ব্রেকিং নিউজঃ
Home / ধর্ম / মাজারে যায় ঈমান নিয়ে, ফিরে আসে ঈমান দিয়ে : ড. রেজাউল হক চাঁদপুরী

মাজারে যায় ঈমান নিয়ে, ফিরে আসে ঈমান দিয়ে : ড. রেজাউল হক চাঁদপুরী

মো. মজিবুর রহমান রনি : চাঁদপুর হাজীগঞ্জে রাহনুমায়ে শরীয়ত ও তরিকত মুর্শিদে বরহক, পীরে কামেল আলহাজ্ব হযরতুল আল্লামা মাওলানা সৈয়দ আবু আশরাফ মোহাম্মদ গাজীউল হক চাঁদপুরী শাহ্ এর শুভাগমন উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগমনের সাথে সাথে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামা’আতের নেতৃবৃন্দ আল্লামা গাজীউল হক চাঁদপুরী শাহ্ পীরকে জিকিরের সহিত ফুলে ফুলে বরণ করেছেন।

এসময় তরিকত ফেডারেশন এর মহাসচিব ড. রেজাউল হক চাঁদপুরী বলেন, আমাদের সমাজে বিভিন্ন ধরনের শিরকি কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো পীর পূজা, মাজার পূজা। মাজারে গিয়ে কবরবাসীর কাছে কিছু কামনা করা। কবরবাসী কিংবা জীবিত কোনো পীরের উদ্দেশ্যে সিজদা করা। তাদের নামে জিকির করা। মৃতব্যক্তি কবরে শুয়ে মানুষের জীবনের বিভিন্ন দিক এবং ইহজগতের বিষয়াদি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন বলে বিশ্বাস করা। কবরবাসীর নামে মানত করা।

জীবিত পীর বা মাজারের নামে কোরবানি করা। কোনো পীর, ফকির, দরবেশকে বিপদ প্রতিহত করতে সম কিংবা কোনো কল্যাণ এনে দিতে সম বলে মনে করা। তাদের আল্লাহর রহমত বণ্টনের অধিকারী মনে করা ইত্যাদি শিরকি কর্মকাণ্ড। ঈমান বাঁচাতে হলে এসব কর্মকাণ্ড থেকে অনেক দূরে থাকতে হবে। এগুলো এমন পর্যায়ের শিরক, যা একজন মুমিন মুসলমানকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। তাওবা না করে মারা গেলে চিরস্থায়ী জাহান্নামে অবস্থান করবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে আমাদের দেশে অনেক ভণ্ডপীরের জন্ম হয়েছে। তারা মানুষের সিজদা গ্রহণ করছে। সরলতার সুযোগে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ঈমান-আকিদা নষ্ট করছে। পীর-মুরিদির নামে জমজমাট ব্যবসা খুলে বসেছে। শুধু তাই নয়, পীর-ফকিরদের নামে এখানে সেখানে মাজার স্থাপন করা হয়। মাঝে মধ্যে গায়েবি মাজার গজানোরও খবর পাওয়া যায়। এসব মাজারের বেশির ভাগই বাস-ট্রাক চলাচলের রাস্তার পাশে স্থাপিত হয়। এখনো পর্যন্ত রেল লাইনের আশপাশে মাজার স্থাপনের বা গজানোর খবর পাওয়া যায়নি। এর কারণ হলো, বাস-ট্রাক থামিয়ে মাজার কিংবা বাবার নামে যেভাবে ব্যবসা করা যায়, ট্রেন থামিয়ে সেভাবে করা সম্ভব নয়। তাই তাদের সব মাজারই গড়ে ওঠে বাস-ট্রাক চলাচলের রাস্তার পাশে। আমাদের ঈমান-আকিদা রক্ষার জন্য এ ধরনের শিরকি কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের বিরত থাকা এবং তাদের বিরত রাখা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো কাছে কিছু চাওয়া সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘এবং তুমি আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে ডেকো না, যারা তোমার লাভ ও তি সাধন করতে পারে না। আর যদি তাই করো তাহলে তুমি অত্যাচারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে’ (সূরা ইউনুস : ১০৬)।

পীর-মাজারকে সিজদা করা সম্পর্কে ইরশাদ হচ্ছে, ‘আল্লাহ ওই জাতিকে অভিশাপ দিয়েছেন, যারা তাদের নবীদের কবরকে সিজদার স্থল বানিয়েছে।’ রাসূলুল্লাহ সা:ও এর থেকে পানাহ চেয়ে বলেছেন, ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার কবরকে প্রতিমা বানাবেন না।’ পীরের নামে কোরবানি প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন, ‘ওই সব প্রাণী যা আল্লাহ ব্যতীত অন্যের উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হয় তা হারাম’ (সূরা মায়েদা : ৩)।

