ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / শাহরাস্তিতে গণধর্ষণ মামলার আসামীদের নিয়ে শালিস করা সেলিম চেয়ারম্যানের সাফাই

শাহরাস্তিতে গণধর্ষণ মামলার আসামীদের নিয়ে শালিস করা সেলিম চেয়ারম্যানের সাফাই

প্রিয় চাঁদপুর রিপোর্ট : শাহরাস্তিতে কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগে রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটনের শালিস বৈঠক হতে ৩ ধর্ষককে আটকের ঘটনায় নিজেকে নির্দোষ দাবী করে সাফাই বক্তব্য দিয়েছেন ওই চেয়ারম্যান। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর গত সোমবার রাতে তিনি তার ফেসবুক আইডি (Salim Patwary) হতে ভুলে ভরা বানান সম্বলিত একটি পোষ্ট দেন।

পোষ্টের একটি ছবিতে কুরুচিপূর্ণ ক্যাপশন লিখে তিনি নিজেকে শুদ্ধ মানুষ ও অপর ছবিতে মামলায় দায়ের করা এজাহার কপি (ভিকটিমের মোবাইল নাম্বারসহ) উল্লেখ করে ভিকটিমের পরিচয় এবং ঘটনার বিষয়বস্তু জনসম্মুখে উপস্থাপন করেন। পোষ্টে উল্লেখ করেন যে, ১৩ আগষ্ট ঘটনা ঘটলেও তিনি ২১ আগষ্ট ঘটনা অবগত হয়ে থানায় অভিযোগ করার পরামর্শ দেন। ২২ আগস্ট নিজ কার্যালয়ে অভিযুক্তদের অভিভাবকগনকে তলব করেন। ২৩ আগস্ট সন্ধ্যায় সকল অভিযুক্তদের হাজির করার নির্দেশ দেন। ওইদিন রাত ৯টায় গ্রামের প্রায় ২শত লোকের উপস্থিতিতে ধর্ষিতার জবানবন্দী নেন। তিনি বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন এবং আসামীদের পুলিশে তুলে দেন।

এ বিষয়ে কোন টাকা লেনদেনের কথা হয়নি উল্লেখ করে তিনি আরও লিখেছেন, তার বিরুদ্ধে যে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ হয়েছে আল্লাহ তাদের বিচার করবে। তার বিরুদ্ধে টাকা দাবী বা নেয়ার ঘটনা প্রমান করতে পারলে তিনি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ছেড়ে দিবেন। প্রমান করতে না পারলে যারা শতভাগ মিথ্যা সংবাদ লিখেছেন তারা যেন তাদের পেশা ছেড়ে দেন।

তার এই পোষ্ট প্রচার হতেই পক্ষ বিপক্ষের লোকজন কমেন্টবক্সে নানামুখী মন্তব্য করতে থাকে।
সরেজমিনে সোমবার ওই এলাকায় গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য (মেম্বার) জানান, বিষয়টি ১লক্ষ ৬০ হাজার টাকায় ধামাচাপা দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। চুড়ান্ত ফয়সালার আগেই পুলিশ এসে আসামীদের আটক করে নিয়ে যায়।

ভিকটিমের জেঠা মোঃ জয়নাল আবেদীন জানান, ঘটনার দিন রাতে আমরা বিষয়টি স্থানীয় মেম্বারকে জানালে তিনি চেয়ারম্যানকে জানাতে বলেন। রোববার (১৬ আগস্ট) বিষয়টি চেয়ারম্যানকে জানালে তিনি অভিযুক্তদের অভিভাবকের সাথে আলোচনা করে এ ব্যপারে সুরাহার আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে চেয়ারম্যানের সাথে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করলে তিনি শনিবার (২২ আগষ্ট) রাত ৮টায় উভয় পক্ষকে ইউনিয়ন পরিষদে বসার সিদ্ধান্ত দেন। ওইদিন অভিযুক্তদের অভিভাবকরা হাজির হলে চেয়ারম্যান বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদে সমাধানের সিদ্ধান্ত নেন। সে মতে ২৩ আগষ্ট অভিযুক্তদের নিয়ে আবার বসার সিদ্ধান্ত হয়। ওইদিন চেয়ারম্যান বিষয়টি সমাধানের লক্ষ্যে উভয়পক্ষের মানিত শালীসদার নিযুক্তের সিদ্ধান্ত দেন।

