ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় চাঁদপুর / প্রিয় মতলব উত্তর / মতলব উত্তরে ধানের ক্ষতিকর পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয়

মতলব উত্তরে ধানের ক্ষতিকর পোকা দমনে পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয়

মনিরুল ইসলাম মনির : ক্ষতিকর পোকা দমনে এক সময় জমিতে ব্যাপকভাবে কীটনাশক ব্যবহার করা হতো। এখন সে প্রবণতা কমেছে। ধান ক্ষেতে পোকা খেকো পাখি বসার ব্যবস্থা করে পোকা দমন করা হচ্ছে। মতলব উত্তর উপজেলা কৃষকদের কাছে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বিনা খরচে পোকা দমনের পরিবেশ বান্ধব এ পদ্ধতি।

কৃষি বিভাগ জানান, কৃষি বিভাগের নতুন উদ্ভাবিত এ পদ্ধতির নাম পার্চিং পদ্ধতি। পার্চিং দুই ধরনের। একটি ডেথ পার্চিং জমিতে শুকনো ডাল অথবা কঞ্চি পুঁতে দেয়া। আরেকটি জীবন্ত পার্চিং জমিতে ধনচে গাছ লাগানো। উপজেলার সবুজ ধান ক্ষেত দেখলেই এখন চোখে পড়বে বাঁশের কঞ্চি, শুখনো ডালপালা অথবা সবুজ ধনচে গাছ। ধান ক্ষেতের মধ্যে কয়েক ফিট পরপর বাঁশের কঞ্চি পুঁতে পাখি বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আবার কোথাও কোথাও ক্ষেতের মাঝে সবুজ ধনচে গাছ লাগানো হয়েছে। এগুলোতে ফিঙ্গে পাখি বসছে। খেয়ে ফেলছে ধানের ক্ষতিকর সব পোকা।

বিশেষ করে দুপুরের পর সূর্যের তাপ কমে গেলে ধানের জমিতে ঝাঁকে ঝাঁকে পোকা খেকো পাখি বসছে। পাখির কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে উঠছে সবুজ ধান ক্ষেত। পাখিরা ক্ষেতের শুকনো ডালে বসে ধান গাছের ক্ষতিকর পোকা ধরে ধরে খেয়ে ফেলছে। ধনচে গাছ জমিতে সার তৈরি করছে।

কৃষিবিদদের মতে, ধান গাছে থোড় আসার পর লেদা পোকা, নলি মাছি, মাজরা পোকাসহ কয়েকটি পোকা আক্রমণ করে। পোকার আক্রমণে প্রতি বছর প্রায় সাত থেকে প্রায় ১০ভাগ ধানের উৎপাদন কম হতো। এ ধরনের ক্ষতিকারক পোকা দমনে একসময় কীটনাশক ব্যবহার করা হতো। এতে বিঘা প্রতি প্রায় দেড় হাজার টাকা খরচ হতো। কৃষকরা এখন কীটনাশকের পরিবর্তে প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে পোকা দমন করছেন।

কৃষি বিভাগ জানান, এবার ৯ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হয়েছে। আমন ধান ক্ষেতের প্রায় ৬০ভাগ জমিতে এবার পার্চিং পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। পার্চিং পদ্ধতি জনপ্রিয় করতে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে কৃষি বিভাগ। কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আবার ধনচে বীজও দেয়া হয়েছে।

উপজেলার ঠাকুরচর গ্রামের মালেক খান, নাছির খান ও মিজান জানান, তারা এক সময় ধানের পোকা দমনে কীটনাশক ব্যবহার করতেন। কিন্তু এখন আর সেটা করেন না। তার মত ওই এলাকার সব কৃষকই এখন এ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। একই কথা জানান, সর্দারকান্দি গ্রামের এনায়েত ও তাফাজ্জল। এসব কৃষক এখন এ পদ্ধতিকে বেশ লাভজনক মনে করে অন্য কৃষকদের পদ্ধতি অনুকরন করার আহবান জানাচ্ছেন। নাউরী গ্রামের মোস্তফা জানান, পার্চিং পদ্ধতি আগে কৃষক বুঝতে চাইতো না। এখন অনেক সচেতন। এখনো বিভিন্ন উঠান বৈঠকে এর সুফল তুলে ধরে প্রচারনা চালানো হচ্ছে।

