ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারে আ’লীগ, কৌশুলী বিএনপি

ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে প্রচারে আ’লীগ, কৌশুলী বিএনপি

এস.এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মাইকিং,পথসভা,গণসংযোগসহ চলছে বাড়িতে বাড়িতে ভোট প্রার্থনা। প্রচার-প্রচারণায় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ মাঠে থাকলেও প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি বিএনপি এগোচ্ছে ভিন্ন কৌশলে। ফলে ভোটারদের মাঝে নেই কোনো উৎসাহ-উদ্দীপনা।

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে তিন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ইমাম হোসেন পাটওয়ারী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বীরমুক্তিযোদ্ধা মো. দেলোয়ার হোসেন।

নৌকার প্রার্থী আবুল খায়ের পাটওয়ারীর পক্ষে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চললেও তেমন জৌলুশ নেই ধানের শীষের প্রার্থী ইমাম হোসেন পাটওয়ারীর প্রচারকার্যে। এদিকে হাতপাখার প্রার্থী মাও. দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে প্রচারণা এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি।

এদিকে নৌকার পক্ষে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছে জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি ডা. জে আর ওয়াদুদ টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন এসডু পাটওয়ারী, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. হারুন অর- রশিদ সাগর, চাঁদপুর সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নাজিম দেওয়ান, সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ইউছুফ গাজী, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান, চাঁদপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট জিল্লুর রহমান জুয়েল, ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. মাহফুজুল হক, কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য মহিউদ্দিন খোকা, জেলা জজকোর্টের পিপি অ্যাডভোকেট রনজিত রায় চৌধুরী। এ ছাড়া উপজেলা আ’লীগ, যুবলীগ ছাত্রলীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন।

তাদের নির্বাচনী ক্যাম্পগুলোও সরব থাকছে কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে। বেশ প্রাণচাঞ্চল্যও আছে তাদের মধ্যে। জোরেশোরে চলছে নির্বাচনী সভা-সমাবেশসহ নানা তৎপরতা।

বিগত দুইটি পৌর নির্বাচনের মধ্যে একটিতে জয় পায় আ’লীগ। এবারের নির্বাচন আওয়ামী লীগের অনেকটা মর্যাদার লড়াই। যে কারণে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমেছে আ’লীগের সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা।

অপরদিকে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. দেলোয়ার হোসেনের দৃশ্যমান কোন প্রচার প্রচারণা নেই বললেই চলে। পক্ষান্তরে এর ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী মো. ইমাম হোসেনের ক্ষেত্রে।

গোটা পৌর এলাকা ঘুরে হালকা কিছু পোস্টার আর দু’একটা প্রচার মাইকে ধানের শীষে ভোট চাওয়ার শব্দ শোনা গেলেও দেখা মিলছে না কোনো নির্বাচনী অফিসের। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে কর্মী-সমর্থককে ভোট চাইতে দেখা গেলেও চোখে পড়ছে না কোনো বৈঠক, মিছিল, সভা-সমাবেশ। দলের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তাই নেই তেমন উৎসাহ-উদ্দীপনা, নেই দৌঁড়-ঝাঁপ।

আ’লীগের একাধীক নেতা কর্মীর সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রবীণ আ’লীগ নেতা যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী দলের একজন ত্যাগী নেতা হিসেবে নৌকা প্রতীক দিয়ে দল উনাকে এবং আমাদেরকে যে সম্মান দিয়েছে, আমরা ভোটারা সে সম্মান অক্ষুন্ন রাখবো। যে জন্যই আমরা মাঠে বিচরণ করে সর্বোচ্চ প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি।

অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত নতুন ভোটাররা বলেন, বিএনপি পরিবারের সন্তান ও তরুণ প্রার্থী হিসেবে দল তরুণ প্রজন্মকে যে মর্যাদা দিয়েছে, সে মর্যাদা রক্ষা করাই আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

তারা আরো বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা আমাদের প্রার্থীর প্রচার- প্রচারনায় বাঁধা, পোষ্টার, বিলবোর্ড চিড়ে পেলছে এবং প্রচার-প্রচারনা চালাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে।

ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি মজিবুর রহমান দুলাল বলেন, সারাদেশে যে নির্বাচনী সংস্কৃতি গড়ে উঠেছে তার ওপর আস্থা রাখতে কষ্ট হচ্ছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে কী থেকে কী হয় এমন শঙ্কা থেকেই ভেবে-চিন্তে নির্বাচনে সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হচ্ছে। তবে হতাশার কিছু নেই।

তিনি আরো বলেন, নির্বাচনের শেষ পর্যন্ত লেভেলপ্লেয়িং মাঠ তৈরি না হলে সঠিক সময়ে, সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে ধানের শীষের প্রার্থী মো. ইমাম হোসেন পাটওয়ারী বলেন, ‘ফরিদগঞ্জে বিএনপি অনেক শক্তিশালী দল। পৌরসভা গঠনের পর আমরাই একবার বিজয় পেয়েছি এবং আরেকবার নির্বাচনে ষড়যন্ত্রের কাছে পরাজিত হয়েছি। অত হৈ-চৈ করে কখনো ভোট বাড়ে না। ভোটারা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারলে শেষ গোলটা বিএনপিই দেবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।’

আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী যুদ্ধাহত বীরমুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের পাটওয়ারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অক্ষুন্ন রাখতে ১৪ ফেব্রুয়ারীর নির্বাচনে ভোটাররা আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে বলে আমি আশা রাখি।’

তিনি দাবি করেন, ‘আমি নির্বাচিত হলে মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত একটি সমৃদ্ধশীল পৌরসভা গঠন করবো, যা সারা দেশের জন্য রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা হবে।’

আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী ফরিদগঞ্জ পৌর নির্বাচন। ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এ পৌরসভা নির্বাচনে তিন জন মেয়র প্রার্থী, সংরক্ষিত কাউন্সিলর হিসেবে ১১জন ও সাধারণ কাউন্সিলর হিসেবে ৬২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। দ্বিতীয় শ্রেণির এ পৌরসভায় মোট ভোটার ৩১ হাজার।

Facebook Comments

Check Also

শাহরাস্তিতে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে আলোচনা সভা

নোমান হোসেন আখন্দ : করোনাকালে নারী নেতৃত্ব, গড়বে নতুন সমতার বিশ্ব, এ প্রতিপাদ্য কে সামনে …

Shares
vv