ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / শব্দবোমায় ভাইরাল সেফুর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

শব্দবোমায় ভাইরাল সেফুর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা

মো.মাসুদ রানা : ‘‘শব্দবোমা ফাটিয়ে’’ ও অতিকথনে ভাইরাল সেফুদা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও পবিত্র কোরআন শরীফ অবমাননার মামলায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।

মামলা বিষয়ে জানাযায়, গত ২৩ এপ্রিল সাইবার ট্রাইব্যুনালে এই মামলাটি করেন ঢাকা বারের আইনজীবী আলিম আল রাজী (জীবন)। আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট কে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। আজ ট্রাইব্যুনালের পেশকার শামীম আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন এ বিষয়ে দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২৯ সেপ্টেম্বর তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।

গত ১০ইসেপ্টম্বর মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা কাউন্টার টেরোরিজম এন্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-পরিদর্শক পার্থপ্রতিম ব্রহ্মচারী আসামি (সেফাত উল্লাহ) বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। বাংলাদেশে সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারক আস-সামস জগলুল হোসেন এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। গ্রেপ্তার সংক্রান্ত তামিল প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামি সেফাত উল্লাহ সেফুদা অনলাইনে বিভিন্নভাবে একাধিকবার ভিডিও আপলোড করেছে, যা ভাইরাল হয়েছে। তিনি এসব ভিডিওর মাধ্যমে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। তিনি অনেকের বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ অশ্লীল গালিগালাজ করেছেন যা আক্রমণাত্বক, মিথ্যা ভয়ভীতি প্রদর্শন, তথ্য-উপাত্ত প্রকাশ এবং একাধিক গোষ্ঠির মধ্যে মতবিরোধ সৃষ্টি করেছে। ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা অবনতি হয়েছে।

মামলার অভিযোগ থেকে জানাযায়, গত ৯ এপ্রিল বাদী ফেসবুকে দেখতে পান যে (সেফাত উল্লাহ সেফুদা) অস্ট্রিয়ার ভিয়েনা থেকে তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে পবিত্র কুরআন সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের আজেবাজে কথা বলেছেন এবং কোরআনকে অবমাননা করেছেন, যা সমগ্র ইসলামী বিশ্বকে আহত করেছে।

যে ভাবে আলোচনায় সেফুঃ সেফাত উল্লাহ সেফু (৬৮)! ফেসবুক দুনিয়ায় সকল বিষয়ে কথা বলে সেলিব্রিটি বনে যাওয়া যার কাজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যানে অতিকথনে স্বল্পসময়েই পরিচিত পান এই সেফু । সময় নেই, যখন খুশি তখন যে কোন বিষয়ে বয়ান দেন তিনি। দেশ বিদেশের বিভিন্ন বিষয়ে,রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সমাজের গুণীজনসহ সকল শ্রেনীপেশার মানুষকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করে বির্তকের টনের্ডো বইয়ে দেওয়া তার খোয়াব।ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ ফেসবুক ও ইউটিউবের সুবাদে তার অকথ্য মন্তব্য শুনতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তার অশ্লীল কথার রোষানল থেকে সকল স্তরের লোকসহ খেটে খাওয়া মানুষ পর্যন্ত রক্ষা পায়নি। এছাড়া স্বদেশের আবালবৃদ্ধবনিতাকে মদ খা, মানুষ হবি, গরীব,ভাত খা, বলে টিপ্পনি কাটা তার নেশায় রূপ নেয়।

ধর্মীয় গ্রন্থ, প্রিয় মহানবী, রাজনৈতিক,সামাজিক,ব্যক্তি,সিনেমার নায়ক-নায়িকা,মডেলসহ কেউ বাদ নেই তার এ তালিকায়। সম্প্রতি মুসলমানদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ কোরআন শরিফ ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে তার কুরুচিপূর্ণ ও অশালিন মন্তব্য করেন। এটি চাউর হতেই দেশ বিদেশে ধর্মপ্রান তৌহিদী মুসলিম জনতা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ তীব্র প্রতিবাদ শুরু করেন। ওই বিকৃত আচরন, তার (সেফুদার) ভাষায় “শব্দ বোমা” নিয়ে দেশ ও বিদেশে প্রতিবাদের ঝড় বইছে।

কে এই সেফাত উল্লাহ সেফু ? তার পরিবারের সদস্য,বিভিন্ন শ্রেনীপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, কে এই সেফু ? তার কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের দাম্ভিকতা কোথায়? তার ভাষ্য অনুযায়ী শব্দ বোমায় ভাইরাল সেফুর গ্রামের ঠিকানায় দেশের বাড়ি চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার সুচীপাড়া উত্তর ইউপির চেড়িয়ারা গ্রামের মজুমদার বাড়িতে (প্রকাশ করের) । তার জন্ম স্থানে গেলেই বেরিয়ে আসে তার একাল সেকাল।

