ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / মতলবে সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

মতলবে সড়ক উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে ১২২ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

মনিরুল ইসলাম মনির : মেঘনা-ধনাগোদা সেচ প্রকল্প বেড়িবাঁধ সড়ক উন্নয়নে ১২১ কোটি ৯৩ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থে বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। অনুমোদন পেলে চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ)। এটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে চাঁদপুর ও কুমিল্লা জেলা সদরের সঙ্গে মতলব উত্তর উপজেলার উন্নত সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিকল্পনা কমিশনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবিত প্রকল্পটি চলতি ২০২০-২১ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বরাদ্দহীন ভাবে অননুমোদিত নতুন প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ২ মার্চ প্রকল্পটির ওপর অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া বিভিন্ন সুপারিশ প্রতিপালন করায় পরিকল্পনা কমিশনের পক্ষ থেকে প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, চাঁদপুর জেলার মতলব-মেঘনা-ধনাগোদা-বেড়িবাঁধ সড়কটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা মহাসড়ক। এটির দৈর্ঘ্য ৬০ কিলোমিটার। সড়কটি মতলব উত্তর উপজেলার পরিধি ঘিরে মেঘনা ও ধনাগোদা নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের ওপর অবস্থিত। সড়কটির পাশে ১৬টি লঞ্চঘাট রয়েছে। এই সড়কটি ব্যবহারের মাধ্যমে এ সব লঞ্চঘাট দিয়ে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার অধিবাসীরা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানে যাতায়াত করে থাকেন।

এরই মধ্যে সড়কটির ২০ দশমিক ০৬ কিলোমিটার সড়কাংশে ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থে প্রশস্তকরণ ও মজবুতিকরণ করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৩৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কাংশে বিদ্যমান প্রস্থ ৩ দশমিক ৭ মিটার হওয়ায় সড়কটিতে দু’টি যানবাহন পাশাপাশি অতিক্রম করতে সমস্যা হয়। এ কারণে ৩৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার সড়কও ৫ দশমিক ৫ মিটার প্রস্থে উন্নীতকরণ ও মজবুতিকরণের জন্য প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে ৪ দশমিক ৮৩ লাখ ঘনমিটার মাটির কাজ (প্রশস্তকরণ), ৩৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার পেভমেন্ট প্রশস্তকরণ, ৮০০ মিটার বাঁক প্রশস্তকরণ, ১৩ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার পেভমেন্ট মজবুতিকরণ, ২৪ দশমিক ২০ কিলোমিটার সার্ভেসিং, তিনটি বাস-বে নির্মাণ, ৬২০ মিটার সসার ড্রেন নির্মাণ, ২৪০ মিটার ক্রস ড্রেন নির্মাণ, ২ হাজার ৪০০ মিটার আরসিসি প্যালাসাইডিং নির্মাণ, ৯ হাজার ১০৫ বর্গ মিটার রোড মার্কিং এবং ৩৭ দশমিক ৯৪ কিলোমিটার নির্মাণকালীণ রক্ষণাবেক্ষণ করা হবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের নিজস্ব জনবল দিয়ে মূল প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা করা হয়েছে। ওই সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে, সড়কটি মতলব উত্তর উপজেলার পরিধি ঘিরে মেঘনা ও ধনাগোধা নদী রক্ষা বেড়িবাঁধের ওপর অবস্থিত। বর্তমানে সড়কটিতে ৩ হাজার ৪১৪টি যানবাহন চলাচল করে থাকে। এর মধ্যে ভারী যানবাহন ৯১৩টি, হালকা ২ হাজার ৫০১টি। সড়কটিতে প্রতিনিয়ত ট্রাফিকের পরিমাণ বাড়ছে। কিন্তু প্রয়োজনের তুলনায় কম প্রশস্ত হওয়ায় এবং অসংখ্য বাঁক থাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনগুলোর সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রায়ই দুর্ঘটনা দেখা দেয়।

তাছাড়া এর পাশে ১৬টি লঞ্চঘাট রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ওইসব লঞ্চঘাট দিয়ে চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলাা অধিবাসীরা নিরাপদে ও স্বল্প সময়ে যাতায়াত করতে পারবে।

প্রকল্পটির ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রকল্পের আওতায় ১৩০টি সাইন ও সিগন্যাল স্থাপনে ব্যয় ধরা হয়েছে ১১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। এছাড়া চার হাজারটি কংক্রিট গাইড পোস্ট স্থাপনে ব্যয় হবে ৯৬ লাখ টাকা। ৯ হাজার ১০৫ বর্গমিটার রোড মার্কিংয়ে ব্যয় হবে ১ কোটি টাকা। ৩৮টি কংক্রিট কিলোমিটার পোস্ট স্থাপনে ব্যয় ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। ২০টি ডিরেকশনাল সাইনের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ লাখ টাকা এবং নির্মাণকালীন রক্ষণাবেক্ষণ ৫৬ কোটি ৯২ লাখ টাকা ধরা হয়ছে।

এছাড়া মাটির কাজ (প্রশস্তকরণ) ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা। পেভমেন্ট প্রশস্তকরণের জন্য ৩৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা। পার্শ্ব রাস্তা নির্মাণে ৩৪ লাখ টাকা এবং পেভমেন্ট মজবুতিকরণে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে ১৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা।

Facebook Comments

Check Also

মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হলেও জীবনযুদ্ধে পরাজিত হাজীগঞ্জের গাজী আলী আহমদ

বিশেষ প্রতিনিধি : দেশমাতৃকার জন্য জীবন বাজি রেখে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন গাজী আলী আহমদ। ছিনিয়ে এনেছেন …

vv