ব্রেকিং নিউজঃ
Home / বিশেষ প্রতিবেদন / ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদ প্রার্থী কে এই মনির

ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদ প্রার্থী কে এই মনির

এস.এম ইকবাল : সাংগঠনিক দক্ষতা, বাচনভঙ্গি, রাজনৈতিক কৌশল ও সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ এ চারটি বৈশিষ্ট্যের কারণে ফরিদগঞ্জের রাজনীতিতে অত্যন্ত পরিচিত মুখ আকবর হোসেন মনির। আসন্ন ফরিদগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসাবে যে সকল সম্ভাব্য প্রার্থীরা আলোচনায় রয়েছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন তিনি। চলুন যেনে নেই আকবর হোসেন মনিরের রাজনীতির ময়দানে বেড়ে ওঠার অজানা তথ্য।

যেভাবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি : শৈশবের ডানপিঠে মনির তখন ফরিদগঞ্জ পৌরসভা এলাকাধীন চরবসন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। একদিন সকালে ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে আওয়ামী লীগের সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য গ্রাম থেকে একটি মিছিল বের হয়। আকবর হোসেন মনির ওই মিছিলের সাথে ফরিদগঞ্জ বাজারে চলে যান। অবুঝ বয়সে সেই যে পথচলা শুরু আর থামলেন না। নানা ঘাত প্রতিঘাত পেরিয়ে এ মর্হুতে ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সম্ভ্যাবনাময়ী নেতাদের মধ্যে অন্যতম আকবর হোসেন মনির।

দলীয় দায়িত্ব পালন : কিশোর বয়স থেকেই ছাত্রলীগের বার্তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত শুরু করেন আকবর হোসেন মনির। তিনি ২০০০ সালে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়া অবস্থায় ছাত্রলীগের ক্লাস কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৪ সালে ফরিদগঞ্জ সরকারি বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগের সহ সভাপতি নির্বাচিত হন। এর আগে তৎকালীন ১৩নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। ২০০৭ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ফরিদগঞ্জ পৌরসভা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১০ সালে উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, ২০১২ সালে জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে উপজেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

রাজনীতির ময়দানে মামলা-হামলা : ২০০৪ সালের ২১ আগষ্টে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী, বর্তমান প্রধনামন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে ফরিদগঞ্জ বাজারে প্রতিবাদ মিছিল করতে গিয়ে বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সহ জামাত-বিএনপির হামলার শিকার হন আকবর হোসেন মনির।
এছাড়া, ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর পুলিশের সাথে জামাত-বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ত্রি-মুখী সংর্ঘষের ঘটনায় বিএনপির দায়ের করা দুটি হত্যা মামলায় ১৯৭ জন আসামীর মধ্যে তাকে ৮ নম্বর আসামী করা হয়।
এদিকে, সাবেক সংসদ সদস্যের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দলীয় গ্রপিং এ ৩টি মামলার আসামী হয়ে কারাবরণ করেন তিনি।
জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন : আকবর হোসেন মনির দায়িত্ব পালনে একনিষ্ঠ, দক্ষ ও সৎ। তিনি ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরিচালনায় কেন্দ্র কমিটির যুগ্ম আহবায়ক, ২০১৪ সালে জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চরবসন্ত কেন্দ্র কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০১৫ সালে পৌর নির্বাচনে কেন্দ্র কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন। ওই নির্বাচনে চরবসন্ত কেন্দ্র থেকে নৌকার প্রাপ্ত ভোট ছিলো ১ হাজার ৪০, ধানের শীষ ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পায় ৯০০ ভোট। এছাড়া ওই নির্বাচনে প্রার্থীর সহকারী চিপ এজেন্টের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী কেন্দ্র কমিটির যুগ্ম আহায়ক ছিলেন। ২০১৯ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন তিনি । নির্বাচনে চরবসন্ত কেন্দ্রে নৌকা পায় ১৬১৫ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী পায় ২৬ ভোট।

আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে পরিবারের অন্য সদস্যদের সম্পৃক্ততা : মো. আকবর হোসেন মনির ফরিদগঞ্জ পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের চরবসন্ত গ্রামে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার ডাক নাম মনির হোসেন। মধ্যবৃত্ত পরিবারের সন্তান আকবর হোসেন মনির তিন ভাই এক বোনের মধ্যে বড়। আকবর হোসেন মনিরের পিতা আব্দুল মান্নান বেপারী ১৯৮৭-৮৮ সালে ১৩নং ফরিদগঞ্জ উত্তর ইউনিয়ন যুবলীগের প্রচার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তিনি জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রবাসে পাড়ি জমান। বর্তমানে তিনি পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য।

এছাড়া তার নানা বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম ছমিদ কাজী। যিনি জীবনের সকল ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর একজন সৈনিক হিসাবে সকলের কাছে পরিচিত ছিলেন। তিনি তার জীবনে চলার পথে হাটে-বাজারে যেখানে যেতেনে তার হাতে সব সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সম্বলিত একপি পেষ্টুন হাতে থাকতো। ফরিদগঞ্জে আওয়ামী লীগের নিবেদিত প্রাণ কর্মী হিসাবে তিনি বেশ পরিচিত ছিলেন।

সামাজিক সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ততা : আকবর হোসেন মনির ফরিদগঞ্জ ওয়েল ফেয়ার এসোসিয়েশনের ও বটতলী স্পটিং ক্লাবের সভাপতি, বটতলী বাজার কেন্দ্রিয় ঈদগা ময়দানের উপদেষ্টা, বেপারী জামে মসজিদ কমিটির সদস্য হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি ফরিদগঞ্জ পৌরসভা কমিউনিটি পুলিশিং এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

আদর্শিক রাজনীতি ও পৌর নির্বাচন নিয়ে মনিরের বক্তব্য : স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে বিশাসী হয়ে তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এবং গণতন্ত্রের রুপকার উন্নয়ন ও গণতন্ত্রেও মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ক্ষুধা, দারিদ্র, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ডিজিটাল ও স্বনির্ভও বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আকবর হোসেন মনির।

তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, জাতির জনকের কন্যা মানননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে আমার অভিভাবক সাবেক গণপরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মরহুম অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলামের সুযোগ্য সন্তান, ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। আমি দলের একজন কর্মী হিসেবে অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান ভাইয়ের দেখানো পথে হেঁটে যেতে চাই। আমার কর্মে, চিন্তা-চেতনায়, শয়নে-স্বপনে, জাগরনে-বিচরনে আদর্শবান নেতা অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান ভাই। আমি ফরিদগঞ্জের মানুষের কল্যাণের স্বার্থে আমার অভিভাবক অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান ভাইয়ের আর্দশকে বাস্তবায়ন করতে চাই। তিনি নেতা-কর্মী গড়ার কারিগর। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার একজন অগ্রগামী সৈনিক। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজ তাঁর নেতৃত্ব এবং নির্দেশনায় সমাপ্ত হবে, ইনশাআল্লাহ।’

এছাড়া ফরিদগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন নিয়ে প্রতিদ্বন্ধীতার জন্য তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, চাঁদপুরের কৃতি সন্তান সফল শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, চাঁদপুর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সফল সভাপতি ও ফরিদগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাহিদুল ইসলাম রোমান, জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, ফরিদগঞ্জ পৌরবাসীর সমর্থন ও সহযোগিতা কামনা করেন।

Facebook Comments

Check Also

হাজীগঞ্জে চুরি হওয়া দুই মোটরসাইকেল সহ চোর গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার : কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থেকে হোন্ডা চোর মনির হোসেনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে হাজীগঞ্জ …

Shares
vv