সেফুর বড়ভাই স্কুলমাস্টার শামছুল হুদা মজুমদার জানান, তার বাবা ২টি বিয়ে করেন। সর্ব সাকুল্যে সেফুদের ভাই-বোনের সংখ্যা ১৪ জন । সেফুর আপন ৬ ভাই- ২বোনসহ তারা ৮ জন, সেফু ৪ নম্বর। তার বাবার ২য় পরিবারকে ৪সন্তানসহ বিয়ে করলে পরে এ ঘরে ১ ভাই ১ বোন জন্ম নেয়। ১৯৯৯ সালে তৎকালিন সময়ে লন্ডন প্রবাসী পিতা হাজী আলী আকবর লন্ডনে মারা যান। ওই সংবাদ শুনার পরও দেশে আসেনি তিনি। সেফুকে শিক্ষা জীবন শেষে কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার মাসিতারা মুন্সি বাড়িতে বিয়ে করানো হয়। তার একমাত্র ছেলে স্বপ্নীল ফিনল্যান্ডে থাকলেও তার মা সেফুর স্ত্রী নাহার (৫৫)থাকেন ঢাকায়। প্রায় ২২বছর আগে সেফু জাতিসংঘ-এর আইএলওতে চাকুরি সুবাধে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় চলে যান।

পিতা আকবর ২৫ বছর পূর্বে সেফুর বিতর্কিত কর্মকান্ডের জন্য অন্তর থেকে তাকে বর্জন করেন। পরিবারের অবাধ্য এই সেফু একজন বিকারগ্রস্ত বলে জানান। ওই সময় তাকে একবার পাবনার পাগলা গারদ ও জেলখানায় রাখা হয়েছিল।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পিতা তাকে ত্যাজ্যপুত্র করেছে লোক মুখে শোনা গেলেও এর দালিলিক কোন প্রমান নেই। বাড়ির সামনে তার পৈত্রিকসূত্রে পাওয়া ১৭/১৮ শতাংশ বাগান বাড়ি সম্পত্তি এখনো খালি পড়ে রয়েছে। তবে মাঝে মাঝে সেফু বাড়িতে ফোন করে ভালো কথার একপর্যায়ে সে হঠাৎ করে গালমন্দ শুরু করে। সবাই এখন বিরক্ত, কেউ তার ফোনকল ধরছে না।

সেফু সম্পর্কে তার বড় ভাই বলেন, তার কার্যকলাপকে আমি খুব খারাপ দৃষ্টিতে দেখি। আমরা সমাজে মুখ দেখাতে পারছি না। আমরা পরিবারিক ভাবে বিব্রত ও লজ্জিত। তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্র যে কোনো পদক্ষেপ নিলে আমাদের পরিবার হতে কোনো আপত্তি থাকবে না।বর্তমানে পরিবারের কারো সঙ্গে তার যোগাযোগ নেই বলে দাবী করেন তিনি।

তার ছোটবেলার বন্ধু রাগৈ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক সুনীল চন্দ্র দেবনাথ বলেন,নিজ এলাকা থেকে প্রাথমিক শেষ করে ১৯৬৬ সালে ৮ম শ্রেণী পড়ে পরে হাজীগঞ্জ হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করে ঢাকার সাভারে চলে যান। সে লেখাপড়ায় মেধাবী ও ইংরেজিতে দক্ষ হলেও আচরনে বরাবরই ছিলো বদমেজাজী, পাগলাটে ও উশৃঙ্খল স¦ভাবের। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি ভার্সনে জিও গ্রাফিতে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।

ওই বাড়ির জামে মসজিদের ইমাম নূরুল ইসলাম জানান, তিনি ১৩ বছর যাবৎ সেফুদের বাড়ির মসজিদে নামাজ পড়ান। সম্প্রতি ধর্মগ্রন্থ ও প্রিয় মহানবীকে নিয়ে কটুক্তি করার জন্য তার শাস্তির দাবি করেন।

স্থানীয় স্কুল শিক্ষক, ইসলামিক ফ্রন্ট শাহরাস্তি উপজেলা শাখার সভাপতি হেলাল আহম্মেদ বলেন, সে শাহরাস্তি উপজেলা ও ইসলামের ধর্মের সম্মানহানি ঘটিয়েছে ,তার বিচারের দাবি জানাই। সাবেক শাহরাস্তি উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক কামরুজ্জামান মিন্টু বলেন,সে একজন বদ্ধ উন্মাদ,প্রচলিত আইনে তার বিচার হওয়া উচিৎ।

Facebook Comments

Check Also

যাঁর প্রচেষ্টায় প্রতিষ্ঠিত হাজীগঞ্জ ডিগ্রি কলেজ

প্রিয় চাঁদপুর : শিক্ষা বিস্তারে চাঁদপুরের যে কজন মহৎপ্রাণ মানুষের অবদান উল্লেখযোগ্যভাবে স্মরণীয় তাঁদের মধ্যে অধ্যাপক …

vv