ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / শাহরাস্তিতে কোভিড জয়ী ডাঃ প্রতীক ফের কর্মস্থলে

শাহরাস্তিতে কোভিড জয়ী ডাঃ প্রতীক ফের কর্মস্থলে

মোঃ মাসুদ রানা : চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডাঃ প্রতীক সেন কোভিড জয় করে কর্মস্থলে ফিরে এসেছেন। যোগদান করেই তিনি সহকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হন। ছেড়ে যাওয়া কর্মস্থলে যোগদান করে তিনি নিজেও স্বস্তি বোধ করেন।

শনিবার(১৩জুন) সকালে তিনি চট্টগ্রাম নিজ বাসা থেকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মস্থলে এ যোগদান করেন।

কোভিড-১৯ জয়ী ডাঃ প্রতীক জানান, বৈশ্বিক করোনার ছোবলে পৃথিবী যখন তটস্থ করে ভাইরাসটি বাংলাদেশের ঢুকে পড়ে। একজন ডাক্তার হিসেবে আমি ‘‘দিনরাত’’ ভাবতে থাকি এর ভয়াল থাবা কীভাবে মোকাবিলা করব।

৮মার্চ দেশে প্রথম করোনো রোগী শনাক্তের পর থেকে রাতের ঘুম অনেকটাই কমে আসে। কিছুদিন যেতে ভাইরাসটি ঢাকার গন্ডি ডিঙ্গিয়ে চাঁদপুর অবশেষে আমার কর্মস্থল শাহরাস্তিতে মঙ্গলবার (৫মে) কোভিড রোগী শনাক্ত হয়। আমার চিন্তা আরো বেড়ে যায়। ওই সময় হঠাৎ করে আমি অসুস্থতা বোধ করি এবং শরীরের কিছু সমস্যা এতোটাই বেড়ে যায়, চট্টগ্রামে গিয়ে একজন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের পরার্মশে ম্যাক্সহাসপাতালে এনজিওগ্রাম পর্যন্ত করতে হয়।

ওই পরীক্ষা রিপোর্ট ভালো দেখে আবার ফিরে আসি কর্মস্থলে। এরইমধ্যে (১৬মে) আমার শরীরে জ্বর আসে । কাল বিলম্ব না করে (১৭মে)আমার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্স নমুনা দিয়ে নিজ বাসা চট্টগ্রামে আইসোলেশন চলে যাই। তার পরদিন চাঁদপুর সিভিল সার্জন মোঃ সাখাওয়াত উল্লাহ মহোদয় আমাকে ফোন করে জানিয়ে দেন রিপোর্ট পজিটিভ। শরীরের কন্ডিশন মনের আগাম সংবাদ আমি নিশ্চিত হয়ে যাই কিছু একটা হয়েছে। তাই পূর্ব থেকে পরিবারের অন্য সদস্যদের থেকে নিজেকে বন্দী করে ফেলি।

এবার শুরু হলো কোভিড বিজয়ের মিশন। আমার ‘বস’ চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডাঃ হাসান শাহরিয়ার কবির তুমি বাসায় থাকো শ্বাসকষ্ট না হলে বর্তমানে হাসপাতালের পরিস্থিতি আরো ভয়ঙ্কর। শুরু হলো কোভিড নির্মূলে এলোপ্যাথিক দাওয়াই ও চাইনিজ আদলে গরম পানির ভাপ নেওয়া। শ্বাসকষ্ট ততটা আঘাত বেশী না হলেও জ্বরটা ৯দিন অবধি ভুগিয়েছে। ১২ দিন পর এ প্রক্রিয়া চলার পর আস্তে আস্তে সুস্থতা বোধ করি।

যখন বেঁচে থাকার একটা পথ দেখি তখনই শুরু হয় মনের কষ্ট উঁকি দেওয়া। এক ছাদের নিচে থেকে সবাইকে দেখি, দুটি সন্তান বাবা বলে ডাকে আমি তাদেরকে ছুঁইতে পারি না, তারাও আমাকে ছুঁইতে পারে না, এই কষ্টটা কোভিডের আঘাতের কষ্ট থেকেও বেশি।

২১ দিনের আইসোলেশন জীবনে একাকিত্ব বোধ হয় কোভিড উপসর্গকেও হারমানিয়েছে। কিন্তু ওই যুদ্ধ এত সহজ ছিল না যদি না আমার সহধর্মিনী ভগবানের পরে সহযোগিতা হাত না বাড়িয়ে দিত। এভাবেই করোনা পজিটিভ থেকে নেগেটিভ হয়। শনিবার ফিরে আসি কর্মস্থলে। এসেই দেখি আমার এক স্বাস্থকর্মীসহ ১৩ জন লোক আক্রান্ত কোভিডে। মনে হয় ব্যক্তিগত যুদ্ধে কিছুটা উত্তীর্ণ হলো সমষ্টিগত যুদ্ধের মাঠে আবার ফিরে এলাম।

আপনাদের আর্শিবাদ ও ভালোবাসা থাকলে আমার মত পুরোদেশের মানুষকে মুক্ত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি।

Facebook Comments

Check Also

সংক্রমণের ঝুঁকি সত্ত্বেও মাঠে কাজ করছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ

মাসুদ হোসেন : সংক্রমণের ঝুঁকি সত্ত্বেও ছড়িয়ে পড়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস ঠেকানোর যুদ্ধে সামনে থেকে লড়াই …

vv