ব্রেকিং নিউজঃ
Home / মতামত / মা যখন সন্তান হত্যার কাণ্ডারী, আমাদের গন্তব্য কোথায়? 

মা যখন সন্তান হত্যার কাণ্ডারী, আমাদের গন্তব্য কোথায়? 

চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় গত ১৬ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত আটটার মধ্যে সংগঠিত নওরোজ আফরিন প্রিয়া(২১)’র হত্যার রহস্য ইতিমধ্যে হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে অর্থাৎ ২৩ সেপ্টেম্বের বুধবার শাহরাস্তি মডেল থানার পুলিশ উদঘাটন করতে সমর্থ হয়েছেন। ইতিমধ্যে প্রিয়ার মা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন। এজন্য পুলিশ বাহিনী সাধুবাদ পাওয়ার দাবি রাখে।
ভিডিও দেখুন… https://youtu.be/idqYCQ9RVj0
প্রিয়া হত্যাকান্ড সংঘটিত হওয়ার পর থেকে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য থানা হয়ে চাঁদপুর নিয়ে যাবার পূর্ব পর্যন্ত এবং ময়না তদন্ত শেষে বাড়িতে লাশ নিয়ে আসার পর তার মা তাহমিনা সুলতানা রুমার কান্নার অভিনয় দেখে যে কারোরই চোখে পানি এসেছে! যারা উপস্থিত ছিলেন এবং দেখেছেন তাদের সবার এমনটা হওয়াই স্বাভাবিক ছিলো। কিন্তু প্রিয়ার মা’য়ের সেই কান্না যে মেকি ছিলো তার আসল রহস্য কারোরই কি বুঝার উপায় ছিলো? প্রিয়ার মা তাহমিনা সুলতানা রুমা প্রতি মূহুর্তে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ছেন আর মূচ্ছা যাচ্ছেন। এদৃশ্য উপস্থিত স্থানীয় সাধারণ মানুষ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের চোখ এড়ায়নি। এসময় অনেকেই প্রিয়ার মাকে শান্তনা দিতে এগিয়ে গেছেন। কারো কারো চোখ গড়িয়ে পানি পড়তে, আবার কেউ কেউ নীরবে চোখের অশ্রু মুছে স্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা গেছে। এসময় কেউ চিন্তায়ও আনতে পারেননি আসলে দশ মাস দশদিন গর্ভধারীনি মা নিজেই মেয়ের হন্তাকারীর মূলকাণ্ডারী! আবার যিনি হত্যাকাণ্ডের একদিন পর অর্থাৎ ১৭ সেপ্টেম্বর শাহরাস্তি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেছেন! সত্যি সেলুকাস কি বিচিত্র মানুষ, কি বিচিত্র মানুষের আচরণ!
সেই আদিকাল থেকে অদ্যাবধি ধরে নেয়া হয় পৃথিবীতে সন্তান তার মায়ের কোলে ও কাছেই সবচেয়ে বেশি নিরাপদ! কিন্তু সেই মা যখন নিজের জৈবিক চাহিদা মিটানোর খায়েশের পথের বড় বাধা নিজ সন্তান মেয়েকে মনে করেন। আর সেই জৈবিক হীনচাহিদা চরিতার্থ করতেই নিজের মেয়েকে পরকীয়া প্রেমিক হান্নান ও আরো অন্যদের নিয়ে খুন করার পরিকল্পনা এবং পরিকল্পনা মোতাবেক খুন করেন তা কিভাবে বিশ্বাস করবে এই সমাজ-সংসার? কিভাবে বিশ্বাস করবে তা মানুষ! আর একথা শুনতে যেমন কানে বাজে, তেমনি মানতেও কষ্ট হয়! প্রিয়ার হত্যাকাণ্ডের সংবাদ সংগ্রহের কাজে সেদিন প্রিয়াদের বাড়িতে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা সবাই প্রিয়ার মায়ের আহাজারী লক্ষ্য করেছেন।
নিহত প্রিয়ার ১৮ মাস বয়োসী আনহার নামের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। নিঃপাপ মা হারা এই শিশু কি-ভাবে বড় হবে? যে শিশু মাকে বুঝার আগেই  মা হারালো?
আমাদের সমাজ-সংসার এতটা ক্ষয়ে গেছে যার সর্বশেষ উদাহরণ হয়তো প্রিয়ার হত্যাকাণ্ডের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনা।
সমাজ সচেতন সকল অংশীজনকে এবিষয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। ভাবতে হবে আমাদের গন্তব্য কোথায়? আমাদের কি করা প্রয়োজন। সেই সাথে আমরা প্রিয়া হত্যায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি দাবি করি।
-লেখক : রুহুল আমিন
Facebook Comments

Check Also

ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

সাইফুল ইসলাম সিফাত : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অপশক্তি দেশকে …

Shares
vv