ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / বিটাক চাঁদপুরের ২টি ঝুঁকিপূর্ণ সফলতা

বিটাক চাঁদপুরের ২টি ঝুঁকিপূর্ণ সফলতা

অমরেশ দত্ত জয় : বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) চাঁদপুর ইতিমধ্যেই ২টি ঝুঁকিপূর্ণ কাজ সফলভাবে শেষ করতে পেরেছে। আর এতে করে দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আরো দৃঢ় হচ্ছে মানুষের আস্থা।
ঝুঁকিপূর্ণ সমাপ্ত হওয়া ১ম কাজ প্রসঙ্গে জানা যায়, সিলেট পিডিবির ফেঞ্চুগঞ্জে ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২টি বয়লার ফিড ওয়াটার পাম্প নষ্ট হয়ে যায়। মূলত পাম্প দুইটির শ্যাফট বাঁকা হয়ে যায় ও ইম্পেলার কেসিং ক্ষয় এবং মেকানিক্যাল সিল নষ্ট হয়ে যায়। যেজন্য ওই বয়লার ফিড ওয়াটার পাম্প ২টি সম্পূর্ণ অচল অবস্থায় ছিলো। এরপর ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কর্তৃপক্ষ ভারত তথা বৈদেশিক একটি সরবরাহকারীর সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করে। কিন্তু তারা কাজটি করতে খরছ অনেক বেশি দেখায় ও এটি শেষ করতে সময় অনেক বেশি লাগবে বলে জানায়। যে কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কর্তৃপক্ষ দেশীয় উৎপাদনকারীর সাথে আলাপ করে।
পরবর্তীতে বিটাক চাঁদপুর কর্তৃপক্ষ ওই ঝুঁকিপূর্ণ কাজটি হাতে নেয়। আর খুব অল্প খরচ ও অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো পাম্পটি মেরামত করতে সক্ষম হয়। পরে তা ফেঞ্চুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে  সফলভাবে ইন্সটল পর্যন্ত করে দেয়। এরপর হতে প্লান্টটি পুরোদমে সচল অবস্থায় রয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণভাবে সমাপ্ত হওয়া ২য় কাজ প্রসঙ্গে জানা যায়, চট্টগ্রাম ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট সারকারখানা(ড্যাপ এফসিল) এর অভ্যন্তরে দুইটি অ্যামোনিয়াম ট্যাঙ্ক ছিলো। যার মধ্যে একটি ট্যাঙ্ক বিষ্ফোরণে নষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু দুইটি ট্যাঙ্ক ক্রমান্বয়ে অপারেশনে থাকতো। তাই একটি ট্যাঙ্ক নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের পুরো প্লান্টটি বন্ধ ছিলো। যে প্লান্টের বার্ষিক টার্ন ওভার ছিলো প্রায় ১৫০০(দেড় হাজার) কোটি টাকা।
পরবর্তীতে বিটাক চাঁদপুর অ্যামোনিয়াম পাইপ লাইনের এই কাজটি হাতে নেয়। এরপর বাইপাস করণের উচ্চতর প্রকৌশল বিদ্যার প্রয়োগ ঘটায়। আর এতে করে একটি মাত্র ট্যাঙ্ক হতে দুইটি প্লান্টেই অ্যামোনিয়া সরবরাহের ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়। এতে খরছ হয় মাত্র ১৫ লক্ষ টাকা।
এ ব্যপারে বিটাক চাঁদপুরের সহকারী প্রকৌশলী(প্রশিক্ষক)এস এম নাসিমুল ইসলাম জানান, শুধু একটা কথাই বলবো যে, পূর্বে দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠান এতো সূক্ষ্ম ও ঝুঁকিপূর্ণ এই কাজগুলো হাতে নেয়নি। চট্টগ্রামের ওই অ্যামোনিয়া ট্যাঙ্ক বিষ্ফোরণের কারণে ৩টি বছর ওদের প্লান্টটি বন্ধ ছিলো। যা আমরা আমাদের দক্ষতায় পুনরায় চালু করতে পেরেছি।
২২শে মার্চ রবিবার এ ব্যপারে বিটাক চাঁদপুরের অতিরিক্ত পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, দেশীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বাড়াতেই বিটাক ঝুঁকিপূর্ণ কাজগুলো হাতে নেয়। আর তা দ্রুত সময়ের মধ্যে স্বল্প খরছে শেষ করে। আমরা যাতে এভাবেই আমাদের সফলতা বজায় রাখতে পারি। সেজন্য সকলের নিকট থেকে দোয়া প্রত্যাশা করছি।
Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে ঈদের নামাজে করোনা হতে মুক্তি পেতে মসজিদ গুলোতো কান্নার রোল

সাইফুল ইসলাম সিফাত : বিশ্বব্যাপি ছড়িয়ে পড়েছে করোনা ভাইরাস। এর মধ্যে বাদ যায়নি বাংলাদেশও। তাই …

vv