ব্রেকিং নিউজঃ
Home / জনপ্রতিনিধি / মতলব উত্তরে বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখছেন উপজেলা চেয়ারম্যান
মতলব উত্তর উপজেলার স্কুলের পাঠদান ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস।

মতলব উত্তরে বিভিন্ন স্কুল ঘুরে দেখছেন উপজেলা চেয়ারম্যান

মনিরুল ইসলাম মনির : দীর্ঘ দেড় বছর পরে মতলব উত্তর উপজেলার স্কুল গুলোতে প্রবেশ করেছে শিক্ষার্থীরা। সকল স্কুলের পাঠদান ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্যবিধি পরিদর্শন করেছেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস।

সোমবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে উপজেলার নবীপুর, খাগুরিয়া, বদরপুর’সহ কয়েকটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া, উপজেলা সহকারি শিক্ষা কর্মকর্তা মাহফুজ মিয়া’সহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস বলেন, অনেক দিন পরে স্কুল খোলার কারণে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আমরাও অনেক খুশি। এ স্কুলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পাঠদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। সব স্কুলেই এখন থেকে সরকারের সকল নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে নিয়মিত ক্লাস চলবে বলে জানান তিনি।

দীর্ঘ ১৮ মাস পর দেশের প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণি কক্ষে পাঠদান শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সরাসরি শ্রেণি পাঠদানে অংশ নিচ্ছে শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হওয়ায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে চারিদিকে। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও উৎসব-আয়োজনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানে বরণ করছে শিক্ষার্থীদের। তাদের পদচারণায় মুখরিত শিক্ষাঙ্গণ।

শিক্ষার্থীরা যেমন ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করেছে তাদের স্কুলড্রেস ও বই-খাতা; তেমনি স্কুলের প্রতিটি অঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করছেন দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মচারীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ পথে রঙিন বর্ণে ওয়েলকাম লেখা দিয়ে সাজানো হয়েছে।

শুধু তাই নয়, দীর্ঘদিন পর স্কুল খোলার আনন্দে কোনো কোনো স্কুলে নতুন করে রঙ করা হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের আঙিনায় আল্পনা আঁকা হয়েছে, ক্লাস রুমে বেলুন টানানোসহ বিভিন্ন কারু কাজ দিয়ে সাজাতেও দেখা গেছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি স্কুলেই খোলার আনন্দ-উৎসব বিরাজ করছে।

বিভিন্ন স্কুলে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি কক্ষ নতুন করে সাজানো হয়েছে। প্রতিটি দরজা-জানালা ও সিঁড়ির গ্রিল জীবাণুনাশক ওষুধ দিয়ে পরিষ্কার করা হয়েছে।
নবীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সালমা আক্তার বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠান প্রস্তত করা হয়েছে। দেড় বছর পর প্রথম দিন শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে আসবে সে কারণে শ্রেণিকক্ষসহ পুরো বিদ্যালয় বাড়তি করে সাজানো হচ্ছে। প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের ফুল ও চকলেট দিয়ে শিক্ষার্থীদের বরণ করেছি। শিক্ষকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন, অনেকটা উৎসব পালন করার আনন্দ নিয়ে।
খাগুরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর মোল্লা বলেন, শিক্ষার্থীদের বরণ করতে প্রতিটি রুম, প্রতিষ্ঠানের আঙিনা সাজানো হয়েছে রঙিন কাগজ, জরির মালা, বিভিন্ন রঙের বেলুন ও কাগজের ফুল দিয়ে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া বলেন, আমরা সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছি স্বাস্থ্যবিধি ও শারীরিক দূরত্ব মানার ক্ষেত্রে। যেভাবে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তাতে কোনও সমস্যা এখনো হয়নি। সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীসহ অভিভাবকদের সচেতন করতে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করলে কোনও সমস্যা হবে না। তবে বিদ্যালয়ে আনা নেওয়া এবং শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য অভিভাবকদের দায়িত্ব অনেক বেশি। নিশ্চয় তারা তা পালন করবেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কুদ্দুস বলেন, স্কুলে প্রবেশের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সারিবদ্ধভাবে প্রবেশ করাতে হবে। স্কুলে আপাতত কোনো অ্যাসেম্বলি হবে না। তবে ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বা খেলাধুলা চলবে, যাতে শারীরিক ও মানসিকভাবে ভালো অবস্থানে থাকতে পারে। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে চেকলিস্ট পূরণ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে। র‌্যান্ডম স্যাম্পলিং করে সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলে বন্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে।

Facebook Comments

Check Also

ঐক্যবদ্ধ হয়ে অপশক্তিকে রুখে দিতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

সাইফুল ইসলাম সিফাত : শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অপশক্তি দেশকে …

Shares
vv