ব্রেকিং নিউজঃ
Home / সমস্যা-সম্ভাবনা / শাহরাস্তিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা, হুমকির মুখে প্রাচীর ও বিদ্যালয় ভবনঃ দুর্ভোগ চরমে

শাহরাস্তিতে তলিয়ে গেছে রাস্তা, হুমকির মুখে প্রাচীর ও বিদ্যালয় ভবনঃ দুর্ভোগ চরমে

বিশেষ প্রতিনিধি : শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পূর্ব ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এই কেন্দ্রে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটি দিঘিতে তলিয়ে যাওয়ায় রোগীরা আর আগের মতো সেবা নিতে আসতে পারছেন না। কিছু কিছু রোগী বিপদে পড়ে কেন্দ্রের পেছন দিয়ে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করে। সদ্যনির্মিত স্বাস্থ্য কেন্দ্রের সীমানা প্রাচীরটিও রয়েছে হুমকির মুখে। যে কোনো সময় সীমানা প্রাচীরটি দিঘিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্থানীয় অনেকেই জানান, দিঘিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও কী কারণে এখানে সীমানা প্রাচীরটি তৈরি করা হয়েছে তা বোধগম্য নয় তাদের।

স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি ঘুরে আরও কিছু অনিয়ম চোখে পড়ে, যাতে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। শাহরাস্তি উপজেলার সীমানাবর্তী ইউনিয়ন চিতোষী পূর্ব। ঐতিহ্যবাহী চিতোষী বাজারেই অবস্থিত এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি। অবহেলিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনসাধারণের স্বাস্থ্যসেবায় অগ্রণী ভূমিকা রেখে আসছে এ প্রতিষ্ঠানটি। চিতোষী এলাকা থেকে উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার। তাই যে কোনো রোগীর জন্যে প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা পেতে এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির জুড়ি নেই। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির প্রবেশমুখেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী সাহেবের দিঘি। দিঘির পাড় দিয়েই স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করে থাকেন রোগীরা। বিগত কয়েক বছর যাবৎ ধীরে ধীরে রাস্তাটি ভেঙ্গে দিঘিতে তলিয়ে যায়। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করার মতো কোনো উপায় না থাকায় রোগীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে। বর্তমানে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। ইতিমধ্যে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এলাকাটি পরিদর্শন করেছেন। রাস্তার কাজ করার আশ্বাস প্রদান করলেও এখনো দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যায়নি। দিঘিরপাড় ও ধান ক্ষেতের মাঝ দিয়ে কোনো মতে স্বাস্থ্য কেন্দ্রের গেইটে গিয়ে দেখা যায়, গেইটে তালা লাগানো। ভেতর থেকে দেখতে পেয়ে দায়িত্বে থাকা স্বাস্থ্যকর্মী গেইটের তালা খুলে দিয়ে জানান, এ প্রধান গেইট দিয়ে কয়েক মাস যাবৎ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কেউ প্রবেশ করেননি।

কেন্দ্রের পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা শাহনাজ সুলতানা জানান, রাস্তা না থাকায় আগের মতো এখন আর রোগীরা সেবা নিতে আসছেন না। কিছু কিছু রোগী কেন্দ্রের পেছন দিকে দিয়ে অনেক পথ ঘুরে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন। তিনি জানান, এ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে গর্ভবতী মায়েদের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। কিন্তু রাস্তা না থাকায় তারা সেবা নিতে আসতে পারছেন না। এখানে আসতে ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তারা অনেক পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা সদরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রবেশ করে দেখা যায় কেন্দ্রে অলস সময় পার করছেন উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার কপিল চন্দ্র হাওলাদার। তিনি জানান, রোগীরা আসতে পারছে না, তাই এখানে রোগীর চাপ নেই। সড়কের অভাবে এ অঞ্চলের শত শত মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাই অতি দ্রুত সড়কটি তৈরি করার উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানান তিনি।

অবাক হওয়ার বিষয় হলো, এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে যাতায়াতের কোনো পথ না থাকলেও কয়েক লক্ষ টাকা ব্যয়ে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, যার কাজ এখনো চলমান রয়েছে। তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দিঘির পাড় ঘেঁষে প্রাচীর তৈরি করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সীমানা প্রাচীরটির নিচের অংশের মাটি দিঘিতে তলিয়ে গিয়েছে। যে কোনো সময় সীমানা প্রাচীরটিও দিঘিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে পরিদর্শিকা শাহনাজ সুলতানা জানান, কী কারণে সীমানা প্রাচীর করা হয়েছে আমার জানা নেই। তবে শুনেছি বরাদ্দের টাকা ফেরৎ চলে যাবে তাই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে।

এছাড়া তাড়াহুড়ো করে প্রাচীর নির্মাণের আরেকটি অনিয়ম চোখে পড়ে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রায় ৪০টি গাছ সীমানার বাইরে রেখেই নির্মাণ করা হয়েছে সীমানা প্রচীর। কেন্দ্রের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অপরূপ সৌন্দর্য্যের গাছগুলোকে সীমানার বাইরে রেখে কেনো প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে তার উত্তর পাননি এলাকার জনগণ। তাদের প্রশ্ন, কেনো, কার স্বার্থে সীমানার বাইরে রাখা হলো স্বাস্থ্য কেন্দ্রের গাছগুলো?

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ফারুক হোসেন জানান, স্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ কর্তৃক সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হচ্ছে। কাজ এখনো চলমান রয়েছে, রঙের কাজ বাকি রয়েছে। তিনি জানান, জেলা কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে, গাছগুলো বাইরে রাখার বিষয়ে জেলা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। সীমানা প্রচীর কত ফুট বা কত টাকা বরাদ্দ তা আমি বলতে পারবো না।

তিনি আরও জানান, স্বাস্থ্য কেন্দ্রে যাতায়াতের সড়কটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় আমি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সড়কের কাজ করবেন বলে তারা আশ্বস্ত করেছেন।

এদিকে স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির পাশেই রয়েছে চিতোষী আর এন্ড এম উচ্চ বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ের একটি ভবন দিঘিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রটির যাতায়াতের রাস্তা দিয়ে দক্ষিণ অঞ্চলের শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাতায়াত করে থাকে। রাস্তাটি বিলীন হয়ে যাওয়ায় স্কুলের শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা চিতোষী বাজার অতিক্রম করে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। যার ফলে তারা যানবাহন ও ইভটিজিংসহ নানা বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। দিঘির পশ্চিম পাড় ঘেঁষে সড়কটি নির্মাণ করা হলে হাসপাতালের রোগী ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের স্থায়ী সমাধান হবে বলে স্থানীয়রা মনে করেন।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাফছা আক্তার ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহছেনা আক্তার জানান, দিঘিরপাড় দিয়ে সড়কটি চালু হলে সেটি তাদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতে অনেক উপকারে আসবে। বাজারের কোলাহল থেকে তারা মুক্তি পাবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা থেকে তারা রেহাই পাবে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মিজানুর রহমান জানান, দিঘিটির কারণে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের আসা বন্ধ হয়ে গেছে। স্কুল ভবন ও স্বাস্থ্য কেন্দ্র হুমকির মুখে রয়েছে। তাই দিঘিটির পশ্চিম পাড় দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। আশা করি, যথাযথ কর্তৃপক্ষ গুরুত্ব সহকারে বিষয়টি বিবেচনা করে এর স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

Facebook Comments

Check Also

হাজীগঞ্জে চুরি হওয়া দুই মোটরসাইকেল সহ চোর গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থেকে হোন্ডা চোর মনির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে হাজীগঞ্জ …

Shares
vv