ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় চাঁদপুর / প্রিয় মতলব উত্তর / মতলবে ইউপির উপ-নির্বাচন প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় মাঠে প্রার্থীরা
মতলব উত্তরের জহিরাবাদ ও সুলতানাবাদ ইউপির চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনের আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা প্রতিক বরাদ্দের পরই প্রচারণায় নেমে পড়েন।

মতলবে ইউপির উপ-নির্বাচন প্রতীক পেয়েই প্রচারণায় মাঠে প্রার্থীরা

মনিরুল ইসলাম মনির : মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের সদস্য প্রার্থী বিল্লাল হোসেন, ফুটবল প্রতীক পেয়েই বাজার থেকে ৫-৭টা ফুটবল কিনে লোকজন নিয়ে শুরু করেন প্রচার। এ সময় মোহনপুর ও মুদাফর বাজার হয়ে ওঠে উৎসব মুখর।

শুধু মোহনপুর নয় জহিরাবাদ, সুলতানাবাদ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান, ইসলামাবাদ ইউনিয়নের সদস্য প্রার্থীরা প্রতীক পেয়েই নেমে পড়েছেন প্রচারে। অনেকে পছন্দের প্রতীক পেয়ে মিষ্টিমুখ করিয়েছেন, এমন খবরও পাওয়া গেছে। রোববার ইউনিয়ন পরিষদ উপ-নির্বাচনে প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পরের চিত্র ছিল একই, সর্বত্র ছিল উৎসবের পরিবেশ।

জহিরাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী মো. সেলিম মিয়া, নৌকা প্রতিক বরাদ্দের পরই তিনি’সহ তাঁর সমর্থকরা ছুটে যান চরওমেদ, জহিরাবাদ চরে। সুলতানাবাদ ইউনিয়নের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবিবা ইসলাম শিফাত, নৌকা প্রতিক বরাদ্দের পর তিনি নিজ গ্রাম আমুয়াকান্দা গ্রামের ভোটারের কাছে ছুটে যান। নৌকা মার্কায় ভোট প্রার্থনা করেন। এছাড়াও অন্যান্য প্রার্থীরা ভোটারের কাছে ছুটে যান, নিজ নিজ প্রতিকে ভোট প্রার্থনা করেন।

আবার প্রতীক পাওয়ার পরে অনেকে দৌড়েছেন ছাপাখানায়। কত দ্রুত পোস্টার পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করতে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতীক বরাদ্দ হতেই ইউনিয়ন পরিষদগুলোতে প্রচার-প্রচারণার মাত্রা এত বেড়ে গেছে যে মনে হচ্ছে কোনো উৎসব আসছে। প্রার্থী ও তার লোকজন ভোটারদের মনোরঞ্জনের চেষ্টা করছেন। বুকে বুক লাগিয়ে, হাতে হাত দিয়ে তারা ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। অনেকে আবার মসজিদ-মন্দিরে গিয়ে দোয়া চাচ্ছেন বা পুজো দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

এদিকে জহিরাবাদ ও সুলতানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অবস্থিত হাটে-বাজারে পোস্টার লাগানোর হিড়িক পড়ে গেছে। সুতো টাঙিয়ে ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে হাজারো পোস্টার। কোনো কোনো দলীয় প্রার্থী দলের প্রধান বা চেয়ারপারসনের সঙ্গে ছবি তুলে পোস্টার বা ব্যনার করে ঝুলিয়ে দিয়েছেন হাটে-বাজারে। প্রার্থীরা সবাই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট দেয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন। সঙ্গে দিচ্ছেন একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতিও।

এদিকে চা-পানের দোকানে চলছে ভোটের হাওয়া। কে জিতবে, কার দিকে পাল্লা ভারি- এসব নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। দোকানে দোকানে পান-বিড়ি ফ্রি পাচ্ছেন ভোটাররা। মনের আনন্দে চা-পানে মজে আছেন তারা। প্রার্থীদের তরফে সমর্থকরা বা আত্মীয় স্বজনরা করছেন জনসংযোগ। কোথাও কোথাও প্রার্থীর স্ত্রী বা বাড়ির মেয়েরাও পাড়ায় বেরিয়ে ভোট চাচ্ছেন বলে জানা গেছে। প্রচার-প্রচারণার কাজে কোনো কোনো প্রার্থী মাইক বা বক্স ব্যবহার করে ভোট চাচ্ছেন।

