ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে রাতারাতি শিবির নেতা বনে গেলেন আ’লীগ নেতা !

মন্ত্রীকে ফুল দিয়ে রাতারাতি শিবির নেতা বনে গেলেন আ’লীগ নেতা !

স্টাফ রিপোর্টার : যেখানে পিতা-মাতার পরেই শিক্ষকের অবস্থান। আর সেখানে কোন শিক্ষক যদি নিজ স্বার্থসিদ্ধির জন্য অন্যেরে হক জোচ্চুরি বাটপারি করে ভোগ করার ষড়যন্ত্র করে তিনি শিক্ষার্থীদের কিইবা দিবেন? চাঁদপুরের সুনামধন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যিনি শিক্ষক হিসেবে পরিচিত তিনি নিজ এলাকায় প্রায় সকলের নিকট বাটপার জোচ্চর নামে পরিচিত।

তিনি হচ্ছেন চাঁদপুর আল আমিন একাডেমী স্কুল এন্ড কলেজের প্রাথমিক শাখার ইনচার্জ শিক্ষক আব্দুল মোতালেব। যার গ্রামের বাড়ি হাজীগঞ্জ উপজেলার ৩ নং কালোচোঁ ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামে। শিক্ষক আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে সরজমিনে তার গ্রামের বাড়ি ঘুরে এর সত্যতা পাওয়া গেছে। যিনি কিনা সহোদর ও জেঠাতো ভাইদের ঠকিয়ে হেবা নিদাবী নামে কয়েকটি দলিলমূলে বহু সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন । ইউপি চেয়ারম্যান, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার, সাবেক আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং শিক্ষক আব্দুল মোতালেবের বাড়ীর লোকজন তার বিরুদ্ধে এ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন । যা ভিডিও-অডিও রেকর্ডিংয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।

শিক্ষক আব্দুল মোতালেবের জেঠাতো ভাই প্রবাসী মালেক মুঠোফোনে জানান, আমার বাপ চাচারা ছিলেন ৩ জন ও ফুফু ১ জন। সংসারে আমরা ছিলাম ১ ভাই ও ৫ বোন। ১ বোন কয়েক বছর আগে মারা যায়। পরিবারে আমার পিতা রুহুল আমিন ভাইদের মধ্যে ছিলেন বড়। তিনি  অনেক আগেই মারা যান। ছোট চাচা নিঃসন্তান হিসেবে মারা যান। এখন মুরুব্বী হিসেবে মেঝ চাচা মোতালেব এর পিতা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান বেঁচে আছেন। আমার বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই। জীবিকার টানে বিদেশে আসি। বোনদের সকলের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় কেউ বাড়িতে নেই। চাচা ও চাচাতো ভাইদের নিপীড়নে আমার স্ত্রী ও শিশু পুত্র বাড়ী ছাড়া।

জায়গা জমিন সব নামে বেনামে বিভিন্ন দলিল করে নিয়ে গেছে মোতালেব ও তার পিতা। একমাত্র ফুফু রাজিয়া বেগম (৭০) উনার পরিবারের প্রয়োজনে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নেয় জায়গা দেয়ার কথা বলে। ফুফুকে টাকা দিয়ে জায়গা রেজেস্ট্রি না করেই আমি ফের বিদেশে পাড়ি জমাই। গত ০৪/০৩/২০১৮ মোতালেব দলবল নিয়ে আমার ভোগ দখলীয় সম্পত্তি হাজীগঞ্জ থানাধীন রাজাপুর মৌজার জে এল নং -১৯,বি এস খতিয়ান নং-২৯৫,দাগ নং ৭৯৫ এর অন্দরে ১১ শতাংশ জমিতে থাকা মূল্যবান গাছ কেটে নিয়ে জবর দখল করার চেস্টা করে।

এ ব্যাপারে হাজীগঞ্জ থানায় একটি মামলা করি। এদিকে আমার বয়োবৃদ্ধ ফুফুকে ফুসলিয়ে ১০/১১/২০১৩ মোতালেব ১৮ শতাংশ জমি ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে ফুফুরনিকট থেকে নিজের নামে লিখে নেয় যা পরবর্তীতে নামজারী জমা খারিজ করে নেয়। উক্ত জমা খারিজের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে হাজীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে আপত্তিকারী হিসেবে মামলা দায়ের করি। যার  মামলা নং ৮১/২০১৭-২০১৮। বিষয়টি সুরাহার জন্য স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এর শালিসিতে বসলেও মোতালেব সেখানে আসেনি। অপরদিকে উক্ত সম্পত্তি নিজের বলে শিক্ষক আব্দুল মোতালেব তার জেঠাতো ভাই প্রবাসী মালেককে বিবাদী করে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং ১৫৩/২০১৮।

