ব্রেকিং নিউজঃ
Home / ফিচার / মাদকের ভয়ঙ্কর ছোবলে যুব সমাজ; রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে

মাদকের ভয়ঙ্কর ছোবলে যুব সমাজ; রক্ষার দায়িত্ব আমাদেরই নিতে হবে

‘সর্বনাশা মাদককে না বলুন’চাঁদপুরে শহরের বিভিন্ন পাড়ায়-মহল্লায় অলিতে গলিতে স্লোগান সম্বলিত ব্যানার, পোস্টার ও দেওয়ালে বড় বড় চিকা দেখা যায়। মাদকবিরোধী সভা-সমাবেশে মাদক নির্মূলে দৃঢ় কণ্ঠ উচ্চারিত হয়। এতদসত্ত্বেও মাদক থেকে বিরত রাখা যাচ্ছে না মাদকাসক্ত তরুণ সমাজদের।

দিন দিন যেন এ সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। সর্বনাশা মাদকের ছোবলে অনেক পরিবার আজ ধ্বংস হচ্ছে। বিভিন্ন গনমাধ্যমে জানা যায় , যৌন উত্তেজক উপকরণ ইয়াবাসহ বিভিন্ন নেশা জাতীয় দ্রব্যের বেচাকেনাসহ অভিজাত এলাকায় বিশেষ করে বাবুর হাট,মৈশাদী,শহরের ট্যাক্সি স্টেশন,কালীবাড়ি মোর, চাঁদপুর সরকারী জেনারেল হাসপাতাল রোডসহ রেললাইনের আশপাশে এলাকায় সন্ধ্যার পর জমজমাট মাদকের আড্ডা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এতে করে প্রতিদিনই মাদকে আসক্ত হচ্ছে উঠতি বয়সের তরুণ-তরুণীরা। শিক্ষার্থীদের একটি বিশাল অংশ ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদকে আসক্ত। বিপথগামী তরুণদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এগুলো বেচাকেনা করছে এবং গড়ে উঠেছে বিভিন্ন স্থানে গোপন বাজার। অনেক শিক্ষিত যুবক ও ধনীর দুলাল এখন এ ব্যবসার সাথে জড়িত বলে জানা যায়।

যুব সমাজের এ অধঃপতনের দায় সমাজ এড়াতে পারে না। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের উদাসীনতা তো আছেই, পাশাপাশি সামাজিক অবস্থাও এর জন্য দায়ী। পর্যাপ্ত বিনোদনের সুযোগ-সুবিধা না থাকায় দেশের যুব সমাজ বেশী বিপথগামী হচ্ছে। এক সময় পাড়া-মহল্লায় স্কুল-কলেজের সামনে বিশাল খেলার মাঠ থাকলেও এখন তা দখল করে বিল্ডিং বানানো হচ্ছে। নগরীতে খোলা জায়গা, পার্ক ও পর্যাপ্ত বিনোদনের অভাব প্রচন্ডভাবে অনুভব করছে আমাদের তরুণ সমাজ। চার দেওয়ালের মধ্যে টিভি দেখে আর ভিডিও গেমস খেলে বড় হচ্ছে তারা। এতে তরুণদের শারীরিক মানসিক বিকাশ বাধা গ্রস্ত হচ্ছে। বিপথগামী তরুণরা আমাদেরই সন্তান। এদের সুপথে ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব আমাদের। সর্বনাশা এ জগৎ থেকে তরুণ সমাজকে কিভাবে তা থেকে বের করে আনা যায় তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।

মাদক ব্যবসা বন্ধে সীমান্ত পথ ও অন্যান্য রুটে সতর্ক পাহারার পাশাপাশি মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। তবে অভিযান বা আইন করে এ থেকে তরুণদের রক্ষা করা যাবে না। এর জন্য প্রয়োজন তরুণদের সুস্থ বিনোদনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা এবং তাদের সৃষ্টিশীল ও গঠনমূলক কাজে ব্যস্ত রাখা। স্কুল, কলেজ, পাড়া-মহল্লায় ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টের আয়োজন করতে হবে। তরুণ সমাজকে সৃষ্টিশীল কাজে ব্যস্ত রাখার জন্য বিতর্ক ও সাধারণ জ্ঞান প্রতিযোগিতা, রক্তদান কর্মসূচি ফুটবল-ক্রিকেট টুর্নামেন্ট ও পাঠাগার কেন্দ্রিক কার্যক্রম বাড়াতে হবে।শুধু স্কুল কলেজ নয়, প্রতিটি এলাকায় এ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

পুলিশ ও র‌্যাবের অভিযানের পরও থেমে নেই ইয়াবা পাচার। নতুন নতুন কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে মাদক আসছে সারাদেশে। বিভিন্ন সময়ে ধরা পড়লেও গডফাদাররা থেকে যাচ্ছেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। সমাজ বিশ্লেষক

বলছেন, পুলিশের তালিকায় যাদের নাম উঠে এসেছে তাদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এসব আয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা খুবই দরকার।

মোঃ আকতার হোসেন
কলামিস্ট ও মানবাধিকার কর্মী

Facebook Comments

Check Also

সৃষ্টিকর্তা ছাড় দেন, ছেড়ে দেন না!

রিফাত কান্তি সেন : মহান সৃষ্টিকর্তা ছাড় দেন ঠিকই,কিন্তু ছেড়ে দেন না। আমরা লোভী মানুষের কারণেই …

vv