ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / শাহরাস্তিতে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ‘নাগলিঙ্গম’ শনাক্ত
উদ্ভিদ ‘নাগলিঙ্গম’

শাহরাস্তিতে বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ ‘নাগলিঙ্গম’ শনাক্ত

ফয়েজ আহমেদ, অতিথি লেখক : শাহরাস্তি উপজেলার নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিলুপ্তপ্রায় নাগলিঙ্গম গাছের সন্ধান পাওয়া গেছে। উপজেলার মেহের ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফারুক আহমেদ এ প্রজাতিটি শনাক্ত করেছেন।

জানা যায়, সম্প্রতি ওই বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মোঃ মাহবুব আলম সুমন ক্যাম্পাসে ফুলে ফলে সমৃদ্ধ গাছটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন। এতে ওই শিক্ষক নিজেই গাছটির নাম নাগলিঙ্গম বলে উল্লেখ করেন। ছবিটি স্থানীয় মেহের ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ফারুক আহমেদের নজরে আসলে তিনি প্রয়োজনীয় তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করে গাছের ছবি তুলে নিয়ে যান। পরবর্তিতে গত শনিবার এটি দুর্লভ প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় নাগলিঙ্গম বলে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, নাগলিঙ্গম একটি বিরল প্রজাতির বৃক্ষ। এই গাছের ইংরেজি নাম ‘cannonball tree’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম Couroupita guianensis, যা Lecythidaceae পরিবারভুক্ত। এর আদি নিবাস আমাজান ও মধ্য এবং দক্ষিণ আমেরিকার বনাঞ্চল। নাগলিঙ্গম ৩৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে। গুচ্ছ পাতাগুলো খুব লম্বা, সাধারণভাবে ৮-৩১ সেন্টিমিটার, কিন্তু ৫৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বায় পৌঁছতে পারে।

গাছটির ফুলের রং, আভিজাত্য, মঞ্জুরি, গঠনশৈলী সব কিছু মিলিয়ে একে অনন্য করে তুলেছে। পাপড়ির মধ্যে নাগ বা সাপের মতো ফণা। সম্ভবত এ কারণে এর নাম হয়েছে নাগলিঙ্গম। গাছের গুঁড়ি ফুঁড়ে বের হওয়া দড়ির মতো একধরনের দণ্ডের মঞ্জুরিতে ফোটে।

ফুলের আকার বেশ বড়। ফুলের পাপড়ি মোটা। লাল, গোলাপি ও হলুদের মিশ্রণ নাগলিঙ্গমকে করেছে আরো আকর্ষণীয়। মার্চ মাসে ফুল ফোটা শুরু হয়। জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত গাছে ফুল শোভা পায়। ঔষধি বৃক্ষ হওয়াতে কিছু দেশে চাষ হলেও পৃথিবীতে এই গাছ এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। বাংলাদেশে রয়েছে হাতে গোণা মাত্র ৫০টিরও কম গাছ। রোপণের ১২ থেকে ১৪ বছর পর ফুল ফোটে। বীজ থেকে এর চারা হয়। বছরে দুই থেকে তিনবার পাতা ঝরে যায়। ফুল শেষে বেলের মতো ফল হয়। অনেকে একে হাতির জোলাপ বলে থাকে। এগুলো হাতির খুবই প্রিয় খাবার।

তিনি আরও জানান, নাগলিঙ্গম গাছের রয়েছে অনেক ঔষধিগুণ। এর ফুল, পাতা ও বাকলের নির্যাস থেকে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ তৈরি করা হয়। অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যান্টিফাঙ্গাল, অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে ব্যবহার হয় এর নির্যাস। এই গাছ থেকে তৈরি ওষুধ পেটের পীড়ার জন্য খুব উপকারী। পাতার রসও ত্বকের নানা সমস্যায় কাজ দেয়। ম্যালেরিয়া রোগ নিরাময়ে নাগলিঙ্গমের পাতার রস বিশেষ উপকারী।

নিজমেহার মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রতন কান্তি দত্ত জানান, আমি গাছটির নাম ও উপকারিতা সম্পর্কে অবগত হয়ে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাকে অবহিত করেছি। আশির দশকের শেষের দিকে এ বিদ্যালয়ের তৎকালীন সহকারি শিক্ষক অনুতোষ দেব এ গাছটি রোপণ করেছেন।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সাবেক সভাপতি মোঃ রেজাউল করিম মিন্টু বলেন, আমাদের ক্যাম্পাসে বেড়ে উঠা এ গাছটি শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও গবেষকদের অনেক উপকারে লাগবে। তিনি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে গাছটি সংরক্ষণের দাবী জানান।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সোফায়েল হোসেন জানান, আমি গাছটি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। এটি সংরক্ষনে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার জানান, আমি উদ্ভিদবিদ্যায় পড়াশুনা করেছি। নাগলিঙ্গম গাছটি বিরল প্রজাতির। এর অনেক ওষুধি গুনাগুন রয়েছে। বাংলাদেশে এর সংখ্যাও হাতেগোনা। গাছটি সংরক্ষনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তির ইতি হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করলেন সিআইডি ইন্সপেক্টর মান্নান

সাইফুল ইসলাম সিফাত, সম্পাদক ‘প্রিয় চাঁদপুর’ : শাহরাস্তির আলোচিত গৃহবধু মেহজাবিন সুলতানা ইতি হত্যা মামলার …

vv