এদিকে বসে নেই নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন। কমিশনের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে নির্বাচনী প্রচার চালানোর জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। রোববার ও সোমবার প্রতীক বরাদ্দ সাপেক্ষে সব প্রার্থীই নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে প্রার্থীদের প্রতীক বা পোস্টার ব্যবহারের ক্ষেত্রে কমিশনের বিধিনিষেধ অবশ্যই অনুসরণ করতে হবে। পোস্টার অবশ্যই সাদাকালো হতে হবে। প্রতীকের আয়তন ৬০ সেন্টিমিটার বাই ৪৫ সেন্টিমিটারের বেশি হবে না। পোস্টারের ব্যবহৃত ছবি সাধারণ ছবি বা পোট্রেট হতে হবে। প্রতীকের আকার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ বা উচ্চতা তিন মিটারের বেশি হতে পারবে না। নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নিজ ছবি ও প্রতীক ব্যতীত কারো নাম, ছবি বা প্রতীক ব্যবহার করতে পারবেন না। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রাজনৈতিক দলের মনোনীত হলে দলীয় প্রধানের ছবি পোস্টার বা লিফলেটে ব্যবহার করতে পারবেন। দেয়াল বা যানবাহনে কোনো পোস্টার বা লিফলেট বা হ্যান্ডবিল লাগানো যাবে না। তবে নির্বাচনী এলাকার যে কোনো জায়গায় তা ঝুলিয়ে রাখতে পারবে। ভোটকেন্দ্রের ১৮০ মিটারের মধ্যে ভোটার সিøপ বিতরণ করা নিষিদ্ধ।

নির্বাচনী প্রচারের প্রতীক হিসেবে জীবন্ত প্রাণী ব্যবহার করা যাবে না। নির্বাচন পূর্ব সময়ে কোনো প্রার্থী সার্কিট হাউস, ডাকবাংলো বা কোনো রেস্টহাউসে অবস্থান করতে পারবেন না। পথসভা বা ঘরোয়া সভা ব্যতীত কোনো প্রকার জনসভা বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। তবে পথসভা বা ঘরোয়া সভা করতে হলে ২৪ ঘণ্টা আগে তার স্থান ও সময় সম্পর্কে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে হবে। তবে যেখানে জনগণের চলাচলে বাধা সৃষ্টি হতে পারে সেসব স্থানে পথসভা বা ঘরোয়া কোনো সভা করা যাবে না। সড়ক ও জনগণের চলাচলের স্থানে নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন নিষিদ্ধ। চেয়ারম্যান পদের কোনো প্রার্থী তার নির্বাচনী এলাকার মধ্যে তিনটির বেশি নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন করতে পারবেন না। নির্বাচনী ক্যাম্পে কোনো টেলিভিশন, ভিসিআর, ভিসিডি, ডিভিডি ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্বাচনী প্রচারকালে যান্ত্রিক শোভাযাত্রা ও মিছিল নিষিদ্ধ। মশাল মিছিলও বের করা যাবে না। কোনো এমপি বা মন্ত্রীও কোনো প্রার্থীর হয়ে প্রচারে যাওয়া বিধিনিষেধ রয়েছে।

নির্বাচনের প্রচারে ভোটারদের আকর্ষণ সৃষ্টিতে গেট বা তোরণ নির্মাণ করা নিষিদ্ধ। ৩৬ মিটারের অধিক স্থান নিয়ে প্যান্ডেল বা ক্যাম্প করা যাবে না। বিদ্যুতের সাহায্যে কোনো আলোকসজ্জাও করা যাবে না। নির্বাচনী ক্যাম্পে কোনো খাদ্য-পানীয় পরিবেশন করা যাবে না। ব্যক্তি চরিত্র হনন করে কোনো বক্তব্য দেয়া যাবে না। নির্বাচনী প্রচারের ক্ষেত্রে কোনো ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। একের অধিক মাইক যন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। দুপুর ২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সময়ের আগের বা পরে কোনো প্রকার মাইকিং করা যাবে না।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচন প্রচার থেকে শুরু করে ভোট পর্যন্ত কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইন অনুযায়ী আচরণবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে তাকে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

Facebook Comments

Check Also

মাদার তেরেসা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড পেলেন হাজীগঞ্জ পৌর কাউন্সিলর আজাদ মজুমদার

সাইফুল ইসলাম সিফাত : মাদার তেরেসা গোল্ডেন এ্যাওয়ার্ড পেলেন হাজীগঞ্জ পৌর সভার ৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর …

Shares
vv