ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / শাহরাস্তিতে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী কুমারীর পুত্র সন্তান প্রসব

শাহরাস্তিতে প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রতিবন্ধী কুমারীর পুত্র সন্তান প্রসব

মোঃ মাসুদ রানা
সহ সম্পাদক, প্রিয় চাঁদপুর :

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রশাসনের সহযোগিতায় এক প্রতিবন্ধী যুবতী (কুমারী) পুত্র সন্তান প্রসব করেছেন। বর্তমানে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের গাইনি ১নং ওয়ার্ডের ৮নং বেডে মা ও নবজাতক সুস্থ ও চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

রোববার (২৪মে) কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডে সিজারের মাধ্যমে এ বাচ্চা প্রসব করেন তিনি।

হতদরিদ্র ওই কুমারী মায়ের বাচ্চা প্রসবের পুরো প্রক্রিয়াটিতে সহায়তা করেন শাহরাস্তি উপজেলা প্রশাসন ও (ইউএনও) শিরীন আক্তার।

নির্যাতিতার পরিবার ,স্থানীয় অধিবাসী ও প্রশাসন সুত্র জানায়, শাহরাস্তি পৌরসভা ১২নং ওয়ার্ডের নোয়াগাঁও মহল্লার রৌশন আলী ছৈয়াল বাড়ির মৃত আবিদ আলীর শ্রবণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধী ছোট মেয়ে (২৫) সাত মাস পূর্বে অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই সময় তার রিকশাচালক ভাই স্থানীয় একটি হাসপাতালে ডাক্তারের নিকট নিয়ে গেলে তার ‘‘বিয়ে ছাড়া, ‘‘সন্তান’’ সম্ভাবনার, বিষয়টি চাউর হয়। তখন এক কান দু’কান করে স্থানীয়দের মাঝে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। ওই সময় গ্রাম্য সালিশে বিষয়টি নিষ্পক্তি না হয়ে শাহরাস্তি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। তখন নির্যাতিতার পরিবার থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পত্র জমা না দেওয়ায়, সেটি আর বেশি দূর এগোয়নি।

ওই সময় পরিবারটি শাহরাস্তি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিরীন আক্তার বরাবর একটি অভিযোগপত্র দায়ের করে। তখন ওই কর্মকর্তা কুমারী মাতার প্রসবকালীন সময় তাকে সহযোগিতায় আশ্বাস দেন। গত রোববার (২৪ মে) ওই কুমারী মায়ের প্রসব ব্যথা দেখা দিলে তার স্বজনরা শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তাকে নিয়ে আসেন। ঈদ ও করোনাভাইরাস সৃষ্ট পরিস্থিতিতে হাসপাতলে সিজার উপযোগী পরিবেশ না থাকায় তাকে ভর্তি করানো সম্ভব হয়নি।

ওই কথা পরিবারের সদস্যরা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করলে, নিবার্হী কর্মকর্তা শিরিন আক্তার তাৎক্ষণিক ১০ হাজার টাকা সহায়তা প্রদান করেন, বিষয়টি স্থানীয় সাংসদ মেজর (অব.)রফিকুল ইসলাম বীর উত্তমকে অবহিত করেন। তিনি জেনেই পরিবারটির প্রতি সহযোগিতায় হাত বাড়িয়ে দেন। সার্বক্ষণিক বিষয়টি দেখবাল করতে সংশ্লিষ্টদের নিদের্শ দেন। পরে রোগীর অবস্থা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাকে শাহরাস্তির উয়ারুক মেডিল্যাব হাসপাতালে ভর্তি করে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে আইসিও সাপোর্ট ,রক্তস্বল্পতা প্রয়োজন হতে পারে দেখে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করেন। পরে ইউএনও আবার শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শাহ আলমকে বিষয়টি অবহিত করে সহায়তার পরামর্শ দেন। ওই কথা জেনে চাঁদপুরের করোণা যুদ্ধে আলোচিত (ওসি) শাহ আলম ছুটে যান হাসপাতালে। সেখানে গিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স এর ব্যবস্থা করে একজন পুলিশ অফিসার শোয়েবকে সঙ্গে দিয়ে কুমিল্লা প্রেরণ করেন।