ইতোমধ্যে কে বা কারা পুলিশে ফোন দিলে পুলিশ ইউনিয়ন পরিষদে এসে অভিযুক্তদের বৈঠক হতে আটক করে নিয়ে যায়।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন একটি সরকারী কলেজে চাকরির পাশাপাশি ওই ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার মুখোশে আবৃত এলাকায় লিটন স্যার হিসেবে পরিচিত হলেও তার বিরুদ্ধে নিজ ছাত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্কের কথা এলাকায় ওপেন সিক্রেট। ইতোপূর্বে নিজ ছাত্রীর সাথে নিষিদ্ধ প্রনয়ের ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে ভেসে বেড়াচ্ছে। করোনাকালে এলাকার দুঃস্থ ও অসহায়দের ত্রাণের চাল চুরির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ফেসবুকে দেয়া তার ভাষ্যমতে ধর্ষণের ঘটনা জানার পর থানায় না খবর দিয়ে নিজ কার্যালয়ে শালিশের আয়োজন করে ৩ দিন যে সময় ক্ষেপন করেছেন একজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের এ এখতিয়ার বা আইনী ক্ষমতা আছে কিনা এমন প্রশ্ন সচেতন মহলের। নিজের আইডিতে ৩ দিনের কথা উল্লেখ করা হলেও ঘটনার পর হতে তিনি এ খবর জানতেন। অপরাধীদের বাঁচাতে ও আইনী প্রক্রিয়ায় ভিকটিমের মেডিকেল পরীক্ষায় বিলম্বে মামলার আলামত নষ্ট করতে তিনি এমনটি করেছে বলে তারা জানিয়েছেন।

গণমাধ্যমে ভিকটিমের ছবি ও পরিচয় না প্রকাশে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকলেও চেয়ারম্যান তার ফেসবুক আইডিতে মামলার এজাহার কপি (ভিকটিমের মোবাইল নাম্বারসহ) প্রকাশ করে হাইকোর্টের নির্দেশনা অমান্য করেছেন এবং এতে ভিকটিমের মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ মহল। এ ব্যপারে চাঁদপুর জর্জ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি অ্যাডঃ সেলিম আকবর জানান, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ধর্ষণের বিচার করার আইনী বৈধতা নেই। শালিশের নামে ২শত লোকের সামনে ভিকটিমের জবানবন্দী নেয়া আইনসিদ্ধ নয়। চেয়ারম্যান তার ফেসবুক আইডিতে মামলার এজাহার কপি প্রকাশ করা ঠিক হয় নি।

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করে আসামীদের নিজে পুলিশে তুলে দেয়ার যে দাবী করেছেন এ ব্যপারে থানা অফিসার ইনচার্জ মোঃ শাহ্ আলমের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সত্য নয় বলে জানান। তিনি আরও জানান, গণধর্ষণ মামলার আসামীদের নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে শালিস হচ্ছে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিশ্চিত হয়ে খিলা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মোঃ জাহাঙ্গীর আলমকে ঘটনাস্থলে পাঠালে তিনি বৈঠক হতে ৩ ধর্ষককে আটক করেন।

এ বিষয়ে রায়শ্রী উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সেলিম পাটোয়ারী লিটন মুঠোফোনে জানান, ঘটনা হয়েছে ১৩ আগস্ট আমাকে মেয়ের চাচা জানিয়েছেন ২১ আগস্ট। এরপরে ঘটনার সাথে জড়িতদের আমি ২২ আগস্ট হাজির হওয়ার জন্য বলেছি। তাদের সাথে আলাপ করে বিস্তারিত জানার পর বুঝতে পারলাম মেয়েটির দু’জনের সাথে সম্পর্ক আছে। পরবর্তীতে ঘটনার বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানাই। তিনি ওই ৩জনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করার জন্য বলেন। পরবর্তীতে শাহরাস্তি থানার পুলিশ তাদেরকে আটক করে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর সংবাদ প্রকাশ হয় এবং আমি শালিস করে টাকা নিয়েছি এমন মিথ্যা তথ্য দেয়া হয়। মূলত এই শালিস নয়, কোন শালিস বৈঠক থেকে আমি ১০ টাকা নেয়ার নজির নেই। আমার বিষয়ে মিথ্যা প্রচার করায়, আমিও আমার ব্যাক্তিগত ফেসবুকে সত্য ঘটনা তুলে ধরেছি। না লিখলে আমার ইউনিয়নের লোকজন কিভাবে সত্যটা জানবে?

Facebook Comments

Check Also

হাইমচরে ইমুতে ব্লাকমেইল করে চাঁদা দাবি, থানায় অভিযোগ করায় হামলায় আহত ৩

হাইমচর প্রতিনিধি : চাঁদপুর জেলার হাইমচর উপজেলার আলগী উত্তর ইউনিয়নের ছোট লক্ষিপুর গ্রামের মাওঃ আমিনুল ইসলামের …

vv