ব্রেকিং নিউজঃ
Home / তথ্যপ্রযুক্তি / ফরিদগঞ্জে ডিশ লাইন বিচ্ছিন্নের ঘটনায় এমপি’র বাড়ীসহ টিভি দেখা থেকে বঞ্চিত গ্রাহক
ফরিদগঞ্জের ওয়াপদা খাল পাড় এলাকায় মানছুরা ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর ১ হাজার মিটার তার ১'শ বিশ টুকরা করে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

ফরিদগঞ্জে ডিশ লাইন বিচ্ছিন্নের ঘটনায় এমপি’র বাড়ীসহ টিভি দেখা থেকে বঞ্চিত গ্রাহক

স্টাফ রিপোর্টার : চাঁদপুরের মহামায়া শাফি মাফি ক্যাবল নেটওয়ার্কের ফরিদগঞ্জ উপজেলার বেশ কয়েকটি স্থানে মানছুরা ক্যাবল নেটওয়ার্কের ফাইবার অপটিক তার কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে লাইন বিচ্ছিন্নের ঘটনায় বেসরকারী টেলিভিশন দেখা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন ফরিদগঞ্জ উপজেলার মুন্সিরহাট, একতা বাজার, রুপসা বাজার, চান্দ্রা বাজার ও ইসলামপুর এলাকার গ্রাহকগন। এর মধ্যে রয়েছে চাঁদপুর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সাংবাদিক শফিকুর রহমানের বাড়ীও।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শাফি মাফি ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশী সময় ধরে বাংলাদেশ সরকারের নিয়মনীতি অনুসরন করে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলায় নিজস্ব গ্রাহক ও ফিড অপারেটরদের মাধ্যমে সুনামের সাথে ক্যাবল টিভি সেবা প্রদান করে আসছে।

এর মধ্যে চাঁদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আলহাজ্ব ডা: দীপু মনি, চাঁদপুর-৪ আসনের মাননীয় সাংসদ শফিকুর রহমান, বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী এবং সাবেক সংসদ সদস্যের বাড়ীসহ বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে এ অপারেটর সেবা প্রদান করে আসছে।

গত ৬ মাস পূর্বে পার্শ্ববর্তী মেঘনা ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর স্বত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর তার ব্যবসায়ীক এলাকা অতিক্রম করে শাফি মাফি ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক সহ চাঁদপুর জেলার বিভিন্ন বৈধ ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ীর এলাকায় অবৈধভাবে ফিড ও গ্রাহক সংযোগ প্রদান করে চাঁদপুর সদর ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বৈধ ব্যবসায়ীদের নানাভাবে হয়রানি ও ক্ষতিসাধন করে আসছে। এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলার ক্যাবল অপারেটর্স এসোসিয়েশন (কোয়াব) ও শাফি মাফি ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্কের পক্ষ থেকে চাঁদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, এনএসআই, বাংলাদেশ টেলিভিশন এর মহাপরিচালক, বিটিভি কন্ট্রোলার/ লাইসেন্স ম্যানেজার, চাঁদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ, বিভিন্ন পে-চ্যানেল পরিবেশক বরাবর লিখিতভাবে অবগত করা হয় এবং বিষয়টি চাঁদপুরের স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়।

পরবর্তীতে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সি প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে এ ধরনের কর্মকান্ড থেকে বিরত থাকার জন্য মেঘনা ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে দেন।

কিন্তু প্রশাসনের উপরোক্ত সতর্ককে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখন পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে গত কয়েকমাস আগে টোরা মুন্সিরহাট ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর কয়েকজন মানছুরা ক্যাবল নেটওয়ার্কের ডিশ লাইন কেটে ফেলায় প্রমাণিত হওয়ার পর টোরা মুন্সিরহাট বাজার ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতির উপস্থিতিতে শালিসি বৈঠকে ১২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় মুন্সিরহাট ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর পরিচালক মোঃ বাচ্চুকে।

