ব্রেকিং নিউজঃ
Home / আজকের আয়োজন / ফ্যাসীবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলন গড়ে তুলে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করাই যুবদলের লক্ষ্য
নয়া সভাপতি: সাইফুল আলম নীরব

ফ্যাসীবাদী সরকারের বিরুদ্ধে যুব আন্দোলন গড়ে তুলে যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করাই যুবদলের লক্ষ্য

সম্প্রতি ঘোষিত যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। ১৯৮২ সালে তেজগাঁও পলিটেকনিক বয়েজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্ররাজনীতিতে অভিষিক্ত ঢাকা সিটি কলেজের মেধাবী এ ছাত্রনেতা। ১৯৮৩ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তেজগাঁও থানা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, পরে সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৯০ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে বিভিন্ন সময়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, মহানগর ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। ছাত্ররাজনীতি থেকে পরে যুবদলে এসে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক হন। সবশেষ ঘোষিত যুবদলের নতুন কমিটিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি করা হয় ছাত্রনেতা নীরবকে।

এখন নতুন সভাপতির নেতৃত্বে গঠিত হবে যুবদলের পূর্ণাঙ্গ কমিটি। কবে এই কমিটি হবে, কারা নেতৃত্বে আসবেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির নয়া সভাপতি সাইফুল আলম নীরব। কথা বলেন সাংবাদিক আহমেদ শাহেদের সাথে।

   সাংবাদিক: আহমেদ শাহেদ

আহমেদ শাহেদ : কেমন হলো নতুন আংশিক কমিটি?

সাইফুল আলম নীরব : সারা দেশে যুবদলের নেতাকর্মীদের মতো আমিও মনে করে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান একটি যুগোপযোগী ও সুন্দর কমিটি উপহার দিয়েছেন। এটি একটি সাংগঠনিক কমিটি হয়েছে। আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে গনতন্ত্র ফিরিয়ে আনার লক্ষে এই কমিটি জোড়ালো ভূমিকা রাখবে ইনশাহ আল্লাহ।

আহমেদ শাহেদ : সামনে মূল চ্যালেঞ্জ কী নতুন কমিটির?

সাইফুল আলম নীরব : বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে যুবদলের সোনালি ঐতিহ্য রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির চেয়ারপারসন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছি। বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধেও আন্দোলন করছি। এই আন্দোলনে দেশের যুবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করব- এটাই হবে আমাদের মূল লক্ষ্য। আমার ওপর আস্থা রেখে যুবদলের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সেই আস্থার প্রতিদান দিতে নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেবো।

আহমেদ শাহেদ : পূর্ণাঙ্গ কমিটি কত দিনের মধ্যে হবে?

সাইফুল আলম নীরব:

নয়া সভাপতি: সাইফুল আলম নীরব

যতদ্রুত সম্ভব পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে বলা হয়েছে আমাদের। আশা করি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে একটি সুন্দর কমিটি করতে পারব। সংগঠনকে সুসংগঠিত করতে আমরা শিগগিরই সাংগঠনিক কর্মসূচী ঘোষণা করে সারা দেশে সফর করব। সরকারের পতন ঘটাতে দুর্বার যুব আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। সেই আন্দোলনে সরকারের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা হবে- এটাই যুবদলের প্রতিজ্ঞা।

আহমেদ শাহেদ : কেন্দ্রীয় কমিটি কাদের নিয়ে সাজানো হবে?

সাইফুল আলম নীরব: আমি আগেই বলেছি, এটি একটি সাংগঠনিক কমিটি হয়েছে। তাই আমরা যুবদলকে কীভাবে সুসংগঠিত করা যায়, সেটা মাথায় রেখে পদক্ষেপ নেব। এ জন্য শিগগিরই বিভিন্ন মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে। ত্যাগী, দক্ষ, যোগ্যদের দিয়ে কমিটি করা হবে। যারা অনেক কষ্ট আর জেল-জুলুম উপেক্ষা করে আন্দোলনে ছিলেন, ছাত্ররাজনীতিতে যারা যোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন, সমগ্র দেশের দুর্দিনে যুবদলের রাজনীতিতে আসতে চান- তাদেরও রাখা হবে। সাবেক কমিটির সক্রিয় কোনো নেতা বাদ যাবেন না।

আহমেদ শাহেদ : কত সদস্যের কমিটি হবে?

