ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / শাহরাস্তিতে গভীর রাতে সরকারি কর্মকর্তার কান্ড

শাহরাস্তিতে গভীর রাতে সরকারি কর্মকর্তার কান্ড

বিশেষ প্রতিবেদক : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে গভীর রাতে নেশা করে এসে স্ত্রীকে পিটিয়ে জখম করল সবুজ নামে এক কর্মকর্তা (পিআইও)। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ওই কর্মকর্তার স্ত্রী সুমিকে শাহরাস্তি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রাতেই ভর্তি করা হয়।

বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাত শাহরাস্তি উপজেলা সংলগ্ন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন মিয়াজীর বিল্ডিংয়ে এ ঘটনা ঘটে।

গৃহবধূকে উদ্ধারকারী ব্যক্তিবর্গ সংশ্লিষ্ট প্রশাসন সূত্র জানায়, বুধবার ২৪জুন রাতে শাহরাস্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোঃ সবুজ বৃহস্পতিবার ২৫জুনরাতে মাদক ও অস্ত্রসহ আটককৃত কৃষক লীগ নেতা রেদোয়ান মিজির আস্তানা থেকে তিনি নেশা করে বাসায় ফিরেন। এসে ঠুনকো অভিযোগে স্ত্রী সুমিকে বেদম প্রহার করে বাসা থেকে বের করে রাস্তায় ফেলে দেন। পরে তিনিও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন থাকেন।

ওই রাতের বেলায় মুঠোফোনের কল্যানে বিষয়টি ভাইরাল হয়ে পড়ে। বাড়ির মালিক বিষয়টি আঁচ করতে পেরে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহ আলমকে অবহিত করেন। ওই সংবাদে থানার এসআই জাহেদ ভূঁইয়া সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এসে ওই কর্মকর্তা সবুজের স্ত্রী সুমীকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনে ভর্তি করেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার বিষয়টি সমগ্র এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ওই কর্মকর্তার দিকনির্দেশনায় করোনা ভীতি ও উন্নত চিকিৎসার কথা বলে শাহরাস্তি পপুলার হাসপাতাল স্থানান্তর করা হয়। তিনি বর্তমানে পুপুলার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা ও বিভিন্ন মাধ্যমে দাবি করছেন, শাহরাস্তি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সবুজ দীর্ঘদিন ধরেই শাহরাস্তি উপজেলা কৃষক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেদওয়ানের সাথে ইয়াবা সেবন করে আসছেন। কখনো কখনো ঘরে বসেই ইয়াবাসেবন করে ফূর্তিতে মেতে উঠতো। তিনি একটি দপ্তরের বড় কর্মকর্তা হওয়ায় তার ভয়ে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পেতনা। তার ওই সমস্ত কর্মকাণ্ডে স্ত্রী বাধা দিয়ে তার সঙ্গে এ বিবাদের সৃষ্টি হয়।

সম্প্রতিকালে এই কর্মস্থলে যোগদান করে অনেক অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন বলে বিষয়টি চারদিকে চাউর হচ্ছে। অর্থবিত্ত আহরণে তৈরি হয় তার উচ্চ বিলাসী জীবন যাপন। ওই জীবনে তিনি জড়িয়ে যান মাদক সহ নানা অপকর্মে। এছাড়া তার অফিসে অত্র এলাকায় মাদকের সঙ্গে যুক্ত কিছু লোকজন আনাগোনা ছিল বলে স্থানীয়রা বলিয়ে বেড়াচ্ছেন।ওই সব লোকের জন্য প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসে কাজে সংশ্লিষ্টরাও বসার জায়গা পেতনা ।

এদিকে ওই কর্মর্তাও স্ত্রীকে উদ্ধারকারী শাহরাস্তি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, শুনেছি সারারাত রাস্তায় পড়েছিল পিআইও সবুজ। পরে বাড়ির মালিক রাতভর ৪জন লোক দিয়ে পাহারা দিয়ে সকালে ওই কর্মকর্তার একটু জ্ঞান ফিরলে ওই ৪ জন পাহারাদার তাকে পাঞ্জা করে তার ঘরে রেখে আসে।

নির্যাতনের স্বীকার সুমি জানান, সবুজ কেন এ অত্যাচার ও নির্যাতন চালায় জানিনা। এ বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার জন্য মোঃ সবুজের মুঠোফোনে চেষ্ঠা করে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহআলম জানান, বাড়ির মালিক ফোন করে বিষয়টি আমাকে অবহিত করে। ওইরাতে থানার পুলিশ অফিসার এসআই জায়েদ ভূঁইয়া সঙ্গীয় ফোর্স গিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।

এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত নির্যাতিতার পক্ষ থেকে কোথাও কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে স্থানীয়দের মাঝে একজন কর্মকর্তার এমন কর্মকান্ড নিয়ে ‘‘টক অব দ্যা শাহরাস্তি’’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়েছে।

Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তিতে করোনায় ৪ চেয়ারম্যান আক্রান্ত

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে ৪ জন ইউপি চেয়ারম্যান আক্রান্ত …

vv