শিরক জঘন্যতম অপরাধ এবং কবিরা গুনাহ। কারণ, শিরক হচ্ছে স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির রবুবিয়াতের বৈশিষ্ট্য ও গুণের তুলনা করা। সুতরাং যারা আল্লাহর সাথে অন্যকে শরিক করল, তারা আল্লাহকে অন্যের সমান হওয়ার তুলনা করল। আর এটাই হচ্ছে বড় জুলুম। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয় শিরক হচ্ছে বড় জুলুম’ (সূরা লুকমান : ১৩)। রাসূলুল্লাহ সা: বলেন, ‘আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় গুনাহ সম্পর্কে সংবাদ দেবো না? আমরা (সাহাবিগণ) বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! অবশ্যই বলে দিন। তিনি বললেন, আল্লাহর সঙ্গে শরিক করা এবং পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া’ (বুখারি ও মুসলিম)।

ড. রেজাউল হক চাঁদপুরী বলেন, যে ব্যক্তি শিরক থেকে তাওবা করবে না, আল্লাহ তাকে মা করবেন না। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সাথে শরিক করার অপরাধ মা করেন না, তা ব্যতীত অন্য যে কোনো অপরাধ যাকে ইচ্ছা মা করবেন’ (সূরা নিসা : ৪৮)। আল্লাহ অন্যত্র বলেন, ‘যে ব্যক্তি তাঁর (আল্লাহর) সাথে শিরক করবে, তার জন্য জান্নাত হারাম করে দিবেন এবং সে চিরস্থায়ী জাহান্নামে অবস্থান করবে’ (সূরা মায়েদা : ৭২)। শিরক সব রকম নেক আমল নষ্ট করে দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘যদি তারা শিরক করত, তাদের কাজকর্ম নষ্ট হয়ে যেত’ (সূরা আনআম : ৯৯)।

কুরআন-হাদিসের উপর্যুক্ত আলোচনার ভিত্তিতে উলামায়ে কেরাম বলেন, মানুষ এ ধরনের মাজারে যায় তাদের ঈমান নিয়ে, আর সেখান থেকে ফিরে আসে অবচেতন মনে মূল্যবান ঈমান বিকিয়ে। কারণ সেখানে যাওয়ার আগে তার ঈমান ঠিকই ছিল; কিন্তু সেখানে গিয়ে বিভিন্ন শিরকি কাজ করে মুশরিক হয়ে ফিরে আসে।

পীরে কামেল আলহাজ্ব হযরতুল আল্লামা মাওলানা সৈয়দ আবু আশরাফ মোহাম্মদ গাজীউল হক চাঁদপুরী শাহ্ আখেরী মোনাজাতের পূর্বে আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, নামাজ হচ্ছে রাসূল(স:)। আর হযরত ইমাম হোসাইন হচ্ছেন রাসূল(স:) থেকে। ইমাম হোসাইনকে হত্যা করে ইয়াজিদ যে নামাজ আদায় করেছে তা কখনো সত্য নামাজ ছিলো না। তাই নামাজকে হত্যা করে নামাজ কায়েম করা যায় না।

বুধবার বিকেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার বালুর মাঠে ২য় বার্ষিক মাহফিলে বিশেষ মেহমান ছিলেন বাংলাদেশ ত্বরিকত ফেডারেশনের মহাসচীব শাহজাদা ড.সৈয়দ রেজাউল হক চাঁদপুরী। এছাড়াও দেশের প্রখ্যাত ওলামায়ে কেরামগণ ওয়াজ করেন।

মাহফিলে উপস্থাপনায় ছিলেন হাজীগঞ্জ সুন্নীয়া হাফেজিয়া নূরানী মাদ্রাসার পরিচালক হাফেজ মোঃ জুনায়েদুল হক আল ক্বাদরী। মাহফিলে চাঁদপুরী শাহ্ দরবার শরীফের হাজারও ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মাহফিল শেষে দেশ ও জাতির শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

Facebook Comments

Check Also

২১ ফেব্রুয়ারী শাহরাস্তির রাজাপুরী (রঃ) এর ৫৪ তম পবিত্র উরশ শরীফ

নোমান হোসেন আখন্দ : শাহরাস্তির গাউছুজ্জামান ইমাম উদ্দিন শাহ রাজাপুরী (রঃ) এর ৫৪ তম পবিত্র …

vv