ব্রেকিং নিউজঃ
Home / প্রিয় অনুসন্ধান / ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

ফরিদগঞ্জের পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম

এস. এম ইকবাল : চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৭ নং পাইকপাড়া উত্তর ইউনিয়নে কর্মসৃজন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে পড়েছে ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বার- ইউপি সচিব ও কতিপয় কর্মকর্তারা। কর্মহীন শ্রমজীবিদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্প চালু করেছে সরকার। তবে বঞ্চিত অসহায়দের তালিকায় প্রভাবশালীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করারও অভিযোগ উঠেছে।

উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মাঠে কাজ না থাকায় কর্মহীন প্রান্তিক শ্রমজীবি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ৪০ দিনের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। এতে সপ্তাহে পাঁচদিন সরকারী ভাবে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে মাটি কাটার কথা। যা গত ১৭ এপ্রিল ২০২১ তারিখে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ৯ জুন কাজ শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে নির্দেশনা রয়েছে। ইউনিয়নে ৭ টি প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ জন তালিকাভুক্ত শ্রমিকের অনুকুলে ২৬ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা বরাদ্দ হয়েছে। ৪০ দিন কাজের বিনিময়ে প্রত্যেক শ্রমিক ৮ হাজার টাকা করে পারিশ্রমিক পাওয়ার কথা।

প্রকল্প চলাকালীন ২৭ এপ্রিল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়নে ৭টি প্রকল্পের মধ্যে ৬ প্রকল্পের কাজ শুরুই করেনি, তবে ১টি প্রকল্পের কাজ শুরু করলেও ৫০ জন শ্রমিকের ক্ষেত্রে মাত্র ১৮ জন শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে দেখা গেছে।

প্রকল্প এলাকায় প্রকল্পের তথ্য সংশ্লিষ্ট সাইনবোর্ড থাকার কথা থাকলেও ইউনিয়নের কোথাও প্রকল্পের কোন সাইনবোর্ড লক্ষ্য করা যায়নি। প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করতেই সেই সাইনবোর্ড সরবরাহ করা হয়নি বলে অভিযোগ অনেকের। স্থানীয়রা জানান, বিভিন্ন দপ্তর ম্যানেজ করে ইউপি চেয়ারম্যান, প্রকল্পের সভাপতি, সচিব ও সদস্যরা প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করতেই এভাবে খাতা কলমে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিতি দেখিয়ে বাস্তবে কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করাচ্ছেন।

প্রকল্পের সভাপতিরা জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশ মোতাবেক তারা প্রকল্পের কাজ করাচ্ছেন। প্রকল্পে কতজন শ্রমিক কাজ করার কথা তারা এর কিছুই জানেন না।

আরও পড়ুন… শাহরাস্তিতে স্বাস্থ্যবিধি না মানায় ১১ জনকে অর্থদণ্ড

প্রকল্পে শ্রমিকের উপস্থিতি কমের কথা স্বীকার করে ইউপি চেয়ারম্যান আলী আক্কাছ ভূঁইয়া বলেন, কয়েকজন শ্রমিক কম থাকতে পারে, তাছাড়া ইউপি সদস্য ও অফিসসহ নানাবিধ খরচের জন্য শ্রমিক এমনিতেই কম রাখতে হয় এবং সঠিক সময়ে কাজ না করার বিষয়ে তিনি, বলেন, মাঠে বোরো ফসল থাকায় মাটি ও শ্রমিক সংকট রয়েছে বলে জানান।
এদিকে তালিকা ভূক্ত শ্রমিকের বিষয়ে তিনি কোন উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিউলি হরি বলেন, উল্লেখিত অনিয়মের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, অভিযোগের আলোকে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে তদন্ত করার জন্য চিঠি দিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments

Check Also

চাঁদপুরে শুক্রবার ১১৫ নমুনায় ৩ জনের করোনা শনাক্ত

মাসুদ হোসেন : চাঁদপুরে নতুন করে ৩ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। সনাক্তের হার ৩.১৫%। শুক্রবার …

Shares
vv