ব্রেকিং নিউজঃ
Home / অপরাধ / শাহরাস্তিতে দুর্বৃত্তদের মাটি লুণ্ঠনে যানবাহন চলাচলের রাস্তা এখন খাল

শাহরাস্তিতে দুর্বৃত্তদের মাটি লুণ্ঠনে যানবাহন চলাচলের রাস্তা এখন খাল

বিশেষ প্রতিবেদক : চাঁদপুরে শাহরাস্তিতে একদল দুর্বৃত্ত অর্ধশত বৎসরের পুরনো যানবাহন চলাচলের একটি রাস্তার মাটি লুন্ঠন করে খাল বানিয়ে দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের পথচলাতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে দুই দল লোক বিভক্ত হয়ে ৪ বছর ধরে মামলায় জড়িয়ে পড়ে। বর্তমানে ওই বিষয়টি নিষ্পতি না হওয়ায় রাস্তাটি আগের মতো খাল সদৃশ অবস্থানে রয়েছে। এ চলমান বৃষ্টি বাদলে জনদূর্ভোগ পৌঁছেছে চরমে। উপজেলা মেহের দক্ষিণ ইউপি’র ভোলদিঘী মিয়াজী বাড়ির রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে ও বিরাজমান রয়েছে।

ভোগান্তির শিকার পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওই বাড়ির মাঝখান দিয়ে স্থানীয় পথচারী ও কয়েক গ্রামের বাসিন্ধাদের চলাচলে অর্ধশত বৎসরের একটি মাটির সরু রাস্তা ছিল। যেটি ২৬ বছর পূর্বে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে স্থানীয়রা ও ইউপি পরিষদ তৈরি করে ।

সম্প্রতিকালে ওই বাড়ির মনির হোসেনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার সীমা (৩৫) রাস্তাটির নিজের দাবি করে বসেন। গত শনিবার (৬জুন) সকালে সীমা একদল দুর্বৃত্তের সহযোগিতায় ও স্থানীয় কিছু শ্রমিক নিয়ে ওই রাস্তার মাটি কেটে তার বাড়িতে উঠিয়ে নিয়ে যায়। এতে রাস্তাটি পরিণত হয় খালে। ওই রাস্তার মাটি লুন্ঠনে স্থানীয়রা শাহরাস্তি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরে শাহরাস্তি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ আলাম বিষয়টি অবগত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দুই পক্ষকে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দেশ দেয়।

ওই গ্রামের রাস্তার সুবিধাভোগী অধিবাসী মৃত আব্দুল জলিলের পুত্র হাজী বিল্লাল হোসেন বলেন, এ রাস্তাটি আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তির ভূমির উপর দিয়ে পায়ে হাঁটার জন্য তৈরি করা হয়। কালের বিবর্তনে সময়ের প্রয়োজনে এটি ইউনিয়ন পরিষদ অধিগ্রহণ করে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা কেয়ারে অন্তর্ভুক্ত করে। যা বিগত কয়েক বছরে অসংখ্যবার সংস্কারও করা হয়েছে। এর পূর্ব তাসলিমা রাস্তাটির নিজের দাবি করে বিবাদে জড়িয়ে ৮ মামলা মোকাদ্দমা করে।

ওই বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, মৃত- নোয়াব আলীর পুত্র মোঃ মুজাম্মেল হক মাষ্টার বলেন, জন্মের পর থেকে এ পথে হেটে আমি বৃদ্ধ হয়েছি। আর বৃদ্ধ বয়সে জানলাম সরকারি অধিগ্রহণকৃত রাস্তা মালিকানা দাবি করে কেউ খাল কেটে সেখানে গাছের চারা রোপন করেছে। এ রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় তিন কিঃমিঃ।এই রাস্তা দিয়ে ভোলদীঘি, মালরা, ফতেপুর, সোনাপুর, নয়নপুর, বরুলিয়া গ্রামের সাধারণ বাসিন্দারা যাতায়াত করে।

রাস্তার জায়গার দাবিদার মৃত আবদুস ছোবাহানের পুত্র আজমল হক বলেন, ২০০১ সালে আমি এ পথকে রাস্তায় পরিনত করেছি। রাস্তাটি সম্পূর্ণ আমাদের জায়গার উপর দিয়ে গেছে।

ওই গ্রামের শাহজাহানের কন্যা আমেনা বেগম বলেন, গত ৩ বছর পূর্বে তার বিয়ের সময় বরযাত্রীর গাড়ী অভিযুক্ত পক্ষ বেড়া দিয়ে আটকে দেয়। ততসময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল মাসুদ সশরীরে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়ে তার বিয়ের কাজ সম্পন্ন করে। সম্প্রতি ও ইউপি চেয়ারম্যানের শফি আহমেদের মৃত্যুতে এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য আখতারুজ্জামান তিনি বলেন, আমি প্রথম ইউপি মেম্বার হয়ে এ রাস্তাটি মাটি ভরাটের কাজ করি।

রাস্তার মাটি লুণ্ঠনে স্থানীয়দের দৃষ্টিতে অভিযুক্ত তাছলিমা আক্তার সীমা বলেন, আমরা এলাকার সাধারণ মানুষকে দয়া করে এই পথ দিয়ে হাটতে দিয়েছি। তার অর্থ এই নয় যে এই জায়গার মালিক তারা। এই রাস্তার জায়গা সংক্রান্ত বিষয়ে আমি মামলা করেছি যা আজও চলমান রয়েছে।

Facebook Comments

Check Also

এ কেমন শত্রুতা! কচুয়ায় ভূমিহীন কৃষকের সবজি ক্ষেত কেটে দিয়েছে দুবৃর্ত্তরা

মো: রাছেল : চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় ভূমিহীন কৃষকের জমির সবজি গাছের গোড়া কেটে নষ্ট করে …

vv