতিহাসে ভূমিহীন ও গৃহহীন অসহায় ব্যক্তিদের কল্যাণে যে মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন এটি ঐতিহাসিক ও বিরল। এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতে অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশা করি। যারা এখনো এই সুবিধার আওতায় আসেনি তারা অচিরেই অন্তর্ভুক্ত হবে।
ওই সময় অন্যান্যের মধ্যে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা মীরা, শাহরাস্তি পৌর মেয়র ও উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির আহবায়ক আলহাজ্ব আব্দুল লতিফ, শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আব্দুল মান্নান,শাহরাস্তি উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ ইরান, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার কাজল, উপজেলা প্রকৌশলী রেজওয়ানুর রহমান,মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ চৌধুরী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোহাম্মদ আহসান হাবীব, শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির, উপজেলা বিয়াম ল্যাবরেটরী স্কুলের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম প্রধানিয়া, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও চেয়ারম্যান মোঃ মোস্তফা কামাল মজুমদার, উপজেলা প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক জেড এম আনোয়ার, এছাড়া বিভিন্ন ইউপিরচেয়ারম্যান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, টামটা উত্তর ইউপি মোহাম্মদ ওমর ফারুক দর্জি, চিতোষী পশ্চিম ইউপির জোবায়দুল কবির বাহাদুর, সুচিপাড়া দক্ষিণ ইউপি আব্দুর রশিদ, মেহের দক্ষিণ ইউপির মোহাম্মদ রুহুল আমিন, মেহের দক্ষিণ ইউপির মোঃ মনির হোসেন, মহিলা লীগ নেত্রী বকুল বেগম ও শাহরাস্তি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা কর্মচারী সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও তাদের নিকট আত্মীয় এলাকার বিশিষ্টজন এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের ১০০ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুজিব শতবর্ষ পালন করছে সরকার। বছরটিকে স্মরণীয় করে রাখতে জাতির পিতার উত্তরসূরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ভূমি ও গৃহহীন আট লাখ ৮২ হাজার ৩৩টি পরিবারকে ঘর ও জমি দেওয়ার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। আজ উদ্বোধনের পর পর্যায়ক্রমে এ তালিকার সবাই এই সুবিধা পাবে।
উপকারভোগীদের মধ্যে যাদের জমি আছে, তারা শুধু ঘর পাবে। যাদের জমি নেই, তারা ২ শতাংশ জমি পাবে (বন্দোবস্ত)। দুই কক্ষবিশিষ্ট প্রতিটি ঘর তৈরিতে খরচ হচ্ছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। সরকারের নির্ধারিত একই নকশায় হচ্ছে এসব ঘর।রান্নাঘর, সংযুক্ত টয়লেট থাকছে। টিউবওয়েল ও বিদ্যুৎ সংযোগও দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এই কাজ করছে। খাসজমিতে গুচ্ছ ভিত্তিতে এসব ঘর তৈরি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এসব ঘরের নাম দেওয়া হচ্ছে ‘স্বপ্ননীড়’, কোথাও নামকরণ হচ্ছে ‘শতনীড়’, আবার কোথাও ‘মুজিব ভিলেজ’।
Facebook Comments

Check Also

মতলবে আর্শ্বাদিয়া নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার বার্ষিক মাহফিল সম্পন্ন

মোজাম্মেল প্রধান হাসিব : মতলব দক্ষিণ উপজেলার নারায়ণপুর আর্শ্বাদিয়া নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার উদ্যোগে …

Shares
vv