ওই মানবিক কার্যক্রমটিতে দায়িত্ব পালন করেন, ইউএনও অফিসের সিএ শাহবুদ্দিন। তিনি সার্বক্ষণিক মুঠোফোনে পরিবারটি সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা কার্যক্রম চালিয়ে যান। ওই অনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে নির্যাতিতার ভাই মানিক বলেন, গত ২৫ বছর তার শারীরিক অক্ষমতার জন্য আমরাই তার লালন পালন করছি। কার্যত সে দু-একটি কথা ব্যতীত তেমন কোন কথা বলতে পারেনা। এরইমধ্যে কে বা কারা এই অক্ষম প্রতিবন্ধীর উপর এই নির্যাতন চালিয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করানোর মাধ্যমে আমরা এর বিচার চাই।

বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে আরো ভাইরাল হলে, স্থানীয় সাংসদ মেজর (অব.)রফিকুল ইসলাম বীর উত্তম পরিবারটির জন্য সাহায্য সহযোগিতার বাড়াতে সংশ্লিষ্টদের আবারো নিদের্শ দেন।

এদিকে হতদরিদ্র পরিবারটির প্রতি সাংসদ রফিকের এমন দ্বায়িত্ববোধ ও স্নেহমায়া দেখে এ জনপদের আপামরজনতার মুখেমুখে তিনি ভালোবাসায় অভিষিক্ত হচ্ছেন। এছাড়া “ভাইরাল’’ বিষয়টি নিয়ে ঢাকা শহরসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নারী নির্যাতন প্রতিরোধ বিষয়ক বিভিন্ন সেল এবং মানবাধিকার সংস্থা পরিবারটির শিশু ও মায়ের সুরক্ষার জন্য খোঁজখবর নিচ্ছেন বলে জানা যায়। ওই ঘটনায় নির্যাতিতার পরিবারটিকে সহযোগিতা পাওয়ার পথ দেখিয়ে দেন,স্থানীয় ওয়ার্ড আ’লীগ নেতা রফিক।

বৈশ্বিক করোণা সঙ্কটে ও দিনরাত দাপ্তরিক কাজ সামলিয়ে একজন অসহায় নারীর জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সময় দিয়ে দায়িত্ববোধ দেখিেয়ছেন, সে জন্য প্রশংসার জোয়ারে ভাসছেন তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার বলছেন, ‘‘স্যার’’ আমাদেরকে নিজের পরিবারের মতো করেই সহযোগিতা করেছে।শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহ আলম এলএলবি, তিনি ঘুমাবার সময়টুকু পাচ্ছেন কিনা ? তা নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন। এর মাঝেও তিনি অত্র উপজেলায় অতন্দ্র প্রহরীর মতো যেখানে যা শুনছেন সেখানে ছুটছেন মানবকল্যাণে। নির্যাতিতার পরিবারটির কষ্টের কথা শুনে ছুটে যান তাদের পাশে। এমন দাবি করছেন, ওই কুমারী মাতার ভাই।

এদিকে শারীরিক ও শ্রবণ প্রতিবন্ধী নির্যাতিতা কুমারী মাতা তার এই দুরবস্থার বিষয়ে কাউকে শনাক্ত কিংবা কিছুই বলতে পারছে না ! এর মধ্যে পরিবারটির অভাবে ডুবে থাকা পিছুটানের মাঝে হঠাৎ করে এ শিশু ও তার জন্মদাতা পিতার সন্ধান মিলাতে তারা ব্যাকুল। তার পর ওর মায়ের অপলক দৃষ্টির চাহনি ও ইচ্ছে, নবজাতক সন্তানটিকে অন্তত বাঁচিয়ে রাখতে, স্বপ্ন উঁকি দিয়ে খুঁজছে অজানাকে।

Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তিতে পুকুরে ডুবে বাক্ প্রতিবন্ধী শিশুর মৃত্যু

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে পুকুরের ডুবে ফাহিম (৬) নামে এক শিশুর করুণ মৃত্যু …

vv