ব্রেকিং নিউজঃ
Home / মতামত / মফস্বল সাংবাদিকদের আর্তনাদ শুনবে কে!

মফস্বল সাংবাদিকদের আর্তনাদ শুনবে কে!

—- এনায়েত মজুমদার —-

অসহায় মানুষের দুর্দিনে তাদের সর্বপ্রকার আর্থিক সহায়তা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন, চিকিৎসাসেবা নিয়ে এগিয়ে আসা সকলের ইমানী দায়িত্ব। ইসলামে পারস্পরিক উপকারের চেষ্টা এবং যার যা কিছু সামর্থ্য আছে তদনুসারে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সাহায্য-সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে, যাতে দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের দুঃখ-কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়।

বর্তমানে দেশে করোনা ভাইরাস এর প্রভাবে দেশ প্রায় লকডাউন এর কাতারে। এ সময় দেশের সকল স্তর ব্যবসা বানিজ্য ও সকল পেশার মানুষের কর্ম বন্ধ করে নিজ নিজ ঘরে অবস্থান করছে। কিন্তুসাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা তারা তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করে কিন্তু ঘরে বসে নেই সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা। বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে কি সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা পড়বে না। এ সময়ে যারা মাঠে কাজ করছেন সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা ছাড়া সবাই সরকারী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মীরা। কিন্তু প্রশাসনের লোকদের জন্য সরকার নিরাপত্তাজনীত পোশাক দিয়েছে। কিন্তুসাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা কোন রকম মাক্স বা হেন্ডগ্লাপ্স পরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা যারা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনবরত কাজ করে যাচ্ছে তাদের দেখার কি কেউ নেই? সাংবাদিকরা করোনার মতো মরণঘাতি ভাইরাসকে উপেক্ষা করে সারাক্ষণ দেশের কল্যাণে কাজ করে যাবে আর দেশ বা দেশের মানুষ গুলো সাংবাদিকদের শুধু দেখেই যাবে।

দেশে যখন কোন ক্লান্তিকাল আশে বা রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয় তখন সবাই দৌঁড়ে পালায়, তখন সবাই নিজের জীবন বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। আর তখনই সাংবাদিকরা জীবনের মায়া না করে ইট-পাটকেল উপেক্ষা করেই নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে সামনে এগিয়ে যায়। দেশের সকল দুর্যোগে সাংবাদিকদের ঘরে খাবার না থাকলেও অন্যদের খাবার বিতরণের এগিয়ে আসে। নিজের মুখে খাবার না থাকলেও অন্যজনের মুখে খাবার তুলে দিতে ভালোবাসে।

দেশের এ ক্লান্তিলগ্নে সরকার তথা সমাজের বিত্তবান মানুষগুলো কি একটিবার বলেছেন সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা ভাই আপনার ঘরে খাবার আছে? আপনি তো দেশের বা দেশের জনগণের জন্য দিনরাত কাজ করছেন? আপনার সংবাদ বা আপনার পরিবাদের সদস্যগণ কি ভাবে দিন কাটাচ্ছে? এমন প্রশ্ন আমার সাংবাদিক জীবনে কখন কাউকে বলতে শুনিনি। শুধু মাত্র সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা দেশের জন্য কাজ করবে এ সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্ব বলে এড়িয়ে যাবেন, আর সমাজের বিত্তবান মানুষগুলোর খবরাখবর প্রচার করে যাবেন।

দেশের বর্তমান প্রতিস্থিতিতে এমন সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা আছেন, যাদের শুকনা খাবার খেয়েই সারা দিন কেটে যায়। না পারে নিজের জন্য চাইতে না পারে কাউকে মুখ খুলে বলতে। শুধু বুকভরা যন্ত্রনাকে চেপে ধরে রাতের অন্ধকারে নিজের বাসস্থানে ফিরছে। নিজের কষ্ট ভিতরে চেপে ধওে অন্যের সুখ -দুঃখ ভাগ করে নিতে।

স্থানীয় সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা মানুষের সুখ-দুঃখসহ এলাকার নানা সমস্যা-সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন পত্রিকার পাতায়। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ তুলে ধরতে কখনো অন্যায়ের সাথে আপোস করেন না সাংবাদিকগণ। কারো হুমকি-ধামকি তোয়াক্কা না করে জীবনের ঝুঁকি নিয়েই সাংবাদিকরা নিজ নিজ অনিয়ম ও দুর্নীতির খবর লিখেছেন পত্রিকার পাতায়।
স্থানীয় সাংবাদিকগণ অনেকেই পারিবারিক জীবনে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অস্বচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন।