এ ঘটনার পর গত বছরের ডিসেম্বর মাসের ১৯ তারিখে অন্যান্য ৩টি স্থানে ডিশ লাইনের তার কেটে ফেলেন কে বা কাহারা। এ ঘটনায় গত ২০/১২/২০১৯ইং তারিখে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়। জিডি নং- ১০৪৩। এক মাসের মাথায় গত ১৪ জানুয়ারী সন্ধ্যার পর মানছুরা ক্যাবল নেটওয়ার্কের কর্মচারী মোঃ ইব্রাহিমকে রানা নামের এক ব্যাক্তি ফোন করে জানতে চায় তিনি কোথায় আছেন। প্রশ্নের জবাবে ইব্রাহিম বাজারে আছেন বলে জানালে কিছুক্ষণ পর মেঘনা ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর স্বত্বাধিকারী মোঃ জাহাঙ্গীর সহ বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল নিয়ে ইব্রাহিমের সাথে দেখা করেন।

এসময় ১ দিনের মধ্যে তাদের লাইন খুলে নিতে বলেন। তা না হলে গুম ও প্রাণনাশের হুমকী দিয়ে চলে যান জাহাঙ্গীরসহ তার দল। এদিন রাতেই রাতের আধারে ওয়াপদার খাল পাড় এলাকার ১ হাজার মিটার ফাইবার ১’শ বিশ টুকরা করে রেখে যায়। এমনটাই জানালেন মানছুরা ক্যাবল নেটওয়ার্কের কর্মচারী মোঃ ইব্রাহিম।

এর পরের দিন অর্থাৎ ১৫ জানুয়ারী সকালে ডিশ লাইন সচল না থাকায় লাইন চেক করতে গিয়ে দেখে উপরোক্ত এ অবস্থা। তিনি সাথে সাথে তার মালিক মোঃ হাসানকে জানালে তিনি বাজার ব্যবসায়ী কমিটির সভাপতিকে অবগত করেন। সেই সাথে ৪নং সুবিদপুর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ মহসিন ও ৫নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোঃ সেলিম মজুমদারকে জানালে চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউপি সদস্য সেলিম মজুমদার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান এর দু’টি মোবাইল নাম্বারে একাধিকবার চেষ্টা করেও না পেয়ে ইউপি সদস্য সেলিম মজুমদারের সাথে কথা হলে উক্ত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এ প্রতিবেদককে বলেন, আমি চেয়ারম্যান সাহেবের অনুমতিক্রমে ডিশ লাইনের তার গুলো কেটে ফেলার স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি। তার গুলো টুকরো টুকরো করে ফেলেছে কে বা কাহারা। এ ঘটনায় মানছুরা ক্যাবল নেটওয়ার্কের পরিচালক হাসানকে ইউনিয়ন পরিষদে একটি লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। কে এমন ঘটনার সাথে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হবে।

এ ঘটনার বিষয়ে শাফি মাফি ক্যাবল টিভি নেটওয়ার্ক এর পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম বাবলু বলেন, যে স্থানে এ ঘটনা ঘটেছে ঐ স্থানে এর পূর্বে আরো কয়েকবার এমন ঘটনা ঘটেছে এবং পার্শ্ববর্তী টোরা মুন্সিরহাট ক্যাবল নেটওয়ার্ক এর স্বত্বাধিকারীকে শালিসি বৈঠকের মাধ্যমে জরিমানা করা হয়।

১৪ জানুয়ারীর ঘটনায় আমাদের লাইন বিচ্ছিন্ন করে দেয়ার পর তাদের লাইন সচল থাকতে দেখা যায়। অথচ আমাদের লাইনে চাঁদপুর-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য সাংবাদিক শফিকুর রহমানের বাড়ীতেও সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।

এদের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ। জানিয়েছেন তীব্র নিন্দা।

বৃহষ্পতিবার বিকেল ৪টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিচ্ছিন্নকৃত লাইন পুণ সংযোগের কাজ চলছে।

Facebook Comments

Check Also

বিশ্বজুড়ে ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ডাউন

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ব্যবহারে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন ব্যবহারকারীরা। বিশ্বজুড়ে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার পর থেকে …

vv