ব্রেকিং নিউজঃ
Home / শীর্ষ / ফরিদগঞ্জে কথা বলার অপরাধে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে শিক্ষার্থী
ছবি: প্রতীকী

ফরিদগঞ্জে কথা বলার অপরাধে শিক্ষকের বেত্রাঘাতে অজ্ঞান হয়ে হাসপাতালে শিক্ষার্থী

ক্লাস চলাকালে স্কুলের সহপাঠিদের কথা বলার অপরাধে ক্লাসে এনে পিছনের বেঞ্চে দাড় করিয়ে মোস্তাকের লাঠি দিয়ে (এক ধরনের গাছ) পিটিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়নি শ্রেণি শিক্ষক । দুপুরের তীব্র রোদে আধ ঘন্টা দাড় করিয়ে নিজের জেদ মেটালেন ফরিদগঞ্জ এ আর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের তছলিম মিয়া নামে এক খন্ডকালিন শিক্ষক।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তার সহপাঠিরা তাকে তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। সেখান থেকে তাকে ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে চিকিৎসা দেয়। এ ঘটনার পর ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছে বলে প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন।

শিক্ষার্থীর মা রহিমা বেগম জানায়, উপজেলা সদরের গাজী বাড়ির সেলিম গাজীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মম (১৪) ফরিদগঞ্জ এ আর মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার দুপুরে বিদ্যালয়ের ক্লাস চলকালিন সে পড়ার বিষয় নিয়ে সহপাঠিদের সাথে কথা বলছিল। বিষয়টি ওই সময়ের শ্রেণি শিক্ষক তছলিম মিয়া নজরে পড়ে। তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ক্লাসের শিক্ষার্থীদের দিয়ে মোস্তাকের একটি লাঠি নিয়ে আসে স্কুলের বাইরে থেকে। পরে সেটি দিয়ে মমকে বেদম মারধর করে এবং স্কুলের মাঠে তীব্র রোদের মধ্যে আধ ঘন্টা দাড় করিয়ে রাখে। এক পর্যায়ে মম শারিরিক আঘাত ও রোদ্রের তীব্রতায় অসুস্থ হয়ে পড়লেও ওই শিক্ষক তাকে সেবা করার জন্য শিক্ষার্থীদের নিষেধ করে। পরে এক পর্যায়ে মম গুরুতর অসুস্থ হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লে সহপাঠিরা তাকে দ্রুত তার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়।

সংবাদ পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল মমকে দেখতে তার বাড়ি গিয়ে অবস্থা বেগতিক দেখে তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। এদিকে পরবর্তীতে বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি সভায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে প্রধান শিক্ষক দোষী শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে বিদ্যালয়ের আরেকজন সহকারি শিক্ষককে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি করার জন্য দোষারূপ করেন বলে জানা গেছে।

এদিকে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে ও রোদে দাড় করিয়ে রাখার কথা স্বীকার করে প্রধান শিক্ষক রফিকুল আমিন কাজল জানান, তিনি এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিবেন। তবে তাৎক্ষনিক স্কুলে গিয়ে দেখেন ওই শিক্ষক পালিয়ে গেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক তছলিম মিয়াকে মুঠো ফোনে কল করলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।

ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডাঃ আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, হাসপাতালে ভর্তি হওয়া জান্নাতুল ফেরদৌস মম আঘাত জনিত ইনজুরি ছিল। এছাড়া সে মানসিক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়েছিল।

এদিকে অভিভাবকরা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষক তছলিম মিয়া ইতিপুর্বে গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নৈতিক স্খলন এর কারণে চাকুরি হারান। পরে তাকে ফরিদগঞ্জ এ আর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে খন্ডকালিন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয় কর্তৃপক্ষ।

এনিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ রয়েছে।

প্রতিবেদন: আনিছুর রহমান সুজন

Facebook Comments

Check Also

ফরিদগঞ্জে নিখোঁজের ৪দিন পর মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার

এস.এম ইকবাল : ফরিদগঞ্জে নিখোঁজ হওয়ার ৪দিন পর নুরুল হুদা (৬০) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির …

vv