ব্রেকিং নিউজঃ
Home / ফিচার / বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করে জীবন চলে মানিক মিয়ার

বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করে জীবন চলে মানিক মিয়ার

করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলাকালে এবং পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে ২৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার পেশাগত কাজে চাঁদপুর জেলা শহরের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখাকালে এক পর্যায়ে চাঁদপুর পৌর এলাকার পাইকারী ও খুচরা মাছ বেচাবিক্রির সবচেয়ে বড় ও অন্যতম বাজার বিপনীবাগে পরিচয় হয় বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করে সংসার চালানো মতলব উত্তরের বাসিন্দা মানিক মিয়ার সাথে। মানিক মিয়া(৪৫) বাবা- মরহুম সেকমত আলী, মা-সিরাপি বেগম।তাঁর এক ছেলে টুটুল (১৬) ও এক মেয়ে মেঘলা(৪)।

মানিক মিয়ার বাবা গত হয়েছেন বেশ কয়েক বছর আগে। মা-সিরাপি বেগম তার সাথেই থাকেন। তার স্ত্রী-রাবেয়া খাতুন ঘরকনার কাজ করেই সময় কাটান। মানিক মিয়া নদীতে বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করেন। মানিক মিয়া মাছ ধরার কাজে সহযোগিতা করেন ছেলে টুটুল। বড়শি দিয়ে মাছ ধরে তিনি জেলা শহরের বিপনীবাগে বিক্রি করে সংসার চালান। মাছ বিক্রি করে তিনি যে আয় করেন তা দিয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট পরিবার ভালই চলছে। মানিক মিয়া এভাবেই তার বাকি জীবনটা অতিবাহিত করতে চান। এর চেয়ে বেশি কিছু তিনি আশা করেন না। ছেলে টুটুল লেখা-পড়া করেনি।

জানতে চাইলাম ছেলে কেন লেখা-পড়া করেনি, এটাতো ওর প্রতি অন্যায় করা হয়েছে? মানিক মিয়া হেসে জবাব দিলেন আমি চেষ্টা করেছি কিন্তু ছেলের পড়া-লেখা করার আগ্রহ না থাকলে আমি কি করমু! আবার জিজ্ঞেস করলাম, কেন আগ্রহ করবে না, আপনি কি কখনো জানতে চেয়েছেন? উত্তরে মানিক মিয়া বলেন, আমি মূর্খ মানুষ, লেখা-পড়া সম্পর্কে তেমন কিছু বুঝিনা, ছেলের আগ্রহই আমার আগ্রহ। ছেলে পড়তে চায়নি তাই তার লেখা-পড়া হয়নি। তাকে বললাম, আপনি তো ছেলের পায়ে কুড়াল দিয়েছেন? আপনি জানেন, লেখা-পড়া ছাড়া বর্তমান যুগে চলা অনেক কঠিন! বর্তমান সময়ে সরকার শিশুদের লেখা-পড়ার করার জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধা করে দিয়েছে, আপনি কি তা জানেন না? উত্তরে মানিক মিয়া গোমরা মুখে বললো, আসলে আমাদের পরিবারের এমন কেউ নেই! আর আশে-পাশেও এমন কেউ নেই যে আমাকে পড়া-লেখা ‍কি প্রয়োজন তা বলবে!

মানিক মিয়া মতলব উত্তরের সাতনল ইউনিয়নের সটাকী গ্রামের বাসিন্দা। তার বাড়ির চারদিকেই মেঘনা নদীসহ অন্যান্য খাল-বিলে ভরা। মেঘনা নদীর পাড়ের বাসিন্দা হিসেবে তার এলাকার অধিকাংশ মানুষই মাছ ধরে জীবিকা-জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকার অধিকাংশ মানুষ পূর্ব পুরুষদের দেখাদেখি বড়শি এবং জাল দিয়ে মাছ ধরাকে পেশা হিসাবে নিয়েছে। তিনিও পূর্ব পুরুষের মাছ শিকারকেই নিজের পেশা হিসেবে গ্রহন করেছেন।

মানিক মিয়ার সাথে কথা শেষ করে যখন চলে আসছি তখন মনে মনে ভাবছি মানুষের জীবন কত বৈচিত্রে ভরা। কেউ রাজ প্রাসাদে থেকেও সুখী হয় না, আবার কেউ অনিশ্চত জীবনে নদীতে মাছ ধরে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে দুইবেলা দু’মুঠো খেতে ভাত খেতে পেরেই সুখী জীবন-যাপন করছে!আসলেই এটাই হচ্ছে জীবন। জীবনের চলে জীবনের নিয়মে, এখানে কারো শাসন চলে না।

তবে, এসব প্রান্তিক মানুষের জীবনের স্বপ্ন দেখাতে কারো না কারো দায়িত্ব নেয়া উচিত। তাহলে হয়তো তাদের আগামী প্রজন্ম শিক্ষার গুরুত্ব বুঝবে, সেই সাথে তারা নতুন করে জীবনের স্বপ্ন দেখতে শিখবে।

মানিক মিয়া নিজে কোন ফোন ব্যবহার করেন না। জানতে চাইলে তিনি বলেন যে, তার বাড়িতে একখানা ফোন আছে সেটা তার বউ ব্যবহার করে। অনেক বলার পর তার সাথে আশা অপর মাছ ব্যবসায়ী মোঃ মুন্না শেখের একটি নম্বর দিয়ে বললো চাইলে এই নম্বরে আমার সাথে কথা বলতে পারবেন। এই নম্বরটি তার বোনের ছেলে মুন্না শেখের। ফোন নম্বরঃ ০১৩১০-২১৪৫৯৬

লেখকঃ মোঃ রুহুল আমিন, শিক্ষক ও সাংবাদিক।
e-mail: [email protected]

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে শুক্রবার ১১৫ নমুনায় ৩ জনের করোনা শনাক্ত

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে নতুন করে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সনাক্তের হার ৩.১৫%। শুক্রবার …

Shares
vv