ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় চাঁদপুর / প্রিয় মতলব উত্তর / মতলব উত্তরে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কাঁচা-পাকা সড়ক
মতলব উত্তরে প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে চলছে যন্ত্রদানব ট্রাক্টর। ছবিটি উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের সামনে থেকে তোলা।

মতলব উত্তরে নষ্ট হচ্ছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কাঁচা-পাকা সড়ক

স্টাফ রিপোর্টার : মতলব উত্তর উপজেলার কাঁচা ও পাকা সড়কের জন্য এখন মরণ ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে অবৈধভাবে চলাচলকারী যন্ত্রদানব ট্রাক্টর। প্রতিনিয়তই এ ট্রাক্টরে নষ্ট হচ্ছে ব্যয় বহুল সড়কগুলো। ঘটছে ছোট বড় অনেক দূর্ঘটনাও। শুধু উন্নয়নেই বাঁধা নয়, মানুষের জীবন ঝুঁকিও বাড়ছে সড়কে এ ট্রাক্টর চলাচল করায়।

মতলব উত্তর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এমনকি রাতেও অবাধে ট্রাক্টর চলাচলের কারণে চলাচল করার কারনে পাকা সড়কগুলো পুণ:সংস্কার করার পর নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙ্গে গেছে।

পিচ ঢালাই উঠে গিয়ে কনক্রিটও ছড়িয়ে ছিটিয়ে নষ্ট হচ্ছে। এতে যাত্রীবাহী যান চলাচলে যেমন বাঁধা হচ্ছে তেমনিভাবে দূর্ঘটনা আশংকাও বাড়ছে অধিক হারে। এ ছাড়াও সরকারের উন্নয়ন খাতে ব্যয় হচ্ছে অধিক অর্থ। চরমভাবে ক্ষতি হচ্ছে সরকারের রাজস্ব অর্থ।

গত ২০১৩ সালে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির কয়েকটি মাসিক সভায় ট্রাক্টর চলাচলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করার বিষয়ে আলোচনার সূত্র ধরে মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের মাসিক আইন-শৃঙ্খলা সভায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার আলোচনা হয়। ওইসব সভায় উন্নয়ন রক্ষার্থে এবং সাধারন জনগনের জীবন নিরাপত্তার স্বার্থে এসব ট্রাক্টর চলাচল সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু অজানা কারনে বন্ধ হচ্ছে না ট্রাক্টর চলাচল। অভিযোগ আছে, থানা প্রশাসনের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেই ট্রাক্টর মালিকরা নির্বিরঘ্নে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। গত কয়েকদিন আগে থানা প্রাঙ্গনে ট্রাক্টর আটক করে রাখতে দেখা গেলেও তা পরবর্তীতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

চাঁদপুর-২ আসনের সাংসদ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (বীর বিক্রম) এর আন্তরিক সহযোগিতায় ছেঙ্গারচর পৌরসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও উপজেলার সকল কাঁচা এবং পাকা সড়কগুলো নির্মাণ ও পুনরায় সংস্কার করা হলেও বর্তমানে সিংহ ভাগ সড়কই বেহাল অবস্থায় বিরাজ করছে। ফলে যাত্রীদের প্রতিনিয়তই দুভোর্গ পোহাতে হচ্ছে। এ সকল ট্রাক্টর ও নসিমন এবং বটবটি চলাচলের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।

এদিকে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার পিপিএম ট্রাক্টর চলাচলের ব্যাপারে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও আইন প্রয়োগ করলেও ট্রাক্টর চলাচল বন্ধ হচ্ছে না মতলব উত্তরে। এ সকল দানব জাতীয় ট্রাক্টর মতলব উত্তর উপজেলা প্রশাসনের নাকের ডগা অর্থাৎ ঘনিয়াড়পাড় ও ছেঙ্গারচর বাজার সড়কেও চলাচল করছে বুক ফুলিয়ে। এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন অনেকটা নীরব ভূূমিকা পালন করছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশ সুপারের নির্দেশনা মানা হচ্ছে না।

সূত্র জানায়, সরকার দলীয় কতিপয় রাজনৈতিক নেতাদের কারণে দানব ট্রাক্টর আইন ও প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উপজেলার রাস্তা-ঘাট চলাচলের অনুপযোগী করে তুলেছে। অথচ এদের দ্বারা সরকারিভাবে কোনো রাজস্ব আয় হচ্ছে না। এক সময় এ যন্ত্রদানব ট্রাক্টরটি কৃষি কাজে অর্থাৎ কৃষি জমিতে ব্যবহার হতো। সে অজুহাতে এসকল ট্রাক্টরগুলো কৃষি খামার ছেড়ে বিভিন্ন ইমারত সামগ্রী পরিবহন করে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করছে।

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, যান্ত্রদানব ট্রাক্টরের কারণে বছরে ৪-৫ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছে এবং শতাধিক লোকজন আহত হয়ে পঙ্গু হয়ে জীবন-যাপন করছে। সাধারন মানুষের ভাষ্য, যেকোন মূল্যে এ যন্ত্রদানব ট্রাক্টর সড়কে চলাচল বন্ধ করতে হবে।

একাধিক ট্রাক্টর মালিকের সাথে কথা তারা জানান, ট্রাক্টরের মাধ্যমে মালামাল পরিবহনে খরচ কম হয়। ফলে অল্প অর্থে বড় ধরনের মালামালও পরিবহন সম্ভব হয়। তবে ট্রাক্টর চলাচলে প্রশাসন কর্তৃক বাঁধা আছে। কম খরচে পণ্য পরিবহনের স্বার্থে বিভিন্ন দিক ম্যানেজ করেই আমরা ট্রাক্টর চালাচ্ছি।

এ ব্যাপারে মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ারুল হক বলেন, সড়কে মালবাহী ট্রাক্টর চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আছে। আমরা যেখানেই মালবাহী ট্রাক্টর পাই, সেখান থেকেই ট্রাক্টর আটক করি।

Facebook Comments

Check Also

মতলবে শিল্পপতি মাহবুবুর রহমান সেলিমের গাছের চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপন কর্মসূচী

মনিরুল ইসলাম মনির : চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেঙ্গারচর পৌর আওয়ামী লীগ নেতা ও বিশিষ্ট …

vv