ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / শাহরাস্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষনের দায়ে হিন্দু যুবক শ্রীঘরে, ফেঁসে গেলেন কাউন্সিলর রাসেল

শাহরাস্তিতে প্রবাসীর স্ত্রীকে ধর্ষনের দায়ে হিন্দু যুবক শ্রীঘরে, ফেঁসে গেলেন কাউন্সিলর রাসেল

ফাহিম শাহরিণ কৌশিক : শাহরাস্তিতে গৃহবধু ধর্ষনের ঘটনায় হিন্দু যুবক জেল হাজতে। ধর্ষনের ঘটনায় ধামাচাপা, অর্থ বানিজ্য, হুমকি-ধমকির দায়ে ফেঁসে গেলেন শাহরাস্তি পৌরসভার ১০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তুষার চৌধুরী রাসেল।

গত ১০ আগস্ট ধর্ষিতা নারী বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ থানায় একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ১১। কাউন্সিলর তুষার চৌধুরী রাসেলকে বিবাদী করে এই ধর্ষিতা নারী বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, শাহরাস্তি উপজেলার সেনগাও গ্রামের সূত্রধর বাড়ির ব্রজলাল সুত্রধরের ছেলে রাজীব চন্দ্র সুত্রধর ধর্ষিতা নারী সম্পর্কে দেবর হয়। ধর্ষক রাজীব চন্দ্র সুত্রধর গত ১০ ফেব্রুয়ারী থেকে তাকে কচুয়া ও হাজীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে একাধিকবার ধর্ষন করেন। ধর্ষক রাজীবকে ধর্ষিতা নারী বিয়ের চাপ দিলে সে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন। এমন ঘটনায় তারা দুই জন হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের হাতে আটক হয়। তারা আটক হওয়ার পর শাহরাস্তি পৌরসভার কাউন্সিলর তুষার চৌধুরী মো. রাসেল তার জিম্মায় নিয়ে থানা থেকে তাদের ছেড়ে নিয়ে যায়। ওই ঘটনায় কাউন্সিলর রাসেল থানা পুলিশের নাম ভাঙ্গিয়ে এবং ঘটনাটি জানাজানি হবেনা মর্মে ধর্ষক রাজীবের কাছ থেকে ৭৫ হাজার টাকা আদায় করেন বলে একটি নির্ভর যোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রটি আরো নিশ্চিত করেছে ধর্ষিতা নারীর মামলায় দেবর রাজীব আটক হওয়ার পর হাজীগঞ্জ থানা থেকে তাকে ছাড়িয়ে নিতে তদন্তকারী কর্মকর্তাকেও নগদ অর্থের লোভে ফেলতে চেয়ে ছিলেন এই ওয়ার্ড কাউন্সিলর রাসেল। গত ১০ আগষ্ট সোমবার ধর্ষক রাজীব চন্দ্র সূত্রধরকে রাত ৯টায় তার নিজ উপজেলার একটি গ্রামে বিবাহ করতে গেলে ওই বিয়ের আসর থেকে তাকে আটক করে হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সৈয়দ মোশারফ হোসেনসহ সঙ্গীয় ফোর্স। পরের দিন মঙ্গলবার চাঁদপুর আদালতের মাধ্যমে তাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়।

এই কাউন্সিলর রাসেলের বিরুদ্ধে বহু অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে। ধর্ষনের বিষয়টি সমাধান করবেন বলে ধর্ষিতা নারীকে আস্বাশ দিয়ে তিনি কাল ক্ষেপন করেন। পরে এই নারী কোন উপায়ন্ত না পেয়ে আইনের আশ্রয় নেন। ধর্ষনের মামলাটি উঠিয় নিতে, গালি গালাজসহ বিভিন্ন হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন এই কাউন্সিলর। হুমকি-ধমকি ও অশ্লিলতার অভিযোগ এনে ওই ধর্ষিতা নারী বাদী হয়ে শাহরাস্তি থানা তার বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যার নং ৫৫০।

এই প্রসঙ্গে কাউন্সিলর তুষার চৌধুরী রাসেল অভিযোগগুলো অশ্বীকার করে বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতি হিংসার শিকার। সাংসদের এন্টি গ্রুপ এই নারীকে ব্যবহার করে তার সম্মানহানী করছে। তিনি এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছেন।

ধর্ষন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দ মোশারফ হোসেন বলেন, আমরা তাৎক্ষনিক ধর্ষক রাজীবকে আটক করতে সক্ষম হই। তদন্ত পূর্বক আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments

Check Also

কচুয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বড় ভাইয়ের হাতে ছোট ভাই খুন

মোঃ রাছেল, কচুয়া : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের দহুলীয়া গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র …

vv