কিন্তু অনেকেই সাংবাদিকতাকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরেন এই পেশা। মানুষের সমস্যার কথা তুলে ধরতেন পত্রিকার পাতায়। মফস্বল সাংবাদিকদের মধ্যে হাতেগনা দু একজন জাতীয় সংবাদপত্র থেকে লাইনেস বিল, ইমেইল বাবদ মাসে জ্জ হাজার টাকা পায়। আর বাকী সব সাংবাদিকগণ তাদের কেউই কোন সংবাদমাধ্যম থেকে কোন প্রকার অর্থ বা সম্মানী পায় না। মফস্বল সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের নানা সমস্যার কথা লিখে আর আমার মতো মফস্বল সাংবাদিকদের দুঃখ-কষ্টের কথা লিখবে কে? এমন প্রশ্ন শুধু নিজের প্রতি নিজেই করে থাকি।

এ দেশে তিন প্রকার মানুষ বাস করছে, (এক) উচ্চবিত্ত (দুই) মধ্যবিত্ত (তিন) নিম্নবিত্ত। এ তিন প্রকার মানুষের মধ্যে মফস্বল সাংবাদিক বা সংবাদকর্মীরা কোন কাতারে অবস্থান করছে। আমার মনে হচ্ছে এ তিন প্রকারের কোন একটি প্রকারের মধ্যে নেই মফস্বল সংবাদকর্মীরা। আমার এ কথার উপর দেশের সকল মফস্বল সংবাদকর্মীরা দৃঢ়তা প্রকাশ করবেন আমার বিশ্বাস। হা হয়তো দেশের প্রথম শ্রেণির দৈনিক ও ইলিক্ট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ আমার কথাকে মোটেও সমর্থন দিবেন না। কিন্তু আপনারা কি একটিবাও মফস্বল সাংবাদিকদের কথা চিন্তা করেছেন? না করেন নি। এবং করবেনও না। কারণ আপনারাতো মফস্বল সাংবাদিকতা কি তা জানেনই না। বুঝবেন কি ভাবে।

এই তো ঘুরছি ফিরছি ছবি তুলছি পোষ্ট করছি হরদম অনলাইনে। এই তো আছি বেশ, চলনে বলনে বুঝবে কি করে কেমন আছি ভেতরে ভেতরে!! তবে কেউ বলবেন তারাই হয়তো এখন ভালো আছেন! এটা করেই অনেকে তো চলছেন তাই না, বিলাস-বহুল জীবন নিয়ে। আবার কেউ বলবেন না তাদের অবস্থাটা এখন ভালো নয়, অভাব অনটনে চলছেন অনেকে ইত্যাদি ইত্যাদি। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পন বা আয়না। এসব কথা এখন ও বলা হয়, কিন্তু পিছনে অনেক প্রশ্ন আছে । আছে হলুদ তৈলাক্ত খবর দোকানের মালিকরা আছে…. ইত্যাদি ইত্যাদি। সে কথা থাক পরে, সে প্রশ্নে এখন যাওয়া যাবো না। কারন এখন বর্তমানের সমাজ ব্যবস্থাটাই যেন উল্টো পথে চলছে। প্রথম সারিতে যারা অবস্থান করছেন তারাই বা কতোটা ভাবছেন দেশ নিয়ে.? সেটা বলতে গেলে ৫৭ ধারা চাপিয়ে দেয়ার ভয় তো রয়েছে তাই। তাদের অবস্থান টা কতো টা পরিষ্কার? যাক বাদ দিলাম ওসব কথা।

এখনকার চেয়ে আগে এ পেশায় লোক সংখ্যা ছিল খুব কম। এখন এর বিস্তার বেড়েছে। কিন্তু মর্যাদা আর মান কতটুকুন বেড়েছে. .? এ প্রশ্ন থেকেই যায়। মফস্বলের প্রকৃত সাংবাদিকতা এখন বিজ্ঞপন নির্ভর। কারন অনেক পত্রিকাই বেতন বা সন্মানী ভাতা দেয় না। তাই বাধ্য হয়েই সাংবাদিকরা এখন বিঞ্জাপনের ফেরিওয়ালা। আবার যদি কেউ এদিক-ওদিক করে চলে তাহলে তার আবার অভাব একটু কমই। গাড়ী-বাড়ী করাটা তেমন কষ্টের নয় হলুদ সাংবাদিকতা বা ..!। অবক্ষয় আর দূর্নীতি সমাজকে যেন খুবলিয়ে খাচ্ছে যা এখন সমাজের কিছু কিছু দর্পনেও বিদ্যমান।

বাইরে গিয়ে ও শান্তি নেই বড়দের এখন ক’জন সন্মান করে..? হিসেবের খাতায় তো বৈষম্য বেড়েছে। কে কাকে তোয়াক্কা করে? সত্যি বলতে এখন আর কেউ কারো দিকে ফিরে তাকায় না, সবাই যার যার মত। কেউ প্রতিদিন খাচ্ছে পোলাও মাংস আবার কেউ শুধু মোটা ভাতটুকু যোগার করতে হিমশমি খায় রিতিমত। একজন ভালো লেখক বা সাংবাদিকের করা প্রতিবেদন সত্য লিখনিটাও প্রকাশ পায় না পত্রিকার পাতায়। যাদের আছে তাদের তো আরো লাগে তাই শুধু নিতেই ব্যস্ত। কতো টা দরকার একটি সংসার জীবনে।