সাইফুল আলম নীরব: যুবদলের সবশেষ কমিটি ২৭১ সদস্যের। আমাদের পূর্ণাঙ্গ কমিটি এই সংখ্যার মধ্যেই থাকবে আশা করি।

আহমেদ শাহেদ : যুবদলকেও কি স্বজনপ্রীতির অভিযোগের ভাগিদার হতে হবে?

সাইফুল আলম নীরব: যুবদলে স্বজনপ্রীতির জায়গা হবে না, হতেও দেয়া হবে না। পদ-পদবি পাওয়ার মাপকাঠি হবে যোগ্যতা। অবশ্যই পদ দেয়ার আগে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে ছিল, তাদের ব্যাপারে বিশেষ নজর থাকবে। সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই শক্তিশালী কমিটি করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ আমরা।

আহমেদ শাহেদ : দেশব্যাপী যুবদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলোর কী হবে?

সাইফুল আলম নীরব: তিন বছর পর পর যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়ার নিয়ম। আমাদের কমিটি হলো সাত বছর পর। এর অন্যতম কারণ হলো- ২০১৩ সালের পর কর্মী সম্মেলন করাসহ আনুষ্ঠানিকভাবে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ ছিল না। তৃণমূলের চিত্র ছিল আরো ভয়ংকর। সে কারণে কমিটির মেয়াদ শেষ হলেও নতুন কমিটি করা যায়নি। তবে এবার সারা দেশের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি করে নতুন নেতৃত্ব তৈরি করা হবে।

আহমেদ শাহেদ : বিগত আন্দোলনে যুবদলের ভূমিকায় নবাগত সভাপতি হিসেবে আপনার মতামত কী?

সাইফুল আলম নীরব: আপনারা জেনে থাকবেন, বিগত দিনের আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি জীবন দিয়েছেন যুবদলের নেতাকর্মীরা। আমাদের ৩৭ জন সহযোদ্ধাকে হত্যা করা হয়েছে। ২০ জনের বেশি গুমের শিকার হয়েছেন। এই মুহূর্তে সারা দেশে যুবদলের কয়েক হাজার হাজার নেতাকর্মী কারাগারে। থানা-জেলাসহ সব কমিটির প্রায় সব নেতার বিরুদ্ধে মামলা করেছে সরকার। আমার নিজের বিরুদ্ধেও ২১৭টি মামলা রয়েছে। এমন অবস্থার মধ্য দিয়েই আন্দোলন করতে হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি সাধ্যমতো।

আহমেদ শাহেদ : বিএনপির কর্মসূচি নিয়ে নানা সময় ব্যাপক সমালোচিত। এর প্রেক্ষিতে কি ধরনের কর্মসূচি চায় যুবদল ?

সাইফুল আলম নীরব: সরকারের পক্ষ থেকে নানা অভিযোগ করা হলেও আমরা জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া সংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এ দল সব সময়ই গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, দলের কর্মসূচিও গণতান্ত্রিক। আগামী দিনে আমরা আরো বেশি জনবান্ধব কর্মসূচি আশা করি এবং তা নিয়ে এগিয়ে যাব। একটি কঠিন লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বর্তমান স্বৈরাচারী সরকারকে ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হব।

আহমেদ শাহেদ : আপনাকে ধন্যবাদ।

সাইফুল আলম নীরব : আপনাকেও আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ধন্যবাদ।


আহমেদ শাহেদ পরিচিতি: তিনি একজন সাংবাদিক ও লেখক। চাঁদপুরে তাঁর জন্ম

https://www.facebook.com/profile.php?id=100000792753277

Facebook Comments

Check Also

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে “রক্তদাতা ভাই-বোনদের শুভেচ্ছা”

বিশ্ব রক্তদাতা দিবসে সকল স্বেচ্ছায় রক্তদাতা ভাই-বোনদের অভিনন্দন ও রক্তিম শুভেচ্ছা। সাংবাদিক সাইদ হোসেন অপু …

vv