সম্পত্তি ভোগ দখলে নিজ পিতাকেও ছাড়েননি শিক্ষক আব্দুল মোতালেব। এলাকায় প্রচলিত রয়েছে পিতা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানকে হজ্বে পাঠানোর কথা বলে ৩৬ শতাংশ ভূমি হেবা ঘোষণার দলিলমূলে মালিক হোন শিক্ষক মোতালেব। যার দলিল নং ৫২৪৩/১২ ইং।

শিক্ষক আব্দুল মোতালেব ও তার দুই ভাই মাহিন এবং মুন্নাফ তাহাদের পিতা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানের ১ম স্ত্রী নুর জাহানের একমাত্র সন্তান মোঃ বাদশাহ মিয়ার নিকট থেকে নামমাত্র ২৫ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রায় ২৩ শতাংশ ভুমি দলিল করে নেয়। যার দলিল নং ৩১৪৬  তাং ১৩/০৫/০২। এভাবে বিভিন্ন সম্পত্তির নামে বেনামে মালিক বনে যান পিতা-পুত্র।

শিক্ষক মোতালেব এর বাড়ির জেঠাতো ভাই হাজীগঞ্জের জুয়েলারী ব্যবসায়ী মিজান জানান, মোতালেব নাকি এখন আ’লীগের বড় নেতা! তাকে ফোন দিলে পাওয়া যায়না। নিজেকে মস্তবড় বিজি লোক বলেন। সর্বক্ষন নাকি মিটিংয়ে থাকেন। সে আমার ছোটভাই। তার অপকর্মের শেষ নাই। তার অপকর্মের সাথে আমাদের কারো মিল নেই। সে আমাদের বাড়ির জায়গা সরকারী রাস্তার মধ্যে আরেকজনের নিকট ৮ শতাংশ জায়গা বিক্রি করে। তাকে বলেছি সরকারী জায়গা বিক্রি করবি কেন? প্রয়োজনে তাকে টাকা ফিরিয়ে দে। সে ব্যস্ততার কারন দেখিয়ে সময় ক্ষেপন করে। মোতালেব এর পিতার প্রথম স্ত্রীর সন্তান বাদশাহর কোন খবর নেই। তার বউ -মেয়ে কোথায় আছে কেউ জানেনা। বাদশাহর নামে প্রায় ২৩  শতাংশ জমি ১৫/০৫/২০০২ সালে মোতালেব তার ৩ ভাইয়ের নামে নিয়ে নেয়। এলাকায় চাউর আছে বাদশাহকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক সই নিয়ে মোতালেবরা তাদের নামে সম্পত্তি লিখে নেয়।

রাজাপুর সাহেব বাজারের ব্যবসায়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রাক্তন  সভাপতি কামাল হোসেন জানান, ছোট হাজী বাড়ির ছিদ্দিক মিয়ার বড় ছেলে  মোতালেব রাজাপুর দাখিল মাদ্রাসা থেকে পাশ করে হাজীগঞ্জ মাদ্রাসা থেকে কামিল শেষ করে।

তাদের পরিবার জামাত মতাদর্শের বলে পরে তাদের প্রতিষ্ঠান আল আমিন একাডেমীতে চাকুরী নেয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয় হচ্ছে সেই মোতালেব আজ আমার এলাকায় এসে পরিচয় দেয় সে নাকি জেলায় আওয়ামী লীগের বড় নেতা! শিক্ষামন্ত্রীর ও নেতাদের পাশে ফটো তুলে এনে তা আমাদের দেখায়। তাহার আপন জেঠাতো ভাই ও বাড়ীর লোকজনের সম্পত্তি বেদখলে তার নামে ইউপি কার্যালয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

ইউনিয়ন আ’লীগের নবাগত সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মানিকুর রহমান মানিক জানান, মোতালেবের জেঠাতো ভাই প্রবাসী মালেক তাদের সম্পত্তিগত একটি সমস্যা নিয়ে এসেছিল। কিন্তু মোতালেব পরবর্তীতে আর শুনানীতে আসেনি। এছাড়া মোতালেব আমার নিকট এসেছিল ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে তাকে আমাদের সাথে রাখতে। এজন্য সে ৫০ হাজার টাকা দেয়ার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু তাকে আমাদের দলীয় প্রোগ্রামে রাখতে পারবোনা বলে তার টাকাও গ্রহণ করিনি।

ইউপি মেম্বার দেলোয়ার হোসেন জানান, মোতালেব আমার এলাকারই ছেলে। আমি এই ওয়ার্ডেরই ৩ বারের নির্বাচিত মেম্বার।  সে রাজাপুর মাদ্রাসা থেকে পড়ালেখা করলেও কি হবে ? সে একটা টাউট তার বাপেও একটা টাউট।। যে মালেকের পিতা মতালেবের বাপেরে লালন পালন করছে এখন তাদের সম্পত্তি আত্মসাতে ব্যস্ত পিতা-পুত্র।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুর গাছ ও দেয়াল পরে দুই শিশু আহত

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুর শহরের রহমতপুর আবাসিক এলাকায় আমগাছ ও দেয়ালের চাপায় ২ শিশু গুরুত্বর …

vv