এখন মফস্বল সাংবাদিকরা বিজ্ঞাপনই পায়না, কারন পত্রিকা বেশী আবার বেহিসেবী সাংবাদিক চারিদিকে। আর অনলাইন নিউজ পোর্টালগুলো তো পত্রিকার সাংবাদিকতায় এসেছে। আকাল নিয়ে বিজ্ঞাপন দিলেই পত্রিকার কার্ড মিলছে নয়তো কষ্টকরে লিখাটাও ছাপা হয়না পত্রিকায়। ফলে বিজ্ঞাপন নিতে গিয়ে বিড়ম্বনার শেষ নেই। সেই বিজ্ঞাপনটিও আবার ইজিপি। আগে যেখানে আসতো ৪০ ইঞ্চি। সেই বিজ্ঞপানটি এখন সাইজে ১৫ ইঞ্চি। আবার যেখানে একটি কাজের একটি বিজ্ঞাপন হতো।

সেখানে ১০-১৫ টি কাজ একত্রিত করে দেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞাপন। সেখানে শুধু কাজের নাম কোড নং-(সংক্ষিপ্ত) দেওয়া হচ্ছে মানে ছবি বিশাল ক্যাপশন কম। এতে প্রকৃত সাংবাদিকতায় চরম দূর্দিন চলছে, আর কি বলবো। কে ভাবছেন মফস্বল সাংবাদিকদের নিয়ে? সময় কইই এসব দেখার অনেকে নিদারুন কষ্টে চলছে। পেশায় সাংবাদিক হওয়ায় অনেকে মুখ ফুটে সে কথা বলতে পারছেনা লজ্জা বা হয়তো মর্যাদা চলে যাবে এ কারনে। অথচ অনেকে মাসে অনেক টাকা আয় করছেন চাটুকারীতা বা তৈল মর্দন করে। তাপরপরেও অনেকে সাংবাদিককে দেখলে তিক্ত-বিরক্ত হয়। ভাব খানা এরকম যে তারা তো আমাদের উপড়ই নির্ভর। তাদের কি আর সততা আছে, কি লিখিবে? বিজ্ঞাপন নিতেই তো আসে সব তো এলোমেলো। এ জন্য অনেক কষ্ট হয়। কারো কোটি কোটি টাকা, আবার যারা বিনে টাকায় শ্রম দেয়, তারা আবার অবহেলিত-বঞ্চিত। এই তো সমাজ ব্যবস্থা। জাতীর এটিই অহঙ্কার।

সাংবাদিকদের এটাই প্রাপ্য! দেশ যে উন্নয়নের পথে যাচ্ছে, তার পিছনে কি এই সাংবাদিকদের কোন অবদান নেই , বা ছিলনা? যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক সব সরকারেরই উন্নয়ন আর, ঝড়, জ্বলোচ্ছাস, ভূমিকম্প, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা, সংস্কৃতি, দারিদ্রতা, কু-সংস্কার, সব কিছুই তো যাদের দর্পন বলা হয় তারাই তো এসব জনস্মুখে নিয়ে আসে। এগিয়ে নেয় দেশকে, তথা জাতি কে।

তাহলে যাদের দর্পন বলা হয়, তারা কেন থাকবে পিছনের সারিতে, তাদের ভালো থাকার কি কোন সুযোগ নেই। শুধু, নাম মাত্র সন্মানী আর বিজ্ঞপানের জন্য দৌড়াঁদৌড়ি করবে। এটা এখন ভাবার সময় , দেশ টা সকলের , কারো একার নয়, বা কোন বিশেষ গোষ্ঠি কিংম্বা দলের নয়। তাই এর ভালো-মন্দ নিয়ে বিবেচনা করার বড় বেশী দরকার। সবমিলিয়ে ভালোনেই তারা সমসাময়িক কালে।

দেশের সকলকে ভালো রাখার জন্য জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও স্বপ্ন দেখেছিলেন। ৭১’এ সংবাদপত্রের যে, ভূমিকা ছিল তা সকলেরই জানা। তখন সকল গনমাধ্যম স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল তুলে ধরেছে বিশ্বের কাছে চালিয়েছে কাগজের ময়দানে কলমের যুদ্ধ কালির বুলেটে। তাই যারা এ পেশায় অনবরত কাজ করছেন ,তারা যেন একটু ভালো ভাবে জীবন-যাপন করতে পারেন, সে ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে প্রত্যাশা রইল। সকলে ভালো থাকুন -সুস্থ থাকুন । ভালো থাকুক দেশের সকল সাংবাদিক দুর হোক সকল অসঙ্গতি কলম সৈনিকদের।

লেখক পরিচিতি : প্রকাশক ও সম্পাদক, দৈনিক আজকের দেশকন্ঠ

সাধারণ সম্পাদক, হাজীগঞ্জ প্রেসক্লাব

Facebook Comments

Check Also

সাংস্কৃতিক পরিবারের পাশে সফিক মজুমদার

মোঃ জাহাঙ্গীর আলম হৃদয় : মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ …

vv