কৃষকরা জানায়, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের পরামর্শে তারা ধানের জমিতে বাঁশের কঞ্চি আড়া আড়ি ভাবে পুঁতে দিয়েছেন। কেউ ধনচে গাছ লাগিয়েছেন। এতে কোনো খরচ নেই। সব কৃষকই ভালো উপকার পাচ্ছেন। উপজেলার হানিরপাড় গ্রামের বেশ’ক জন কৃষক জানান, তাদের এ বিষয়ে আরো প্রশিক্ষণ প্রদান সেই সঙ্গে কৃষি বিভাগ থেকে প্রয়োজন মতো ধনচে বীজ সরবরাহ করা প্রয়োজন। সবাই যেন এটা করে সে ব্যবস্থা করা দরকার।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, তারা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের এ পদ্ধতি শিখিয়েছেন। এখন কৃষকরা এর সুফল পাচ্ছেন। পার্চিং পদ্ধতি সরকারিভাবে স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। এতে কোনো খরচ নেই। ক্ষতিকর পোকা দমনে এটা জৈবিক পদ্ধতি। এদিকে পার্চি পদ্ধতি ছাড়াও আলোক ফাঁদ ব্যবহার এবং নেট সুইমিং করে পোকা দমন করতে কৃষি বিভাগ পরামর্শ দিয়ে আসছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরও জানান, জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে এক সময় পাখি দেখা যেত না। পরিবেশ মারাত্মভঅবে ক্ষগ্রস্ত হতো। এখন কীটনাশকের ব্যবহার কমে যাওয়ায় পাখির বংশ বৃদ্ধি হচ্ছে। ক্ষেতে আবার ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসে। জমিতে পাখি থাকে। এটা দেখতেও ভালো লাগে। এ পদ্ধতি ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া েেহচ্ছ। হাতে কলমে প্রযুক্তি শেখানো হয়েছে। এ পদ্ধতি যথেষ্ট জনপ্রিয় হয়েছে।

উপজেলার বেশ কিছু মাঠ ঘুরে দেখা গেছে ধানক্ষেতে সবুজের মাঝে ধৈঞ্চা গাছের হলুদ ফুলের সমরোহ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অনেক খানি বাড়িয়ে দেয়। ধৈঞ্চা গাছের হলুদ ফুল শুধু শোভাবর্ধনের জন্য নয় বরং হলুদ ফুলে আকৃষ্ট হয়ে উপকারী পতঙ্গ আসে ধান ক্ষেতে। এরা ক্ষতিকর পোকা খেয়ে ফেলে। এছাড়াও ধৈঞ্চা গাছে দিনভর ফিঙ্গে, শালিক ও বুলবুলিসহ নানা ধররের উপকারী পাখি বসে। এতে ধানক্ষেতে পাখির মাধ্যমে ক্ষতিকারক পোকা দমন হয়। এ পদ্ধতিতে পোকা দমনে ধানক্ষেতে কীটনাশক স্প্রে করতে হয় না। এতে করে চাষিদের আর্থিক ক্ষতি বন্ধের সঙ্গে রোধ হচ্ছে পরিবেশ দূষণ। এ পদ্ধতির কারনে এবার রোপা আমনের ভাল ফসল হবে বলছে কৃষকরা।

Facebook Comments

Check Also

সকল জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শতভাগ করতে হবে : আবদুল্লাহ আল মাহমুদ জামান

সজীব খান : চাঁদপুর সদর উপজেলার ৬নং মৈশাদী ইউনিয়ন পরিষদের এলজিএসপি-৩ প্রকল্পের মাস্ক, সাবান, ব্লিচিং, …

vv