ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / শাহরাস্তিতে ভিখারি বোনকে আগুনে ঝলসে দিল গ্রাম্য চৌকিদার

শাহরাস্তিতে ভিখারি বোনকে আগুনে ঝলসে দিল গ্রাম্য চৌকিদার

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে সম্পত্তির লিপ্সায় ভিখারী বোনের দেহ এক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) সংঘবদ্ধরা মিলে পুড়িয়ে দিয়েছে।

শনিবার ৪ (জুলাই) রাতে শাহরাস্তি থানার সম্মুখ থেকে ওই দগ্ধ মুমূর্ষ মৃত্যুপথযাত্রী নারীকে শাহরাস্তি থানা পুলিশ উদ্ধার করে। মুহুর্তের মধ্যে বিষয়টি ভাইরাল হতেই স্থানীয় সাংসদ, উপজেলা প্রশাসন, কর্তব্যরত ডাক্তার, ওসি শাহরাস্তির উদ্যোগে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেলের (ঢামেক) এর বার্ন ইউনিটে প্রেরন করা হয়।

নির্যাতিতা নারীর স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউপির চান্দল গ্রামের মৃত ইউনুছ চৌকিদারের মেয়ে মীরুজা বেগম (৫৫) শৈশব কাটিয়ে পরিবারের সঙ্গে বড় হয়ে উঠেন। আজ থেকে ৩০ বছর পূর্বে তার স্বজনরা কুমিল্লা জেলার মনোহরগঞ্জ উপজেলার সাতপুকুরিয়া গ্রামের মোস্তফার সাথে (ঘর জামাই) বিবাহ দেওয়া হয় তাকে।ওই সময় মীরুজা সংসার বুঝে উঠার পূর্বেই তার কোলজুড়ে দুটি সন্তান এলে স্বামী অন্যত্র আরেকটি বিয়ে করে কেটে পড়ে। তখন পিত্রালয়ের আশ্রয়ে থাকা মীরুজা বেঁচে থাকার সংগ্রামে শুরু করে ভিক্ষাবৃত্তি।

এদিকে তার বড় হয়ে উঠা একমাত্র মেয়ে খাদিজা বেগমের (২৮) বিবাহর পরেই হয়ে যায় বিধবা পুত্র সন্তানটিও শারীরিক প্রতিবন্ধী। সম্প্রতি তিনি সংসারের গানি টানতে না পেরে তার ভাইদের নিকট প্রাপÍ সম্প্রতি দাবি করেন। এতে গত ১৮ জুন মীরুজার দেহে সুকৌশলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন।ওই কাজে তার ভাই আঃ রশিদ চৌকিদার ও অপর ভাই আইয়ুব আলী সংঘবদ্ধ ভাইয়ের ছেলেরা আঃ মজিদ ও রুবেল অংশগ্রহণ করে। আগুন সন্ত্রাসে দগ্ধ নারীর মেয়ে খাদিজা শনিবার রাতে ৪জুলাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও গণমাধ্যম এর নিকট এ দাবি করেণ।

সে জানায়, তার মা আগুনে দগ্ধ হওয়ার পরে ওই ইউপি’র বেরনাইয়া বাজারে শাহ্ শরীফ হাসপাতালে সামনে অভিযুক্ত মামা ও তার ছেলেরা তার মাকে রেখে চলে যায়। পরদিন খাদিজা মায়ের সংবাদ পেয়ে তাকে নিয়ে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে।সেখানে তার মায়ের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসা নিতে ডাক্তার পরামর্শ দেন। অর্থকষ্টে ভোগা পরিবারটির কন্যা খাদিজা ওই কথা শুনে মাকে নিয়ে গ্রামের বাড়ি রওনা হয়। পথিমধ্যে শাহরাস্তি থানা গেইট (পুলিশ স্টেশন) সংলগ্ন স্থানে ভাড়া টাকা না থাকায় গাড়ী থেকে নেমে পড়ে।তখন দগ্ধ শরীর নিয়ে মীরুজা দাঁড়াতে অক্ষম হলে মেয়ে তাকে একটি দোকানে শুইয়ে দেয়। মুহুর্তের মধ্যে মীরুজার শরীরের ঝলসে যাওয়া ক্ষত বিক্ষত দেহের সংবাদটি শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহ আলমের এর নিকট পৌঁছায়।

তিনি ওসি (তদন্ত) মোঃ আবদুল মান্নানকে সঙ্গে নিয়ে সশরীরে এসে দোকানে আগুনে ঝলসানো মীরুজার দগ্ধ শরীর দেখে বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ মেজর (অবঃ) রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরিন আক্তারকে অবহিত করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য মুহুর্তের মধ্যে সাংসদদের নির্দেশ ক্রমে পরামর্শে নির্বাহী কর্মকর্তা ২০ হাজার টাকা সাহায্য দিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স যোগে মীরুজাকে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে দ্রুত প্রেরন করে।

এ ছাড়া সাংসদ মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (ঢামেকে) তার চিকিৎসায় সকল সহযোগিতার হাত বাড়ান। পরে ওই রাতেই অভিযুক্ত আব্দুর রশিদকে (৫৬) উঘারিয়া তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ অভিযান চালিয়ে আটক করে। সরজমিনে স্থানীয়রা জানান, মীরুজা একটু সহজ সরল তাই তার বাবা তাকে অনেক সম্পদ দিয়ে গেছে। ওই সম্পদ দখলে নিতে তার উপর স্বজনদের অত্যাচার নির্যাতন ।

এদিকে এ বিষয়ে শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনর্চাজ মোঃ শাহ আলম জানান,সম্পত্তিগত বিরোধে ওই দগ্ধ নারী যেখানে থাকতো সেখানে তাকে গ্যাস লাইট বা দিয়াশলাই দিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়া হতে পারে। এ বিষয়ে নির্যাতিতা ও দগ্ধ নারীর মেয়ে খাদিজা তার মায়ের চিকিৎসা কাজে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে অভিযুক্তদের নামে থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

Facebook Comments

Check Also

ফরিদগঞ্জে দুই মেয়র প্রার্থীর মাস্ক বিতরন

এস. এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জে সাধারন মানুষকে করোনা থেকে সুরক্ষিত রাখতে মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম রিপন …

Shares
vv